বানিজ্যবাদ ও শিল্প বিপ্লব

Mercantilism and Industrial Revolution . 

মার্কেন্টালিজম / মার্কেনটাইল বাদ / বানিজ্যবাদ / বনিকবাদ  ( Mercantilism  )

পঞ্চদশ শতাব্দীর ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে ইউরোপের রাজনীতিতে মার্কেন্টাইল বাদ নামে এক অর্থনৈতিক মতবাদ এর প্রভাব সূচিত হয়। মার্কেনটাইল বাদ হলো সরকার রাষ্ট্রের স্বার্থে অর্থনীতিকে বিশেষ করে ব্যবসা ও বানিজ্য কে এমন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে যাতে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করতে পারে। দেশের আমদানি কমিয়ে বা নিরুৎসাহিত করে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় হলো মার্কেন্টাইল বাদ । এ নীতির ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেতে থাকে । তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি কমে যায় । পরবর্তীকালে এই নীতি ভুল প্রমাণিত হয় । 

ভৌগলিক আবিষ্কার ইউরোপীয় দেশগুলোর সামনে সীমাহীন সম্পদের দ্বার খুলে দেয় । আর ইউরোপের প্রত্যেক রাজা চাইলেন তাঁর দেশ ও জনগণ এ সুযোগ থেকে কম বেশি লাভবান হতে পারে । এ মতবাদটি নতুন নয় । ষোড়শ শতাব্দী পূর্বেও এই মতবাদ ছিল । তখনো নগর সরকার তার নাগরিকদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করত ও তত্ত্বাবধায়ন করত ।ব্যবসায়ীদের গিল্ড এবং কারিগরদের গিল্ডের মাধ্যমে এ  নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হতো । কিন্তু ছোট শতাব্দী মার্কেন্টাইলবাদের  প্রভাবে এর বিস্তৃতি ঘটে । এটি নগর থেকে রাষ্ট্র সরকারের হাতে চলে যায় । স্থানীয় গিল্ডের পরিবর্তে রাজা বা রাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে থাকি । যেমন :- পর্তুগালের রাজা দূরপ্রাচ্যের ব্যবসা একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন শুধু লিসবনের উন্নতির জন্য নয় , বরং পুরো পূর্তগীজ  জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য । 

মার্কেন্টাইলবাদের বৈশিষ্ট্য ( Characteristics of Mercantillism )  

মার্কেনটাইলবাদের কতগুলো বৈশিষ্ট্য বা দিক ছিল।  যেমন:- 

১) এ মতবাদ মূল্যবান ধাতব পদার্থ জমা রাখার উপর বিশেষ নজর দিত । একটি দেশে যত বেশি স্বর্ণ ও রেীপ্য থাকবে দেশটি  তত বেশি শক্তিশালী হবে । 

২) কোন দেশ যদি মূল্যবান ধাতব দ্রব্যের  অধিকারী না হয় , তাহলে বাণিজ্যের মাধ্যমে তা তাদেরকে সংগ্রহ করতে হবে । ঐ দেশকে আমদানির তুলনায় প্রচুর রপ্তানি করতে হবে । যাতে করে বিদেশীরা স্বর্ণের মাধ্যমে তা পরিশোধ করে । আমদানি করা হবে শুধুমাত্র এমন দ্রব্য যা দেশে উৎপন্ন হয় না । আমদানির পর ঐ গুলোকে পণ্য রূপান্তরিত করে আবার রপ্তানি  করা হবে। 

৩) প্রত্যেক দেশের কাঁচামালের ব্যাপারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া উচিত। তা না হলে তাকে উপনিবেশ স্থাপনের দিকে যাওয়া উচিত। যাতে করে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় ওই দেশ মূল্যের দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতে পারে। 

৪) উপনিবেশগুলো কে নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রয়োজনের শক্তিশালী নৌবহর গঠন করে বিদেশীরা যাতে বাজার বা কাঁচামালের উৎস বানাতে না পারে তার জন্য বাধা দিতে হবে । উপনিবেশগুলোতে এমন উৎপাদনে যাওয়া ঠিক হবে না যাতে করে মূল দেশের কারখানা বা বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয় । 

মার্কেন্টাইলবাদের  প্রভাবে ইংল্যান্ড তার কাঁচা উল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল । যাতে ইংল্যান্ডের নিজস্ব উল শিল্প বিকশিত হয় । স্পেন ও পর্তুগাল তাদের সাম্রাজ্যে বিদেশী বণিকদের প্রবেশ বা বাণিজ্য নিষেধ করার চেষ্টা করেছিল । আবার অন্যরা চেয়েছিল তাদের নাবিক ও বণিকরা পর্তুগিজরা স্পেনীয়দের মনোপলি ব্যবসা ভেঙ্গে দেশের জন্য প্রচুর সম্পদের ব্যবস্থা করুক । বাণিজ্যিক ও শিল্পের এ প্রতিযোগিতায় হলো মার্কেন্টাইল বাদ। 

