অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধ

Austrian War of Succession 

আধুনিক যুগের শুরু থেকেই ইউরোপের রাজনীতিতে ফ্রান্স ,ব্রিটেন, স্পেন ,পর্তুগা,অস্ট্রিয়া, স্প্রর্শিয়া প্রভৃতি দেশের রাজার শক্তিশালী হয়ে উঠেনি । খুব শীঘ্রই এসব দেশের শক্তিশালী রাজারা  ইউরোপের প্রাধান্য বিস্তার এবং পৃথিবীর অন্যান্য এলাকায় উপনিবেশিক স্থাপনের লক্ষ্যে  প্রতিযোগিতা লিপ্ত হয় । এ প্রতিযোগিতা কখনো কখনো সশস্ত্র সংঘাতে রূপ ধারণ করে । অষ্টাদশ শতাব্দীতে সংঘটিত অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধ তাদের মধ্যে অন্যতম । 

অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধের কারণ ও পটভূমি ( Causes or Background of Austrian War of Succession  )

অস্ট্রিয়ার স্যালিক( Salic law ) আইন নামে এক আইন ছিল । এই আইন অনুসারে অস্ট্রিয়ার সিংহাসনে কোন স্ত্রীলোকের আরোহন  করার অধিকার ছিল না । অষ্টাদশ শতকে অস্ট্রিয়ার সম্রাট ছিলেন চার্লস । তার কোনো পুত্র সন্তান ছিল না । তার ছিল একমাত্র কন্যা সন্তান । নাম মারিয়া থেরেসা । ষষ্ঠ চার্লস এ আইনগত সমস্যা কাটানোর উদ্দেশ্যে তিনি Pragmatic Sanction নামে একটি স্বীকৃতি পত্র ইউরোপের রাজাদের নিকট থেকে আদায় করে নেন , যাতে তার কন্যা মারিয়া থেরেসা অস্ট্রিয়ার সিংহাসন আহরণ করতে পারেন। অবশ্যই মারিয়া পবিত্র রোমান সম্রাটদের পদ লাভ করতে পারবে না । জুলিক ও বার্গ নামক স্থান দুটি স্প্রর্শিয়াকে দেওয়া হয় । এ স্বত্বে ১ম ফ্রেডারিখ স্বীকৃতি পত্রে স্বাক্ষর করেন (১৭২৬ খ্রি:) । কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থান দুটি দেওয়া হয়নি । ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ষষ্ঠ চার্লস মৃত্যুবরণ করলে তার কন্যা মারিয়া থেরেসাকে প্রাগম্যাটিক স্যাংশন অনুযায়ী অস্ট্রিয়ার রানী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট পদে তার স্বামী লোরেন ফ্রান্সিস এর নির্বাচন দাবি করা হয় । সিংহাসনে আহরণের পরপরই মারিয়া থেরেসা অত্যন্ত জটিল অবস্থার সম্মুখীন হন । অস্ট্রিয়ার সামরিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার সুযোগে ইউরোপের একাধিক দেশের অধিপতিরা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মারিয়া থেরেসার বিরোধিতা করেন । 

সাইলেশিয়ার প্রথম যুদ্ধ : 

ক) ফ্রেডারিখের চরমপত্র : 

অস্ট্রিয়া ও স্প্রর্শিয়ার দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ হল সাইলেশিয়ার অধিকার নিয়ে । পারিবারিক সম্পর্কের অজুহাতে অস্ট্রিয়ার সাইলেশিয়ার উপর দাবি জানিয়ে ফ্রেডারিখ মারিয়া থেরেসাকে একটি চরমপত্র দেন । এছাড়া জুলিক ও বার্গ নামক স্থান দুটিও দাবি করেন । এসব দাবি মারিয়া না মানলে তার পিতা কর্তৃক স্বাক্ষরিত Pragmatic Sanction মানতে বাধ্য নয় বলে জানিয়ে দেন । এ দাবি অগ্রাহ্য হলে ফ্রেডারিখ যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন । আর এ দাবি মেনে নিলে মারিয়াকে অস্ট্রিয়ার শীর্ষপদে অবস্থানের ক্ষেত্রে সর্বদায় সাহায্য করা হবে । মারিয়া থেরেসা ঘৃণার দৃষ্টিতে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন । ফলে শুরু হয় অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকারী যুদ্ধ বা সাইলেশিয়ার প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত( ১৭৪১ খ্রি: ) । এক বছরের মধ্যেই ফ্রেডারিখ প্রায় সমগ্র সাইলেশিয়া এবং এর রাজধানী ব্রেসল দখল করেন । তখন মৃগী ও ব্রিগ নামক স্থান দুটি তখনো অপরাজিত ছিল । সাইলেশিয়া দখল করে মারিয়াকে শর্ত দেওয়া হয় যে , 

