ভৌগলিক আবিষ্কার

রেনেসাঁস এর প্রভাবে প্রমাণিত হয় ইউরোপের মানুষের মনে অনুসন্ধিৎসা ও আত্মবিশ্বাসের জম্ম হয় । অজানাকে জানার জন্য অচেনাকে চেনার জন্য মানুষ আবেগওকুল হয়ে উঠে । এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয়রা নতুন নতুন জলপথ ভূ-খন্ড আবিষ্কার করে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে।ভৌগলিক আবিষ্কার ইউরোপের সম্মুখে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয় । 

ভৌগোলিক আবিষ্কারের কারণ :

ক) বাণিজ্যিক কারণ : ইউরোপকে অনেক প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য অন্য মহাদেশের উপর প্রাচীনকাল থেকেই দ্বারস্থ হতে হতো । সিল্ক ,স্বর্ণ-রৌপ্য মূল্যবান পাথর, চিনি ,দারুচিনি, আদা, লবঙ্গ ইত্যাদির জন্য ইউরোপ এশিয়া তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপর নির্ভরশীল ছিল । ইউরোপ এ সব মসলা আমাদের দেশের মতো সুস্বাদু খাবার তৈরীর জন্য ব্যবহার করতো শুধু তাই নয় । তখন ইউরোপের রেফ্রিজারেটর আবিষ্কৃত হয়নি । মাংস সংরক্ষণের জন্য মসলার প্রয়োজন ছিল। তখন তার লবণ দিয়ে মাংস সংরক্ষণ করতো কিন্তু অনেকেই তা পছন্দ করত না ।

ইউরোপ পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে মশলা,  চীন থেকে সিল্ক, ভারত থেকে তুলা, ও রত্নের চাহিদার সরবরাহের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছিল । কিছু কিছু দ্রব্য পশুর পিঠে করে বিরাট পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসত ।  কিছু পণ্য আরবের ছোট জাহাজে করে লোহিত সাগরে আসত । তারপর তা স্থলপথে ভূমধ্যসাগরে আসত সেখান থেকে ওইসব আবার জাহাজে করে পাঠানো হতো । এসব পণ্য আসতে প্রায় তিন বছর সময় লাগত । যাতায়াত ও পরিবহন খরচ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারনে দ্রব্যাদির  দাম বেশি পড়তো । ১৪৫৩ সালে তুর্কিদের হাতে কনস্টান্টিনোপলের পতন হলে ভূমধ্যসাগর মুসলমানদের হাতে আসে । তুর্কিরা এসব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করলে পণ্যের দাম বেড়ে যেতে লাগলো । আবার স্থলপথে চীন ও ভারতের পেীাঁছা বিপদসংকুল ছিল । কেননা মধ্য এশিয়ার রাজনীতিক অবস্থা ছিল অস্থিতিশীল ও হাঙ্গামা পূর্ণ । এসব কারণে পুর্তগীজ ও স্পেনীয় বণিকরা চেষ্টা করতে থাকে ইউরোপীয় চাহিদার উৎসমূলে প্রবেশ করে ইতালির ও আরব বণিকদের বাদ দিয়ে তুর্কিদের নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে কিভাবে সরাসরি বাণিজ্য করা যায় । এভাবে বাণিজ্যিক কারণে ভৌগোলিক আবিষ্কারের প্রয়োজন হয় । 

খ) জাতীয় রাজাদের স্বপ্ন : 

