রোমান সভ্যতার উত্থান ও পতন সম্পর্কে আলোচনা করা ?

রোমান সভ্যতা:

রোমান সভ্যতা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সভ্যতার সংস্কৃতির মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করে ।প্রকৃতপক্ষে রোমান সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারাবাহিক ইতিহাস হলো মধ্যযুগের ইউরোপের ইতিহাস।প্রাচীন মেসোপটেমিয়া ,সুমেরীয়, মিশরীয় ,চৈনিক, ভারতীয় গ্রিক সভ্যতার অবসানের পর রোমান সভ্যতার উত্থান ঘটে ।আবার রোমান সভ্যতার পতনের পটভূমিতে উত্থান ঘটে আধুনিক পাশ্চাত্যের ।

রোমান সাম্রাজ্যের উত্থান :

খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী  স্থাপিত হয়। এ নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমান ও রমুলাস নামের দুই ব্যক্তি ।প্রথমদিকে এটা ছিল একটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ।ক্রমে ক্রমে গ্রিক সভ্যতার পতন ঘটলে এ রোমানরা সমগ্র ইতালি ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে এক বিশাল রোমান সাম্রাজ্য গড়ে তোলে ।তারপরে রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় সমগ্র ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ।এ বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের সুবিধার জন্য রোমান সম্রাট কন্সটাটাইন ৩০০  সালের সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী বাইজেন্টাইন নামক স্থানে আর একটি রাজধানী স্থাপন করেন ।প্রাচীনকালে এটি ছিল একটি গ্রিক উপনিবেশ। ৩৩০ সালের সম্রাট কন্সটাটাইনের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় কনস্টান্টিনোপল ।পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী কে কেন্দ্র করে পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ,কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল এশিয়া মাইনর এবং পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল শাসিত হতো ।

রোমান সাম্রাজ্যের পতন ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে :

খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকের মাঝামাঝি সময়ে গথ,ভ্যান্ডাল প্রভৃতি বর্বর জার্মান জাতির বারবার আক্রমণে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিমাংশ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঞ্চলিক রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে (৪৭৬ সালে)।বর্বর জাতিসমূহের আক্রমণ, দখল, ধ্বংসলীলা, পশ্চিম ইউরোপে সীমাবদ্ধ ছিল।কনস্টান্টিনোপল কেন্দ্রিক পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য তখনও অক্ষত থেকে যায়।এ সময় থেকেই এ অঞ্চল পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য নামে পরিচিত লাভ করে ।ষষ্ঠ শতাব্দীতে আরবীয় সভ্যতার উত্থান ও বিকাশের পটভূমিতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের হাতছাড়া হয়ে যায় ।

পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য ৮০০ খ্রিষ্টাব্দ :

পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য পতনের পরবর্তী প্রায় ৩০০ বছর ধরে জার্মান জাতির বিভিন্ন শাখার অধীনে ওহা বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ আঞ্চলিক রাজ্য গুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছিল নিয়মিত ব্যাপার। অষ্টম শতাব্দীর শেষ দিকে ফ্রাংক  নামে জার্মান জাতির একটি শাখা প্রবলভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।ফ্রাংকরা জার্মানি ও ফ্রান্সের বিস্তত অঞ্চল দখল করে পুনরায় রোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে । উক্ত বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন তিনি রোমান সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত হন তিনি সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে দেন তিনি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে মহান চার্লস বা শালেমান ।৮০০ সালে তিনি রোমান সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত হন।তিনি সমগ্র ইউরোপে খ্রিস্টান ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্মকে আশ্রয় করে তিনি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।তার রাজ্য ছিল খ্রিস্টান ধর্মভিত্তিক ।এজন্য তার সাম্রাজ্যের নামকরণ হয়ে যায় পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য। দশম শতাব্দীতে এসেও রোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে শুরু করে ।ফ্রান্স একটি স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়। ইতালি ও জার্মানির অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে।মূলত এ রাজ্যগুলো ছিল সামন্ত রাজ্য। সামন্ত রাজন্যবর্গ পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে মহান প্রভুর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতেন মাত্র। এভাবেই নামেমাত্র পশ্চিম ইউরোপে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য টিকে থাকে। আধুনিক যুগের প্রারম্ভে এরূপ ছিল পশ্চিম ইউরোপের রাজনৈতিক চিত্র ।

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

46 + = 48