১) সাইলেশিয়ার  বিনিময় তিনি তার স্বামীর পক্ষে সম্রাট হবার ক্ষেত্রে রাজকীয় নির্বাচনে সমর্থন দেবেন , 

২) মারিয়াকে তার সকল শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে সামরিক সাহায্য দেওয়া হবে এবং 

৩) তাকে ৩ মিলিয়ন থেলারস বা গোল্ডেন মুদ্রা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে । 

খ) মলউইজের  যুদ্ধ : 

মারিয়া থেরেসা এসব প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে ফ্রেডারিখের সাথে তাঁর যুদ্ধ হয় । এ যুদ্ধে ফ্রেডারিখ জয় লাভ করে । ব্রিগ নামক স্থানের নিকট মলউইজের  এ যুদ্ধ হয় বলে এর নাম হয় ) মলউইজের  যুদ্ধ। 

গ) ইউরোপীয় শক্তিবর্গের যুদ্ধে যোগদান : 

মারিয়া ইউরোপীয় শক্তিবর্গের কাছে এ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে এবং সাইলেশিয়া থেকে ফ্রেডারিখকে বের করে দিতে সাহায্য চান।কিন্তু তারা মারিয়াকে সাহায্য না করে ফ্রেডারিখকে পক্ষে যোগ দেন   । তারা হ্যাপসবার্গ রাজবংশ কে ধ্বংস করতে চানএবং অস্ট্রিয়ার সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিতে আগ্রহী ছিলেন । স্প্রর্শিয়ার জয়লাভের প্ররোচিত হয়ে ফ্রান্স, স্পেন ,সার্দিনিয়া , সাক্সনি, বেভারিয়া উদ্যত হয়ে অস্ট্রিয়া সাম্রাজ্য আক্রমণ করে । 

ঘ) মৈত্রী চুক্তি : 

ফ্রান্স ,বেভারিয়া  ও স্প্রর্শিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয় । এতে সিদ্ধান্ত হয়:- 

১) স্যাক্সনি পাবে মোরেভিয়া, 

২) প্রূশিয়া পাবে সাইলেশিয়া, 

৩) ফ্রান্স পাবে অস্ট্রিয়া – নেদারল্যান্ড , 

৪) স্পেন ভাবে ইতালি ও হ্যাজসবার্গ অঞ্চলসমূহ , 

৫) বেভারিয়া পাবে টাইরল ও বোহেমিয়া , 

৬) হাঙ্গেরির উপর শুধু মারিয়া থেরেসার অধিকার বজায় থাকবেে এবং

৭) এছাড়া ফ্রেডারিখ বেভারিয়ার ইলেক্টরকে অস্ট্রিয়ার সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবেন এবং রাইন অঞ্চলের দাবি ত্যাগ করবেন । 

ঙ) প্রূশিয়াকে সাইলেশিয়া দান : 

চতুর্দিকে থেকে অস্ট্রিয়ার সাম্রাজ্য আক্রান্ত হলে মারিয়া থেরেসা  সাইলেশিয়ার উপর ফ্রেডারিখের দাবি মেনে নেন । ফলে স্প্রর্শিয়া যুদ্ধ ত্যাগ করে । কিন্তু অপরাপর শক্তির সাথে অস্ট্রিয়ার যুদ্ধ চলতে থাকে । এতে অস্ট্রিয়া ধীরে ধীরে জয়লাভ করতে থাকে । 

চ) ব্রেসলের সন্ধি : 