খ্রিস্টান জগত ভেঙ্গে ইউরোপের সৃষ্টি হতে লাগলো জাতীয় রাজা । এসব রাজা যাজক ও ভূস্বামীদের তুলনা শক্তিশালী হতে চেয়েছিল । আর এর জন্য প্রয়োজন ছিল সম্পদের তথা স্বর্ণ ও রূপার মজুদ । এতে রাষ্ট্র সামরিক ও নেী শক্তিতে বলীয়ান হতে পারবে । এজন্য তারা চেয়ে ছিলেন উচ্চ মুনাফা প্রদান করতে পারে এসব নতুন নতুন বাণিজ্যপথ আবিষ্কারক হোক । পর্তুগালের রাজা যেমনটি ভারতবর্ষে আসার পথ খুঁজছিলেন এবং ভারতে আসার পথ আবিষ্কার এর পর দূরপ্রাচ্যের বাণিজ্যের উপর একচেটিয়া অধিকার কায়েম করেছিলেন।  স্পেনের রাজাস্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য আমেরিকা মহাদেশের ওপর বাণিজ্য কৃতিত্ব স্থাপন করেন । এতে ইউরোপের অন্য শক্তিশালী রাজারা বিশেষ করে ডাস, ফরাসি, এবং ইংরেজ সম্রাটরা পর্তুগীজ, স্পেনীয় একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাদের দেশের নাবিক ও ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করেন। এভাবে নতুন নতুন বাণিজ্যপথ এবং অজানা দেশ ইউরোপের নজরে আসতে থাকে ।

গ) ধর্মীয় কারণ:

ব্যবসায়ী ও রাজাদের ন্যায় আরেকটি শ্রেণি ইউরোপের বাইরে তাদের প্রভাব বিস্তারের সচেষ্ট ছিল। এরা হচ্ছেন ধর্মগুরু, পোপ,বিশপ, এবং চার্চের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য যাজকরা । খ্রিস্ট ধর্মের ছায়াতলে স্থান দেওয়ার জন্য বাইবেলের বাণী এশিয়া-আফ্রিকার ছড়িয়ে  দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল । দ্বাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত যাজকরা ক্রুসেডের যুদ্ধের সাথে মিলিত হয়ে ইসলাম থেকে নিকট প্রাচ্য কে ছিনিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল । পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরোপ খ্রিস্টান বানিয়ে সমস্ত খৃষ্টান মিশনারীরা এশিয়া ও আফ্রিকার দিকে নজর দিচ্ছিল ও মিশনারিরা একত্রিত হয়ে তাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য পৃথিবীময় বেড়াতে লাগল এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লবের সূচনা করলো । 

ঘ) ভৌগোলিক জ্ঞান :

পথ ও দেশ আবিষ্কারের ভৌগলিক জ্ঞান এক বিরাট ভূমিকা পালন করে। মধ্যযুগের শেষ ভাগ থেকে ইউরোপীয়রা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আরব বণিকদের নিকট থেকে ভৌগোলিক জ্ঞান সংগ্রহ করেছিল । এয়োদশ শতকে পোপ কয়েকজন খ্রিস্টান যাজককে মধ্য এশিয়ার মঙ্গল খানেঁদের দরবারে প্রেরণ করেন । এদের একজন মার্কোপোলো কুবলাই খাঁ  এর  দরবারে ১৭  বছর কাটিয়েছিলেন । কুবলাই  খাঁ তাকে তার দূত হিসাবে জাপান ও বার্মার সহ বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করেন ।মার্কোপোলের  নামক গ্রন্থে চীন-জাপান ও বার্মার সম্পর্কে বিবরণ আছে । কয়েকজন উৎসাহী ধর্মযাজক প্রথমে মোঙ্গলদের সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে পরে ভারতের মাদ্রাজে এবং খ্রিস্টান মিশন প্রতিষ্ঠা করে সর্বশেষে পিকিং গিয়ে বসবাস করেন । এদের পথ ধরে কয়েকজন ইতালি ব্যাবসায়ী দূরপ্রাচ্যে চলে আসেন । ফ্লোরেন্সর  এক ব্যবসায়ী “ A Merchants “ hand book “  নামক গ্রন্থে পূর্ব ও পশ্চিমের সকল বাণিজ্যিক রাস্তার ইঙ্গিত দিয়েছেন । ভেনিসের এক ব্যবসায়ী “ Secrets of the Faithful Crusuder “ নামক গ্রন্থে তার দেখা কয়েকটি এশীয় শহরের বর্ণনা দিয়েছিলেন । তাদের ভ্রমণকাহিনী পাঠ করে ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে প্রাচ্য দেশগুলোতে আসতে  আগ্রহ বাড়তে থাকে । তারই ধারাবাহিকতায় ভাস্কো-দা-গামা কলম্বাস, ম্যাগেলার,ক্যাবট, কাটিয়ার প্রভৃতি নাবিকগন   মশলা দ্বীপ তথা প্রাচ্য দেশগুলোর সাথে সমুদ্রপথে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রার বিপদ উপেক্ষা করে বারবার চেষ্টা করেন । প্রাচ্য  দেশগুলোতে আসতে গিয়ে ইউরোপিয় নাবিকরা আমেরিকা ও অন্যান্য দেশ আবিষ্কার করেন ।

