মধ্যযুগ হতে আধুনিক যুগে উত্তরণ ।

                  ইউরোপের ইতিহাস (১৪৫৩১৮১৫)

 ).  প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলতে কি বুঝ ?

=ইতিহাস হল মানুষের অতীত কর্মকাণ্ডের বিবরণ । আর এসকল কর্মকান্ড সময়ের গণ্ডিতে বাধা।উৎস উৎসএর ভিত্তিতে এ সময় কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

ক)প্রাগৈতিহাসিক যুগ।

খ) সুপ্ত -ঐতিহাসিক যুগ।

গ) ঐতিহাসিক যুগ।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলতে কী বুঝি তার নিচে দেওয়া হল:—

 ইতিহাস যে অংশের  উপর কোন লিখিত বিবরণ নেই বা পাওয়া যায় না, সে সময়কালকে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলে। লক্ষ লক্ষ বছর মানুষ কাটিয়ে দিয়েছে কোন লিখিত বিবরণ ছাড়াই এ যুগের ইতিহাস রচনার জন্য জীবাশ্ম ,হাড়গোড়, অস্ত্রশস্ত্র ,আসবারপত্র,রূপকথা,কিচ্ছা কাহিনী, অতিকথন, পালা ,গান, নকশা প্রভৃতি ব্যবহার করা হয় ।

2) সুপ্তঐতিহাসিক যুগ বলতে কী বোঝো

==ইতিহাস হল মানুষের অতীত কর্মকাণ্ডের বিবরণ । আর এসকল কর্মকান্ড সময়ের গণ্ডিতে বাধা।উৎস উৎসএর ভিত্তিতে এ সময় কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

ক)প্রাগৈতিহাসিক যুগ।

খ) সুপ্ত -ঐতিহাসিক যুগ।

গ) ঐতিহাসিক যুগ।

সুপ্ত -ঐতিহাসিক  যুগ বলতে কী বুঝি তার নিচে দেওয়া হল:—

মানব ইতিহাসের যে সময় এর উপর লিখিত উৎস আছে বলে মনে করা হয়, কিন্তু সেগুলোর পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি সে সময়কালকে সুপ্ত -ঐতিহাসিক  যুগ বলে। যেমন মিশরীয় সভ্যতার হায়ারোগ্লিফিক লিপিমালা,সুমেরীয় সভ্যতার কিউনিফর্ম লিপিমালা, এবং সিন্ধু সভ্যতার সিল লিপিমালা উল্লেখযোগ্য ।এগুলো এখনো পাঠোদ্ধার করতে পারেনি, তবে চেষ্টা চলছে, এ জন্য এই যুগটা কে সুপ্ত -ঐতিহাসিক যুগ  বলে ।

3) ঐতিহাসিক যুগ বলতে কী বোঝো ? এবং ঐতিহাসিক যুগকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়

মানব ইতিহাসের যে সময়ের উপর অলিখিত উপাত্তের সাথে সাথে লিখিত বিবরণ পাওয়া যায় তাকে ঐতিহাসিক যুগ বলে। লিখিত এরমধ্যে অতি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, শিলালিপি, তাম্রলিপি ,থেকে শুরু করে সকল সন্ধি, চুক্তি দিনলীপি. মুদ্রিত ,ও খবরের কাগজ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও রয়েছে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যম । 

আবার ঐতিহাসিক যুগকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় ।

 যথা :

১)প্রাচীন যুগ।

২) মধ্যযুগ ।

৩)আধুনিক যুগ ।

#প্রাচীন যুগ: ইউরোপীয় ইতিহাসে ভিত্তিতে অতি প্রাচীনকাল থেকে ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে প্রাচীন যুগ বলে।

এ দীর্ঘ সময়ের শেষ আট-দশ হাজার বছরে মানুষ মানবসভ্যতার স্তরে উন্নতি হয় ।এ সময়ে মেসোপটেমিয়া ,মিশ,র সিন্দু, চীন, পারস্য ,মায়া, গ্রিক,রোমান প্রভৃতি সভ্যতা গড়ে ওঠে ।বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিস ও রোমানিয়ায় মানবতাবাদী আদর্শের চরম ও পরম উৎকর্ষ সাধিত হয় ঞ676 সালে জার্মান জাতির হাতে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের মাধ্যমে এ  দ্বারা স্থিমিত হয়ে পড়ে, এবং কালো স্মৃতি থেকে মুছে যায় ।

২)মধ্যযুগ: ৪৭৬ সাল থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত সময়কে ইউরোপের ইতিহাসে মধ্যযুগ বলা হয় ।৪৭৬ সালে বর্বর জার্মান জাতির হাতে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী রুমের পতন হয় । আর ১৪৫৩ সালে অটোমান তুর্কিদের হাতে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের বা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের পতন পর্যন্ত মধ্যযুগ হিসেবে পরিচিত ।এ সময়ে গ্রিক রোমানদের ইহজাগতিক চিন্তা-চেতনার স্থলে পারোলৌকিক চিন্তা-চেতনা স্থান পায় ।আদিপাপ, শয়তানের প্ররোচনা, অনন্ত সুখের আগার, স্বর্গ প্রাপ্তির নিমিত্ত উৎকণ্ঠা, চির দুঃখের জায়গার নরক হতে পরিত্রাণের উপায় উদ্ভাবন, ও একচেটিয়া রাজতন্ত্রের ক্ষমতা লাভ ইত্যাদি ছিল মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য । শিক্ষা বলতে শুধু ধর্ম জ্ঞান ও  ধর্ম শিক্ষাকে বোঝানো হতো্ । মানুষ ধর্ম কিংবা রাজনীতি কোনোটাতেই স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারত না ,এজন্যই এই যুগকে বলা হয় বিশ্বাসের যুগ এবং অন্ধকার যুগ বলা হয়ে থাকে ।