অস্ট্রিয়া অন্যান্য শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়লাভ করতে থাকলে ফ্রেডারিখ ভীত হন। তিনি আশঙ্কা করলেন যে , যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত মারিয়া জয় করলে সাইলেশিয়া পুনরায় অধিকার করবে । সেজন্য ফ্রেডারিখ জাসল ( Czaslau ) এ মারিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং জয়লাভ করেন । ১৭৪৩ সালে ব্রেসল( Breslau ) এ এক সন্ধি হয় । এতে গ্ল্যাৎস ও সাইলেসিয়া উপর স্প্রর্শিয়ার অধিকার স্বীকৃতি পায় । ফ্রেডারিখ অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে প্রতিশ্রুতি হলেন । ব্রেসল এর সন্ধি দ্বারা সাইলেসিয়ার  প্রথম যুদ্ধের অবসান ঘটে । 

সাইলেশিয়ার  দ্বিতীয় যুদ্ধ : 

ক) হাঙ্গেরিতে মারিয়ার পলায়ন : 

ইউরোপের শক্তি সমূহের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে অস্ট্রিয়ার রানী মারিয়া থেরেসা হাঙ্গেরিতে  পালিয়ে যায় এবং সাহসের সঙ্গে শক্তি জোটের মোকাবেলা করতে থাকেন । তিনি হাঙ্গেরি জনগণের প্রতি সাহায্যের আবেদন জানালে তারা  স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে এবং এক লক্ষ সৈন্য দিয়ে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয় । 

খ) যুদ্ধে ইংল্যান্ডের যোগদান : 

অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে যোগদান করে । ফ্রান্স ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যগত শত্রু । এছাড়া জার্মানির হ্যানোভার রাজ্য ইংল্যান্ডের রাজা কর্তৃক শাসিত হতো । ফরাসি আগ্রাসনে হ্যানোভারে ব্রিটিশ অধিকার হুমকি হতে পারে বলে মনে করে ইংল্যান্ড ।এ ভিন্ন ইউট্রেক্ট এর সন্ধির শর্তাদি ফ্রান্স ভঙ্গ করতে অগ্রসর হয়েছে এ আশঙ্কাও  ছিল । এজন্য ১৭৪৩  সালে ওয়ার্মসের চুক্তি মাধ্যমে ইংল্যান্ড অর্থ ও সামরিক সাহায্য দিয়ে মারিয়াকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে । এছাড়া ব্রিটেনের স্পেনের নেী  আধিপত্যকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল । এভাবে ১৭৪৪ সালে ইংল্যান্ড ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে । ডেটিঞ্জেনের যুদ্ধে ইংল্যান্ড ফরাসি সৈন্যকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে । এসময় হতে অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধে ইঙ্গ -ফরাসি দ্বন্দ্ব এবং অস্ট্রিয়া স্প্রর্শিয়া দ্বন্দ্ব নামে পরিচিত হতে থাকে। এমনকি ভারত ও আমেরিকায় এ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে । 

গ) অস্ট্রিয়ার মিত্রতার স্থাপন : 

বেভারিয়ার শাসক চার্লসের মৃত্যু হলে বেভারিয়া অস্ট্রিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ মিটিয়ে ফেলে । অস্ট্রিয়া স্যাক্সনি ও পোল্যান্ডের সঙ্গে এক মিত্রতা চুক্তি স্থাপন করে স্প্রর্শিয়াকে দুই দিক থেকে আক্রমণ করে । রাশিয়া ও এসময় অস্ট্রিয়ার পক্ষ অবলম্বন করে স্প্রর্শিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় । 

ঘ) অস্ট্রিয়া কর্তৃক সাইলেশিয়া আক্রমণ / ড্রেসডেন চুক্তি : 

সাইলেশিয়া পুনর্দখলের জন্য অস্ট্রিয়ার সৈন্য অগ্রসর হয়ে ফ্রিডবার্গের  যুদ্ধে পরাজিত হয় । ফ্রেডারিখ অস্ট্রিয়ার সৈন্যের পশ্চাদ্ধাবন করে বোহেমিয়ার সোহর ( Sohr ) এর যুদ্ধে পুনরায় তাদেরকে পরাজিত করে । এরপর অস্ট্রিয়া ও স্প্রর্শিয়ার মধ্যে Dresdon  চুক্তি হয় । এতে অস্ট্রিয়া পুনরায় সাইলেশিয়া উপর স্প্রর্শিয়ার অধিকার স্বীকার করে নেয় । এ চুক্তি দ্বারা ফ্রেডারিখ মারিয়া থেরেসার স্বামী ১ম লোরেন ফ্রান্সিস এর অস্ট্রিয়ার সম্রাট পদের নির্বাচন মেনে নেন । 