ঙ) দিক নির্ণয়ের জ্ঞান ও যন্ত্রপাতি : 

এককালে বিশ্বাস করা হতো পৃথিবীটা সমতল এবং খালার মত গোলাকার । পৃথিবীর উপর যদি কেউ পরিভ্রমণ করে তবে একসময় সে কিনারা গিয়ে ভরে যাবে । মধ্যযুগের ভূগোল সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ার সাথে সাথে মানুষের এসব গল্প কাহিনী কে আর  বিশ্বাস করেছিল না । বিশেষজ্ঞরা মনে করতে থাকে যে পৃথিবী বৃত্তাকার এবং অক্ষ রেখার উপর ঘুরছে । ধ্রুবতারার উচ্চতা মাপার জন্য আরবদের আবিষ্কৃত “এ্যাস্ট্রেল্যাব “  নামক এক প্রকার যন্ত্রের সাহায্য ইউরোপীয়রা নিরক্ষরেখা থেকে কৌণিক দূরত্ব  (অক্ষাংশ ) মাপতো । তারপর আবিষ্কৃত হল দিক নির্ণয়ের যন্ত্র ( কম্পাস )  সমুদ্রের মানচিত্র, তালিকা ইত্যাদি । ফলে মহাসমুদ্রে আগের মতো নাবিকরা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তারা জানতেন মহাসমুদ্রে তাদের অবস্থান কোথায় । ভৌগোলিক জ্ঞান আর নাবিকদের যন্ত্রের উপর ভর করে ইউরোপীয় নাবিকেরা গৌরব আর ভাগ্যের  লোভে আটলান্টিকের উপর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকা উপকূলে কিংবা অজানা সমুদ্রের বুকে তরী ভাসায় ।  আর এভাবেই পৃথিবীটা ও আধুনিক জগতে প্রবেশ করল । 

ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলাফল : 

১) অর্থনৈতিক ফলাফল : 

ক) ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য খুব বিস্তার লাভ করল । পূর্বে ইউরোপের সামুদ্রিক বাণিজ্য ভূমধ্যসাগরের অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল । কিন্তু এখন সাগরীয় বাণিজ্য মহাসাগরীয় বাণিজ্যে রূপান্তরিত হলো । আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে সামুদ্রিক বাণিজ্য পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ল । 

খ) দূরপ্রাচ্য থেকে আনা মসলা ও সিল্ক   আগে শুধু ইউরোপীয় ধনীরা ব্যবহার করত । জলপথ আবিষ্কারের সরবরাহ বেড়ে যায় এবং তা সস্তা হওয়াতেই অনেকেই ব্যবহার করার সুযোগ পায় । চীন খেকে চা  আফ্রিকা থেকে কপি, পূর্বাঞ্চল থেকে সুগন্ধি ইউরোপে প্রবেশ করল ।আমেরিকা আবিষ্কৃত হওয়াতেই সেখানে এখন কিছু কৃষিজ পণ্যের সন্ধান পাওয়া গেল যা ইউরোপে পূর্বে দেখেনি । যেমন : তামাক, টমেটো, ভুট্টা, বাদাম, রাবার ইত্যাদি । এগুলো ইউরোপে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে । ইউরোপীয়রা তাদের দেশ থেকে ঘোড়া, গা,ধা শুকুর, বেড়া, হাঁস-মুরগি, লেবু, কমলা, কলা, জলপাই ইত্যাদি দিয়ে আমেরিকায় প্রচলন করে । আমেরিকায় এগুলো এক সময় অতিরিক্ত উৎপাদিত হয় আবার ইউরোপে রপ্তানি হতে থাকে । 