)আধুনিক যুগ: কোন কিছু ভাল ভাবে জেনেই, যুক্তিতর্কের দ্বারা বুঝে , যা ভালো  তা গ্রহণ করা, এবং অসত্য অযুক্তিকে  বর্জন করায় নামেই আধুনিকতা। ইউরোপের ইতিহাসে ১৪৫৩  সালের পরবর্তী সময়কে আধুনিক যুগ বলা হয় ।১৪৫৩ সালে তুর্কি সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানীকনস্টান্টিনোপল দখল করে নেন ।এ সময় ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির, প্রধান কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল ।তুর্কিদের হাতে এটি পতন ঘটলে এখানকার শিল্পী-সাহিত্যিক, ও পণ্ডিতেরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ইতালিতে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে।তারা ইতালির বিভিন্ন স্কুল ,বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করে ।তাদের প্রচেষ্টা ইউরোপীয়রা মানবতাবাদী গ্রিক ও রোমান সভ্যতা ও সংস্কৃতির সম্পর্কে আসে নতুন করে জ্ঞান লাভ করে এবং রেনেসাঁর নবজাগরণের সৃষ্টি করে ।এ নবজাগরন থেকে শুরু হলো ইউরোপের আধুনিক যুগ ।রেনেসাঁসের প্রভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়। শুরু হলো ধর্ম সংস্কার আন্দোলন ,ভৌগলিক আবিষ্কার, নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, শিল্প বিপ্লব ,ফরাসি বিপ্লব,  রুশ বিপ্লব ,নানা প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার যেমন- বাষ্পীয় শক্তি, কয়লা, পেট্রোল ,জলবিদ্যুৎ শক্তি, আণবিক শক্তি, ইত্যাদি অভাবনীয় উন্নতি ও প্রগতির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় ।

পুরাতন সামন্তবাদী আর্থ-সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গড়ে ওঠে ধনবাদী আর্থ-সমাজব্যবস্থা ।রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা স্থলে গড়ে ওঠে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ধারণা ।সেই সাথে মানুষ প্রকৃতিকে জয় করতে থাকে ।মানুষ হয়ে ওঠে মোয়া আত্মপ্রত্যয়ী, আর এভাবে আধুনিক ইতিহাসের আধুনিক যুগের সূচনা হয়। 

৫)উত্তর আধুনিক যুগ :দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কাল তথা ১৪৪৫ সালের পরবর্তী সময়কে অনেকে উত্তর আধুনিক যুগ বলে অভিহিত করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে মানুষ তার সময় মেধা-মনন মহাবিশ্ব পরিক্রমায় নিয়োজিত করতে থাকেন ।১৯৬২ সালে ইউরি গ্যাগারিনের মহাকাশ ভ্রমণ, ১৯৬৯ সালে মাইকেল কলিন্স, এডউইন অলড্রিন ও নীল আর্মস্ট্রং এর চাঁদে অবতরণ ,মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন, কম্পিউটার,ইন্টারনেট ,মোবাইল, ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য প্রবাহের গতি আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্যকে পাল্টিয়ে দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটিয়ে দিচ্ছে।বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসছে। ফলে বিশ্ব আজ বিশ্ব পল্লী (Global Village) বা বিশ্বগ্রামের রূপান্তরিত হয়েছে ।

এক যুগ থেকে অন্য যুগের পরিবর্তন ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট সময়, তারিখ, মাস বা বছরের নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এক যুগ থেকে অন্য যুগে রূপান্তরের জন্য কিছু সময়ের প্রয়োজন। আর এ সময়কে কান্তি কাল বা যুগসন্ধিক্ষণ, যুগ পরিবর্তনের কাল বলা হয়ে থাকে ।প্রতিটি যুগসন্ধিক্ষণে পূর্ববর্তী যুগের বৈশিষ্ট্য গুলো বিলীন হতে থাকে ,এবং আগত যুগের বৈশিষ্ট্য অঙ্কুরিত বৃদ্ধি ও বিকাশে হতে থাকে ।এভাবে চলতে চলতে একসময় পূর্ব যুগের বৈশিষ্ট্য গুলো হয়ে পড়ে বিলীন ,এবং পরবর্তী যুগের বৈশিষ্ট্য গুলো হয়ে পড়ে উদ্ভাসিত, তখন নতুন  যুগের নতুন নামকরণ করা হয় ।

) যুগসন্ধিক্ষণ বলতে কি বুঝায় ?

= একটি যুগের সমাপ্তি এবং আরেকটি যুগের সূচনা এর দুই এর মধ্যবর্তী সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ ।ঊষা বা গোধূলি হল দিন রাত্রির সন্ধিক্ষণ ,কৈশোর থেকে যৌবনের পদার্পণ হলো  এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সময় হলো বয়সন্ধিকাল ।তেমনি মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মধ্যবর্তী সময় হলো রেনেসাঁস । তাই রেনেসাঁস হলো মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের যুগসন্ধিক্ষণ ।রেনেসাঁ যুগে মধ্যযুগীয় বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাধান্য হারিয়েছে এবং আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্য গুলো রূপ পরিগ্রহণ করেছে ।

প্রসঙ্গে Thatcher এবংSchwill তাদের A General History গ্রন্থে বলেন:”-Tt was during the transition period of The Renaissance(1300-1500) that the distinctively modern tendencies rooted in civilization and it is by the end of the Renaissance , and therefore , at approximated, the year 1500 that we may fix the beginning of the modern period.”

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

87 + = 94