ঙ) লা-স্যাপেলের সন্ধি : 

ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে তখনও যুদ্ধ চলছিল । যুদ্ধে চলতে থাকলে সকল পক্ষই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে । অবশেষে 1748 সালে  লা-স্যাপেলের সন্ধি দ্বারা এ যুদ্ধের অবসান ঘটে । 

উত্তরাধিকার যুদ্ধের ফলাফল ( Result of the Austrian was of Succession )

অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধের ফলাফল যেসব বিবেচনা সুদুরপ্রসারী ছিল তা নিম্নরূপ : 

১) এ যুদ্ধের মাধ্যমে জার্মানির তথা স্প্রর্শিয়া ইউরোপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত হয় । স্প্রর্শিয়ার আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব গুরুত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় । রাজ্য সীমা বৃদ্ধি পায় । 

২) এ যুদ্ধের মাধ্যমে মারিয়া থেরেসা নিজেকে অস্ট্রিয়ার শাসক এবং তার স্বামীকে অস্ট্রিয়ার সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত করলেও তিনি সাইলেশিয়া হারানোর দুঃখ ভুলতে পারেননি । তিনি সাইলেশিয়া পুনরুদ্ধারের বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন । এতে তার মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এবং অস্ট্রিয়ার সামরিক দুর্বলতা প্রকাশ পায় । 

৩) এ যুদ্ধে ফ্রান্স কিছু অর্জন করতে ব্যর্থ হয় । লা-স্যাপেলের সন্ধটি  ফ্রান্সের জন্য ছিল “ Peace without victory “ ভবিষ্যতে ফ্রান্স  আবার ইউরোপে নিজের প্রস্তাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজতে থাকে G 

4) সাইলেশিয়ার দ্বিতীয় যুদ্ধে রাশিয়া অষ্ট্রিয়ার পক্ষে যোগদান করে ভবিষ্যতে ইউরোপের রাজনীতিতে রূশ শক্তির প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় । 

৫) ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে বাণিজ্যিক ঔপনিবেশিক প্রাধান্য বিস্তারের যে দ্বন্দ্ব চলছিল এ যুদ্ধ তার কোন সমাধান দিতে পারেনি । 

৬) এ যুদ্ধের ফলে উইটেলস ব্যাক পরিবার বেভারিয় ও প্যালাটিনেটে তাদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে । 

৭) সার্ডিনিয়ার চার্লস ইমানুয়েল লোম্বার্ডি , স্যাভয় এবং নিৎস  লাভ করে। 

৮) এ যুদ্ধ ইউরোপের ইতিহাসে কোন রাজনৈতিক মীমাংসা দিতে পারেনি । ফলে কিছুদিন পরে শুরু হয় সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধ । 

উপরে উল্লেখিত সমালোচনা থেকে কথা বলা যায় যে , অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধ ইউরোপকে অষ্ট্রিয়ার পক্ষে এবং বিপক্ষে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলে । কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায় । ইউরোপের রাজারা পুরাতন মিত্র ত্যাগ করে নতুন মিত্রের সন্ধান করেন এবং মৈত্রী জোট গড়ে তোলেন , যা কূটনৈতিক বিপ্লব নামে পরিচিত । ১৭৪৮ সালের লা-স্যাপেলের সন্ধি সাময়িকভাবে উত্তরাধিকার যুদ্ধ ঠেকালেও এটি স্থায়ী সমাধান দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয় । 

আই- লা-স্যাপেলের সন্ধি , ১৭৪৮ – ( The peace of Aix-La-Chapelle, 1748  )