গ) ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের নিকট নতুন নতুন বাজার উন্মুক্ত হলো । এতে মালের চাহিদা বৃদ্ধি পেল। উৎপাদন বেড়ে গেল। ব্যক্তিগত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থলে যেীথকারবারী  প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে লাগল । বাণিজ্যিক সহযোগিতা কারী প্রতিষ্ঠান যেমন: ব্যাংক-বীমা, শেয়ারবাজার ইত্যাদির বিকাশ ঘটলো । 

ঘ) ভৌগোলিক আবিষ্কারের পূর্বে ইতালির শহর গুলোর বিশেষ করে ভেনিস, জেনোয়া  ভূমধ্যসাগর কেন্দ্রিক হওয়ায় আরব বণিকদের সঙ্গে একচেটিয়া বাণিজ্য করে খুব লাভবান হচ্ছিল । এখন সমুদ্রপথে পৃথিবীব্যাপী যোগাযোগ স্থাপিত হওয়াতেই ইতালির শহরগুলোর অবনতি ঘটতে লাগলো । ইউরোপীয় বণিকরা লিসবন ও সেভিলে ভীড় জমাতে শুরু করলো । অবশ্যই পর্তুগাল ও স্পেনের বাণিজ্যিক প্রাধান্য বেশি দিন রইল না । ক্রমে ক্রমে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ইউরোপীয় বাণিজ্য কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠিত করল । 

২) রাজনৈতিক ফলাফল: 

ভৌগলিক আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের সুযোগ করে দেয়।  অনুন্নত দেশের সহজ-সরল বাসিন্দাদের ওপর পাশবিক শক্তি দ্বারা পরাভূত করে সহজেই তাদের জায়গা দখল করে । আমেরিকায় রেড ইন্ডিয়ানদের উপর অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন ও হত্যা করে ইউরোপবাসীরা তাদের দেশ দখল করে নেয়। হিসপানিওয়ালা দ্বীপে ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় লোক সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫০,০০০ জন । ১৫৩৮ এর সংখা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫০০ তে । স্পেনীয় শাসনের ১০০ বছরে মেক্সিকোর জনসংখ্যা ২০ % কমে যায় । এভাবে অন্যান্য দেশেও ইউরোপীয় উপনিবেশ গড়ে ওঠে।  উপনিবেশিক ও বাণিজ্যিক প্রাধান্য নিয়ে অল্পকালের মধ্যেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও যুদ্ধের সৃষ্টি হল এবং কয়েক শতাব্দি পর্যন্ত তা বিরাট আকারে  পরিণত হয় । ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে নৌ বাহিনী গঠন ও নেীবল প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায় । 

৩) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল : 

ক) ভৌগোলিক আবিষ্কারের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ফল হল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ।  ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের ফলে এর শ্রেণীর বিকাশ । হয় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশের ফলে আধুনিককালের সমাজ, রাষ্ট্র ,অর্থনীতি ,চিন্তার জগৎ সর্বত্র এক বিপ্লব সৃষ্টি হয় । 

খ) ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে দাসপ্রথা ও দাস ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে । নতুন দেশের বন জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করা, রাস্তাঘাট নির্মাণ ইরামত নির্মাণ, মাটি খুঁড়ে স্বর্ণ-রেীপ্য উত্তোলন ইত্যাদি কাজের জন্য এবং আমেরিকায় আবহাওয়া কাজ করার উপযোগী শ্রমিকের প্রয়োজন ছিল। এই কাজে তারা ক্রীতদাসদের নিয়োজিত করত । ওস্টেন্ডিজ, মেক্সিকো, পেরু, ব্রাজিলের জনগণকে জোর করে দাস বানিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করতো ।এছাড়া এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে হাজার হাজার দাস-দাসী কে আটলান্টিকের ওপারে চালান দেওয়া হয় । এক হিসাব মতে অষ্টাদশ শতাব্দীতে বছরে গড়ে৭৫,০০০ থেকে ৯০,০০০ দাস – দাসীকে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় নেওয়া হয়। 

গ) ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে খ্রীষ্টানগণ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন তাদের চেষ্টায় নতুন আবিষ্কৃত দেশসমূহে খ্রিস্টান ধর্ম প্রসার লাভ করে । 

ঘ) ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে মানুষের ভৌগলিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়।  নতুন দেশের নতুন অভিজ্ঞতা সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে ও যাতায়াতের জন্য নানাপ্রকার যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন শুরু হয় । সুতরাং ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।  এতে পৃথিবীর চেহারা পাল্টে যায়।  এতে যেমন ভৌগোলিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায় ,তেমনি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জীবনের যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয় । বিভিন্ন দেশ থেকে ধন-সম্পদ ইউরোপে প্রবেশ করায় তাদের প্রচুর লাভ হয় এবং তাদের জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য বেড়ে যায় । অন্যদিকে এশিয়া আফ্রিকার জনগণের উপর অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ নেমে আসে।  ক্ষমতাধর ইউরোপীয়রা এসব এলাকার অনুন্নত জনগণের ভূমিই  শুধু আত্মসাৎ করলো না, তাদেরকে দাস বানিয়ে দেশান্তরিত করে তাদের মুনাফার পরিমাণ আরো বাড়িয়ে তুলল । 

প্রধান প্রধান ভৌগোলিক আবিষ্কার : 

পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষে ও ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপে বিভিন্ন মহাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য জলপথ আবিষ্কারের হিড়িক পড়ে যায় ।রেনেসাঁসের প্রভাবে ইউরোপ বাসীর মনে অনুসন্ধিৎসা ও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত হয়। অজানাকে জানার জন্য, অদেখাকে দেখার জন্য মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে । এমত অবস্থায় রেনেসাঁসের  এর প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে কিছু দুঃসাহসী পুর্তগিজ এবং স্পেনীয় নাবিক উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন জলপথ আবিষ্কার করে।  তাদের আবিষ্কৃত তড়িত্গতিতে ইউরোপকে বিশ্বের মোড়ল বানাবার রাস্তা তৈরি করে দেয় । 

পর্তুগিজদের আবিষ্কার : 

ভৌগোলিক আবিষ্কারের পর্তুগিজরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।  ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে এবং আটলান্টিক মহাসাগরে পর্তুগিজদের কিছু কিছু সামুদ্রিক অভিযান পূর্বে থেকে পরিচালিত হচ্ছিল । এক সময় তারা জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে স্পেনীয় মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগে তারা আটলান্টিক দ্বীপ মাদেইরা ও আজোরাস দখল করে এবং মদ ও চিনির ব্যবসা করে প্রচুর লাভবান হয় । 

ভৌগোলিক আবিষ্কারের পর্তুগিজ নাবিক দের মধ্যে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন :-

১) নাবিক হেনরি : (১৩৯৪-১৪৬০) :

হেনরি ছিলেন পর্তুগালের যুবরাজ । পর্তুগিজদের ভারতে ও চীনে  আসার স্বপ্নকে যিনি বাস্তবে রূপদান দিয়েছেন তিনি হলেন যুবরাজ হেনরি নাবিক । তিনি মার্কোপোলোর ভ্রমণবৃত্তান্ত পার্ট করে প্রাচ্য দেশে আসার সমুদ্রপথ আবিষ্কার করার জন্য অত্যন্ত উৎসাহিত হন । তিনি মন প্রাণ দিয়ে প্রচলিত ভৌগলিক তথ্য গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন । তিনি নাবিকদের জন্য একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।  সেখানে জড়ো করেন ও প্রতিভাবান নাবিক এবং ভূগোলবিদদের কে । এ স্কুল থেকে তিনি বছরের পর বছর ধরে ব্যবসায়ী, ধর্মপ্রচারক ,ও যোদ্ধাদের দিয়ে অনেক নেী অভিযান প্রেরণ করেন । হেনরির জীবন দশায় পুর্তগিজ জাহাজগুলো পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে কিছু দুর্গ বাণিজ্য ঘাঁটি স্থাপন করতে সমর্থ হয় এবং গোল্ড কোস্ট ( বর্তমান ঘানা ) ও দাশ ব্যবসার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ।তার উদ্দেশ্য ছিল কিভাবে খ্রিস্টান ধর্ম কে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং তার দেশের সম্পদ সীমানা বৃদ্ধি করা যায়।  তার উৎসাহে পর্তুগালের নাবিক গন ভারত, সিংহল, জাভা, সুমাত্রা, চীন, প্রভৃতি স্থানে পেীঁছার চেষ্টা শুরু করে । 