আই- লা-স্যাপেলের সন্ধি ইউরোপের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা । অস্ট্রিয়ার সম্রাট ষষ্ঠ চার্লসের কোন পুত্র সন্তান ছিল না । ছিল একমাত্র কন্যা,  নাম মারিয়া থেরেসা । স্যালিক আইন অনুসারে অস্ট্রিয়ার সিংহাসনে কোন নারীর সিংহাসনে আহরণ করা অধিকার ছিলনা । তাই তার মৃত্যুর পর পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে গোলযোগের আশঙ্কা থেকে তিনি ইউরোপীয় রাজগণের নিকট থেকে প্রাগম্যাটিক স্যাংকশন নামে একটি স্বীকৃতিপত্র আদায় করে নেন যাতে তার কন্যা মারিয়া থেরেসা তার উত্তরাধিকার হিসেবে অস্ট্রিয়ার সিংহাসন আহরণ করতে পারে । ১৭৪০ সালে ষষ্ঠ চার্লসের মৃত্যুর পর তার একমাত্র কন্যা মারিয়া থেরেসা কে প্রাগম্যাটিক স্যাংকশন অনুযায়ী অস্ট্রিয়ার রানী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং তার স্বামী লোরেন ফ্রান্সিসকে  পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট করে নির্বাচন দাবি করা হয় । ইউরোপের কতিপয় রাষ্ট্র  প্রাগম্যাটিক স্যাংকশন মানেননি । অনেকে  প্রাগম্যাটিক স্যাংকশন স্বাক্ষর করে ও পরে তা মানেননি । ফলে অস্ট্রিয়ার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী নিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়,  তা ইতিহাসে অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধ নামে পরিচিত । এ যুদ্ধে অস্ট্রিয়া – স্প্রর্শিয়া দ্বন্দ্ব এবং  ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব এই দুই প্রধান দ্বন্দ্ব পরিণত হয় । দুই পক্ষের মধ্যে ১৭৪০ থেকে ১৭৪৮ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে থাকলে দুই পক্ষই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং শান্তির প্রত্যাশা করে । ফলে ১৭৪৮ সালে দুই পক্ষের মধ্যে আই- লা-স্যাপেলের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় ।

 আই- লা-স্যাপেলের সন্ধি ধারা / শর্তসমূহ হল : 

১) মারিয়া থেরেসা অস্ট্রিয়ার শাসক এবং তার স্বামী লরেন ফ্রান্সিসকে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় । অর্থাৎ প্রাগম্যাটিক স্যাংকশন আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। 

২) সাইলেশিয়া ও গ্লজের উপর স্প্রর্শিয়ার অধিকার স্বীকৃতি হয় । 

৩) দ্বিতীয় জর্জকে ইংল্যান্ডের রাজা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। 

৪ সার্দিনিয়ার চালৃস ইমানুয়েলকে লোম্বার্ডি , স্যাবয় ও নিস প্রদান করা হয় । 

৫) ফ্রান্স নেদারল্যান্ডস ছেড়ে দেয় এবং ফ্রান্স থেকে স্টায়ার্ট  বংশধরকে নির্বাসিত করতে প্রতিশ্রুতি দেয়। ডানকার্ক বন্দরের রক্ষা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হয় । 

৬) উেইটেলব্যাক পরিবার বেভারিয়া এবং প্যালটিনেঠে  তাদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। 

৭) ভারতে ইংল্যান্ডকে  মাদ্রাজ ফেরত দেওয়া হয় । 

৮) স্পেন ফ্রান্সিসকে সম্রাট হিসেবে মেনে নেন এবং দক্ষিণ আমেরিকা ইংল্যান্ডের জাহাজ প্রবেশে অনুমতি দেয়।  

ফলাফল ( Result  ) :

১) এ চুক্তির মাধ্যমে মারিয়া থেরেসা অস্ট্রিয়ার শাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয় । তবে তিনি ইংল্যান্ডের অনুরোধে স্পর্শিয়ার কাছে সাইলেশিয়া ত্যাগ করলেও তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি । সাইলেশিয়া পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি পুনরায় স্প্রর্শিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন । 

২) স্প্রর্শিয়া ইউরোপের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয় । তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি পায় । জার্মানির কর্তৃক নিয়ে অস্ট্রিয়া ও স্প্রর্শিয়ার মধ্যে নতুন সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে । 

৩) এ সন্ধির দ্বারা ফ্রান্সের কোন লাভই হয়নি । বংর এ  সন্ধির দ্বারা তার অধিকৃত কয়েকটি স্থান যেমন: নেদারল্যান্ড,  রাইন নদীর তীরবর্তী কতিপয় অঞ্চল ত্যাগ করতে হয় । তার নৌ বাহিনী ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত হয় । ফ্রান্সের কাছে এটি ছিল “ Peace without victory “ । ফ্রান্স ভবিষ্যতে ইউরোপে নিজের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজতে থাকে । 

৪) রাশিয়ার দ্বিতীয় সাইলেশিয়া যুদ্ধে অষ্ট্রিয়ার পক্ষে যোগদান করে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় রাজনীতিতে রুশ শক্তির বিস্তারের সুযোগ পায় । 

৫ ) ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে বাণিজ্যিক উপনিবেশিক ও সামাজিক উপাদানের যে দ্বন্দ্ব চলছিল তার কোনো সন্তোষজনক এ সন্ধি  সমাধান দিতে পারেনি । 

৬) এর সন্ধি ইউরোপের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয় । তাই ইউরোপীয় শক্তিবর্গ নিজ স্বার্থের অনুকূলে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ত্যাগ করে নতুন মিত্রের সন্ধানে মৈত্রীজোট গঠন করে । ফলে কিছুদিন পরেই সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের সূচনা হয় । 

অতএব আমরা দেখতে পাই যে , ১৭৪৮ সালের আই – লা -স্যাপেলের সন্ধি  সাময়িকভাবে উত্তরাধিকার যুদ্ধ ঠেকালেও এটি স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি । 

কূটনৈতিক বিপ্লব ( Diplomatic Revolution  )

১৭৫৬ সালে ইউরোপীয় রাজনীতিতে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন ঘটে । ১৭৪৮ থেকে ১৭৫৬ সাল পর্যন্ত সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন শক্তিবর্গ তাদের নিজস্ব কূটনীতিক পরিচালিত করার নিমিত্তে নতুন নতুন মিত্র খুঁজতে থাকে । প্রত্যেকেই নিজস্ব সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা কথা বিবেচনায় এনে যে যার শত্রুর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা চেষ্টা করে । এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ১৭৫৬ সালের নতুন মৈত্রীয় জোট গঠিত হয় । যেমন: – 

ক) অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্স তাদের দুইশত বছরের বিবাদ ভুলে গিয়ে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হয় । 

খ) স্প্রর্শিয়া ও ইংল্যান্ড  মৈত্রীয় জোটে আবদ্ধ হয়ে ফ্রান্স ,অস্ট্রিয়া এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় । 

কূটনৈতিক বিপ্লবের পূর্বে ইউরোপে শক্তিবর্গ প্রধানত দুই শিবিরে বিভক্ত ছিল । ইংল্যান্ড ,অস্ট্রিয়া, রাশিয়া ,পর্তুগাল সাধারণত এক পক্ষে থাকতো । অপরদিকে ফ্রান্স ,স্প্রর্শিয়া, স্পেন, সুইডেন, ডেনমার্ক ,পোল্যান্ড ও তুরস্ক থাকত অন্যপক্ষে । তবে অস্ট্রিয়ার সামুদ্রিক শক্তি ইংল্যান্ডের সঙ্গে অনুসৃত মৈত্রী রক্ষার নীতি ত্যাগ করে ফ্রান্সের দিকে যায় এবং ইংল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয় । অপরদিকে ইংল্যান্ড ফ্রান্সের সঙ্গে সামুদ্রিক বাণিজ্যিক এবং উপনিবেশিক প্রাধান্য বজায় রাখার জন্য স্প্রর্শিয়ার সঙ্গে মিত্রতা আবদ্ধ হয় ও দুই পক্ষের যুদ্ধের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে থাকে । ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী জোট বা কূটচালের এ বিরাট পরিবর্তন ইউরোপের ইতিহাসে কূটনৈতিক বিপ্লব নামে পরিচিত । 

কূটনৈতিক বিপ্লবের কারণ ( Causes of the Diplomatic Revolution  )

১) আই- লা -স্যাপেলের সন্ধির ভুল: 

১৭৪৮ সালের আই- লা -স্যাপেলের সন্ধির বিবাদমান কোন পক্ষই সন্তুষ্টি করতে পারেনি । অস্ট্রিয়া সাইলিশিয়া হারানোর দুঃখ বুঝতে পারেনি । স্প্রর্শিয়া সাইলিশিয়া হাতে পেয়েও  এর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিল । সর্বোপরি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে বাণিজ্যিক ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বের কোনো মীমাংসা এসে দিতে পারেনি । ফলে বিদ্যমান দুইপক্ষের মধ্যে চলতে থাকে কূটনীতিক পরিবর্তন এবং কূটনৈতিক যুদ্ধ । 

২) সাইলিশিয়া হারানোর দুঃখ : 