২) বার্থোলোমিউ দিয়াজ : 

১৪৮৭ সালে বার্থোলোমিউ দিয়াজ নামে এক পুর্তগিজ নাবিক আফ্রিকার সর্ব দক্ষিণের বিন্দুতে পৌঁছান । তিনি যখন ওখানে পৌঁছলেন তখন প্রচন্ড ঝড়ের কবলে পড়েন । তাই ওই স্থানের নাম দেওয়া হয় ঝড়ের অন্তরীপ ( Cape of Storm ) । কিন্তু পর্তুগালের রাজা দ্বিতীয় জন এর মধ্যে আশার আলো দেখতে পান যে,  এ পথ ধরে একদিন ভারতে পৌঁছানো যাবে তাই তিনি এ অন্তরীপ এর নাম দেন উত্তমাশা অন্তরীপ ( Cape of good Hope ) । 

৩) ভাস্কো-দা-গামা :

১৪৯৭ সালে ভাস্কো-দা-গামা নামে এক পুর্তগিজ নাবিক রাজা প্রথম ম্যানুয়েলের আনুকূল্য নিয়ে এক সমুদ্র অভিযানে বের হন । দিয়াজের পথ ধরে তিনি উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে পূর্ব আফ্রিকায় কিনারা পৌছেন । এখানে এক আরব নাবিক তাকে ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছাতে সহযোগিতা করেন । ১৪৯৮ সালের মে মাসে তিনি ভারতের কালিকট বন্দরে পদার্পণ করেন । ইউরোপীয় নাবিকদের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হলো দুই বছর পর ভাস্কো-দা-গামা পর্তুগালে ফেরত যান।  কিন্তু ইতিমধ্যে তার বহরের জাহাজ হারিয়ে যায় এবং এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা যায় । ভাস্ক -দা-গামার অভিযানে যত অর্থ খরচ হয় তার ৬০ গুণ বেশি অর্থ তিনি প্রাণ জাহাজে করে ভারতে থেকে আনা দারুচিনি ও মধু গালের বাজারে বিক্রি করে মরিচ পর্তুগালের বাজারে বিক্রি করে । ১৫০০ সালের পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ নিয়মিতভাবে ভারতে যাওয়া আসা করে । ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকরা সঙ্গী হয়।  ভারতে গোয়ামে প্রথম পুর্তগীজ মিশনারি গড়ে ওঠে । শীঘ্রই পুর্তগিজ রা আরব বণিকদের বিতাড়িত করে মনোপলি ব্যবসা শুরু করে । এরপর পর্তুগিজরা ১৫১৭ সালে চীনের ক্যান্টনে  উপস্থিত হয় এবং ১৫৪২ সালে জাপানে প্রবেশ করে । 

স্পেনীয়দের আবিষ্কার : 

১) ক্রিস্টফার  কলম্বাস : 