অস্ট্রিয়া ইংল্যান্ডের জবরদস্তিতে সাইশিসিয়া ফ্রেডারিখকে দিতে রাজি হলেও রানী মারিয়া থেরেসা সাইলেশিয়া ন্যায় সম্পদশালী ,উর্বর ও সোনার ঘাঁটি  উপদেশ হারানোর দুঃখ ভুলতে পারেননি । সাইলিশিয়া সংক্রান্ত ব্যাপারে তিনি ইংল্যান্ডের আচরণে ক্ষুব্ধ হন । তখন তিনি তার মন্ত্রী কেীনিজ এর যুক্তি ও পরামর্শের পুনরাবৃত্তি ইংল্যান্ডকে ত্যাগ করে ফ্রান্সের সঙ্গে মফিজুল গঠনে আবদ্ধ হন । 

৩) কেীনিজের যুক্তি : 

কেীনিজ যুক্তি দেখালেন যে , অস্ট্রিয়ার প্রধান শত্রু হলো স্প্রর্শিয়া । স্পর্শিয়ার কারনে  ইউরোপের রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে । ইংল্যান্ড সাইলিশিয়া উদ্ধারে অস্ট্রিয়াকে সাহায্য করবে না । স্প্রর্শিয়ার ফ্রেডারিখ ইংল্যান্ডের যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। একদিকে ফ্রেডারিখ সাইলিশিয়া যুদ্ধে ফ্রান্সকে  অবহিত না করে একাধিকবার যুদ্ধ ত্যাগ করার ফ্রান্স ও স্প্রর্শিয়ার সম্পর্ক শিথিল হতে শুরু করে । আবার রাইন অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যতে দু’দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব হওয়ার সম্ভাবনা আছে । তাই দূরবর্তী ইংল্যান্ডের পরিবর্তে নিকটবর্তী ফ্রান্সের মিত্রতা গ্রহণ করার পক্ষে তিনি যুক্তি তুলে ধরেন । রানী মারিয়া থেরেসা কোনেীজের যুক্তি সমর্থন করলে কৌণিজ  ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রিয়া দুইশত বছরের বিবাদ ভুলে মিত্রতা সম্পর্কে করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন । 

৪) স্প্রর্শিয়ার অভ্যুত্থান: 

স্প্রর্শিয়ার অভ্যুত্থান ওর শক্তি সঞ্চয় ইউরোপীয় রাজনীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন এনে দেয় । স্পর্শিয়ার অভ্যুত্থান ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে । কারণ এতে মহাদেশের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় । স্প্রর্শিয়া মনে করেছিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে মৈত্রী ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনরূপ বিরূপ প্রভাব ফেলবে না । কেননা তারা উভয়েই হ্যাজসবার্গ বিরোধী ছিল । 

৫) ইংল্যান্ডের স্বার্থ : 

ইংল্যান্ডের বাণিজ্যিক ও উপনিবেশিক স্বার্থে  পাঞ্চ কে দমন করা একান্ত প্রয়োজন ছিল । আর এটা করার জন্য দুর্বল অস্ট্রিয়ার চেয়ে শক্তিশালী স্প্রর্শিয়ার বন্ধুত্ব দরকার ছিল বেশি । জার্মানির হ্যানোভার রাজ্যটি ছিল ইংল্যান্ডের হ্যানোভার রাজ্যদের মাতৃভূমি । হ্যানোভারের নিরাপত্তার জন্য ইংল্যান্ড নতুন মিত্র খুঁজতে থাকে এবং এ ব্যাপারে স্প্রর্শিয়াকে ইংল্যান্ড উপযুক্ত মনে করে । ফলে ১৭৫৫ সালে ইংল্যান্ড ও স্প্রর্শিয়ার মধ্যে ওয়েস্টমিনিস্টার কনভেনশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং একে অপরের অঞ্চল রক্ষা করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় । 

৬) ফ্রান্সের মর্যাদা : 

ফ্রান্স আই – লা – স্যাপেলের সন্ধি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং অপমানিত হয়েছিল । এর সন্ধির দ্বারা তার কয়েকটি স্থান ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করা হয় । ফলে সে সন্ধি থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছিল তার মর্যাদা পুনরুদ্ধারে । আর ওয়েস্টমিনিস্টার চুক্তির খবর শোনা মাত্র ফ্রান্স কেীনিজের  মধ্যস্থতার অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সঙ্গে ১৭৫৬ সালে ভার্সাইতে একটি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষর করে । অপরদিকে রাশিয়া ইংল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে অস্ট্রো-ফ্রাংক জোটে যোগদান করে।  