ইউরোপে স্পেনের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল পুর্তগাল । পর্তুগিজ নাবিক দিয়াজের পথ ধরে পর্তুগিজরা এশিয়া যাওয়ার রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করবে এটা ভেবে স্পেনীয়রা পশ্চিম থেকে অন্য রাস্তা বের করা যায় কিনা চিন্তাভাবনা শুরু করে । এমন সময় ইতালির নাগরিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস এ ব্যাপারে এক  পরিকল্পনা পেশ করেন । তার ধারণা ছিল আটলান্টিকের ওপারে পশ্চিমে নেীযান চালিয়ে গেলে তিনি ভারত এবং চীনে পৌঁছাতে পারবেন । স্পেনের রাজা ফার্দিনান্দ এবং রানী ইসাবেলার সহযোগিতা ১৪৯২সালে তিনি স্পেনের পালোস বন্দর থেকে অভিযানে বের হন । যাত্রাকালে তিনটি ক্ষুদ্র জাহাজ ৮৭ জন নাবিক এবং ক্যাথরিন রাজার জন্য একটি চিঠি নিয়ে রওনা হন। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে তিনি পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলেন। এক সময় তার সঙ্গী সাথীরা বিদ্রোহ করে বসে। তাতেও তিনি ধৈর্য হারায় না তার পরিকল্পনা স্থির থাকে। অবশেষে ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর কলম্বাসের জাহাজ মাটিতে নোঙ্গর করল। তিনি কল্পনা করতে পারেনি যে , তার আবিষ্কৃত   স্থানটির নাম বাহামা  ভারত বা চীন নয়। তিনি মনে করেছিলেন যে তিনি ইন্ডিয়ার কোথায় ও পৌঁছেছিলেন । তার দেওয়ার নাম অনুসারে আমেরিকার আদিবাসীদের বলা হয় ইন্ডিয়ান । তিনি আরও তিনবার তার আবিষ্কৃত স্থানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি যে তিনি একটা নতুন বিশ্ব আবিষ্কার করেছিলেন । 

২) আমেরিগোভেসপুকচি : 

১৫০০ সাল নাগাদ সবার কাছে পরিস্কার হতে থাকে যে কলম্বাসের আবিষ্কৃত স্থানটির এক নতুন বিশ্ব।  এমত অবস্থায় ১৫০৩ সালে আমেরিগো ভেসপুকচি এক ইতালি নাবিক এক চিঠিতে দাবি করেন যে তিনি এক নতুন পৃথিবী আবিষ্কার করেছেন । আর এ  মিথ্যা দাবিদারের  নাম অনুসারে আটলান্টিকের আবিষ্কৃত ভূভাগেরর নাম করা হয় আমেরিকা । 

৩) ভাস্কো নুনেজ ডি বালবোয়া : 

১৫১৩ সালে বালবোয়া নামক এক স্পেনীয় নাবিক ডোরিয়ান নামক স্থানের (বর্তমান নাম পানামা ) এক পর্বত হতে প্রশান্ত মহাসাগর দেখতে পান । তখন তিনি বলেন যে ইউরোপ থেকে পূর্ব এশিয়া যেতে হলে একটা নয় বরং   দুইটি মহাসাগর ( আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর ) পাড়ি দিতে হবে । তিনি একখানা ক্ষুদ্র জাহাজ প্রস্তুত করে সে অজানা সাগরের দিকে ধাবিত হন ।  তিনি অবশ্যই চীন দেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি । 

৪) ম্যাগেলান :

১৫১৯ সালে ম্যাগেলান স্পেন সরকারের সাহায্য নিয়ে এক সমুদ্র অভিযানে বের হন । প্রথমে তিনি আটলান্টিক অতিক্রম করে দক্ষিণ আমেরিকা ঘুরে বর্তমান ম্যাগেলান অন্তরীপ অতিক্রম করেন । এরপর তিনি তিয়েরা ডে ফুয়েগো (Tierra da Fuego )  থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে 90 দিন পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে  উপস্থিত হন । সেখান থেকে আরো ৭ দিন অভিযান চালিয়ে লাজরাসে পৌঁছেছেন ।পরে এর নামকরণ করা হয় ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ । ম্যাগেলান ফিলিপাইনের স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে এক যুদ্ধে নিহত হন । কিন্তু তার একটি জাহাজ পর্তুগিজদের আবিষ্কৃত পথে ভারত মহাসাগর ও উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ১৫২২ সালে স্পেনে পেীঁছে । আর এটাই হল প্রথম জাহাজে করে পৃথিবী প্রদক্ষিণ । 