এভাবে ১৭৫৬ সালে পূর্বেকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ইউরোপের ইতিহাসে কূটনৈতিক বিপ্লব নামে পরিচিত । এতে করে নতুন রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয় । 

কূটনৈতিক বিপ্লবের ফলাফল /  গুরুত্ব /. তাৎপর্য ( Significance of the Diplomatic Revolution  )

কূটনৈতিক বিপ্লবের ফলে ইউরোপের কোন কোন দেশে যেমন লাভবান হয়েছিল । আবার কোন কোন দেশ তেমনই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল । যেমন :- 

ক) ইংল্যান্ড : 

কূটনৈতিক বিপ্লবের লাভবান হয়েছিল ইংল্যান্ড । ইংল্যান্ড স্প্রর্শিয়ার সঙ্গে মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিল। ইংল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ফান্স । ফ্রান্সের সঙ্গে ইংল্যান্ডের বাণিজ্যিক , উপনিবেশিক দ্বন্দ্ব ছিল । ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্প্রর্শিয়াকে যুদ্ধে প্রবৃত্ত করে আমেরিকা ও ভারতের সাহায্য প্রেরণের পথ বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয় । দুর্বল অস্ট্রিয়া অপেক্ষা উদীয়মান শক্তি স্প্রর্শিয়াকে মৈত্রী ইংরেজ অধিকারভুক্ত হ্যানোভার রাজ্য রক্ষার জন্য অধিকতর সহযোগিতা করে। 

খ) স্প্রর্শিয়া : 

স্প্রর্শিয়ার দিক থেকেই ইংরেজদের বন্ধুত্ব লাভজনক হয়েছিল । কারণ অস্ট্রিয়ার আক্রমণ থেকে সাইলেশিয়া রক্ষার জন্য এবং ফরাসি আক্রমণ থেকে রাইন অঞ্চল রক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে বন্ধুত্ব সাহায্য একান্ত দরকার ছিল । 

গ) অস্ট্রিয়া : 

ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রিয়ার মূর্তি স্থাপনের পশ্চাতে উদ্দেশ্য ছিল সাইলেশিয়া উদ্ধার করা । সুতরাং দূরবর্তী ইংল্যান্ডের পরিবর্তে নিকটবর্তী ফ্রান্সের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করে অস্ট্রিয়া বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিল । কেননা ফ্রোডারিখ ছিল ইংরেজদের আস্থাভাজন । সাইলেশিয়া উদ্ধারের যুদ্ধে ইংল্যান্ডের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল না । 

ঘ) ফ্রান্স : 

কূটনৈতিক বিপ্লবের রাজনীতিতে ফ্রান্স  বিচক্ষণতা ,দূরদর্শিতা এবং প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে পারেনি । ফ্রান্স যা করেছিলো তা নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক । ফ্রান্সের পক্ষে দুই শতকের বুরবো -হ্যাপসবার্গ  দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে অস্ট্রিয়ার সাহায্য এগিয়ে আসা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ ছিল না । অস্ট্রিয়া ছিল দুর্বল দেশ । স্প্রর্শিয়ার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করার সামরিক শক্তি অস্ত্র ছিল না । অস্ট্রিয়াকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করে ফ্রান্সের শক্তি কোন ভাবে বৃদ্ধি পায়নি । ফ্রান্স আমেরিকা ও ভারতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল । ফান্স সাইলিশিয়া যুদ্ধে জড়িয়ে আমেরিকা ও ভারতের সৈন্য ও অর্থ প্রেরণ করতে ব্যর্থ হয় । ফলে ফ্রান্স সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের পরাজিত হতে বাধ্য হয় । 

অতএব কূটনৈতিক বিপ্লবের ঘটনা বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে , ফ্রান্স অস্ট্রিয়ার সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করে নিজ স্বার্থ ক্ষুন্নকরেছিল । ফ্রান্সের বাণিজ্যিক ও উপনিবেশিক স্বার্থের হানি ঘটে । তবে এই বিপ্লবী অস্ট্রিয়া, স্পর্শিয়া ও ইংল্যান্ড লাইভ হয়েছিল । এতে কোন সন্দেহ নেই । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + 2 =