৫) হারনাদো কর্তেজ :

১৫১৯ থেকে  ১৫২১  সাল পর্যন্ত হারনাদো কর্তেজ নামে এক দুঃসাহসী নাবিক ৬০০ লোক ৭ টি কামান ১৩ টি ঘোড়া নিয়ে আজতেক সাম্রাজ্য ( আজকের মেক্সিকো ) আক্রমণ করেন । আজতেকরা ইতোপূর্বে কামান ঘোড়া দেখেননি। ঘোড়া দেখে  তারা ভয় পেয়েছিল । ঘোড়ার চালক ও ঘোড়াকে একসঙ্গে দেখে তারা একে অদ্ভুত জন্তু মনে করেছিলো। এক মিলিয়ন আজতেক সহজেই পরাজিত হয় ।কর্তেজ  তাদের সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় । ওই অঞ্চলের সর্ব প্রথম স্পেনীয় উপনিবেশ স্থাপন করেন । 

৬) ফ্রান্সিস্কো পিজারো : 

১৫৩২ সালে ফ্রান্সিসকো পিজারো নামে আরেক অভিযানকারী মাত্র ১৮০ জন যুদ্ধা  নিয়ে ইনকাদের সাম্রাজ্য  ( বর্তমান পেরু ) আক্রমণ করে অধিকার করে নেয় ।বন্দী ইনকা রাজা স্পেনীয়দেরকে চাহিদামতো স্বর্ণ দিতে রাজি হওয়ার পরেও তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ইনকাদের দাস বানাতে শুরু করে । 

ব্রিটিশদের আবিষ্কার:

ভৌগলিক আবিষ্কার ইংল্যান্ড বা ফ্রান্সের দান পুর্তগাল স্পেনের তুলনায় খুবই নগণ্য।

জন ক্যাবট: 

১৯৪৭ সালে জন ক্যাবট নামে এক ব্রিটিশ নাবিক হতে সমুদ্রযাত্রায় বের হন । তিনি আটলান্টিক পার হয়ে ক্যাথে বা চীনে পেীঁছতে  পারবেন বলে এক ভুল ধারণা পোষণ করতেন ।তিনি এক অপরিচিত স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরে এর নাম হয় নিউফাউন্ডল্যান্ড । ১৫০৯ সালে জন ক্যাবট এর পুত্র সিবাস্টিয়ান ক্যাবট লাব্রাডার  আবিষ্কার করেন । 

ফরাসিদের আবিষ্কার :

জ্যাকস কার্টিয়ার: ১৫৩৪-১৫৩৬ সালের মধ্যে জ্যাকস কাটিয়ার নামে এক ফরাসি নাবিক সেন্ট লরেন্স এবং কানাডা আবিষ্কার করেন। সেখানে গিয়ে তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের মুখে কানাডা শব্দটি শুনতে পান । এটা ছিল সেখানকার একটা গ্রামের নাম । যাহোক এই কানাডার নাম হতে অঞ্চলের এই নামকরণ করা হয় কানাডা । 

উপযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা একথা বলতে পারি যে ভারত ও চীনের মসোলা ,স্বর্ণ, সিল্ক ইত্যাদি সন্ধানে ইউরোপীয়দের ভৌগলিক অভিযান শুরু হয় । অসংখ্য নাবিক প্রচন্ড সাহস, বুদ্ধি, ও মৃত্যুকে উপেক্ষা করে মহাসমুদ্রের বুকে পাল তুলেছে । তারা শুধু এশিয়ার আসার পথে আবিষ্কার করেন নি , আমেরিকা নামে নতুন এক বিশ্বের সন্ধান লাভ করেছেন । ফলে ইউরোপীয় বাণিজ্য এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এলো  । ভূমধ্যসাগরের পরিবর্তে আটলাণ্টিক এখন পশ্চিমা দেশগুলোর অন্তর্দেশীয় সমুদ্র বাণিজ্যে পরিণত হল । এখানকার সম্পদ ও কৃতিত্ব ইউরোপকে সারা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের আসনে বসিয়ে দেয় । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + 1 =