মার্কেনটাইলবাদ বিকাশের পটভূমি: 

সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপের ভৌগোলিক আবিষ্কার ও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য প্রসারের ফলে বাণিজ্যিক সহায়তা দানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন :- ব্যাংক ,জয়েন্ট স্টক কম্পানি, বীমা ইত্যাদি গড়ে ওঠে । নিম্নে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।: 

১) ব্যাংক : 

ব্যাংকে অস্তিত্ব মধ্যযুগের থাকলেও গির্জায় সুদ কে ঘৃণা করা এ ব্যবস্থা মূলত ইহুদিদের হাতে ছিল । কিন্তু মধ্য যুগের শেষের দিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার লাভ করায় খ্রিস্টানদের মধ্যে ও ব্যাংক ব্যবস্থা চালু হয় । তবে তাদের মধ্যে প্রথম ব্যাংক গড়ে উঠবে পারিবারিক পর্যায়ে । চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে ফ্লেরেন্সের মেডিসি পরিবার ও জার্মানির ‍অগসবার্গের ফাগার পরিবার উল্লেখযোগ্য ব্যাংকের হিসাবে আবৃত হয় । পরে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে আরো ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় । 

২) বিনিময় বিল : 

হল্যান্ডের শহর আমস্টারডামের একজন ব্যবসায়ী ব্যাংক অব আমস্টারডাম ( Bank of Umsterdum ) এ টাকা জমা দিয়ে বিনিময় বিল ( Bill of Exchange ) ইস্যু করিয়ে নিল । পরে সে ভেনিসের ব্যবসায়ীর নিকট থেকে মালামাল ক্রয় করল । ভেনিসের ব্যবসায়ী বিনিময় বিল নিজের সব ব্যাংকে জমা দিয়ে তার প্রাপ্য টাকা উঠিয়ে দিতে পারল । ব্যাংক দুটি পরে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের লেনদেন মিটিয়ে নিল । প্রথমে এ ব্যবস্থা ইতালিতে শুরু হয় । ক্রমে ক্রমে তা অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে । 

৩) চেক ব্যবস্থার প্রবর্তন : 

আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটায় আমেরিকা থেকে আগত মূল্যবান ধাতুর সরবরাহ ইউরোপে বেড়ে যায় । কিন্তু তারপরেও চাহিদা সরবাহের সঙ্গে তাল মিলাতে পারছিল না । ফলে ব্যাংকগুলো চেক (Cheque )  ব্যবস্থার প্রবর্তন করলো । ব্যাংকে জমা অর্থের বিপরীতে একজন ব্যবসায়ী চেক ইস্যু করতে পারতো । অন্য ব্যবসায়ী টাকার মত মূল্য দিয়ে তা গ্রহণ করে লেনদেন করত । এ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় নগদ অর্থ লেনদেনের পরিবর্তে চেক ব্যবস্থার প্রবর্তনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হলো । 

৪) জয়েন্ট স্টক কম্পানি বা শেয়ার বাজার : 

দূর দেশে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যেতে এবং কারখানা গড়ে তুলতে প্রয়োজন পড়ল প্রচুর পুঁজি যা একজন ব্যবসায়ী যোগাড় করা সম্ভব হতো না । এ সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্ভব হলো জয়েন্ট স্টক কম্পানি বা শেয়ার বাজার । এর মাধ্যমে অসংখ্য লোকের কাছ থেকে ক্ষুদ্র টাকার শেয়ারের মাধ্যমে বিশাল পুঁজি সংগ্রহীত হতে লাগলো । যারা কোম্পানির শেয়ার কিনত তারা কোম্পানির কাজে অংশগ্রহণ করত অথবা করত না । কেউ কাজে অংশগ্রহণ না করলেও সে ব্যবসার যেীথ মালিক ও বিনিয়োগকৃত শেয়ারের আনুপাতিক হারে লভ্যাংশ ভোগ করত । কোন মালিক তার শেয়ার পণ্যদ্রব্যের ন্যায় হস্তান্তর করার অধিকার ছিল । 

৫) বীমা : 

ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার প্রয়োজন দেখা দেয় । এ নিরাপত্তা বাক্যটি পূরণের আশায় সৃষ্টি হলো বীমা কোম্পানি । বীমার স্থিতিকাল ছিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য । যেমন : একটি জাহাজ সাফল্যজনকভাবে গন্তব্য পেীঁছার সময়কাল ব্যাপী । প্রথমে জাহাজ পরিবহনের কথা চিন্তা করে বীমার প্রচলন হয় । পরে মালামাল ও জীবন ইত্যাদির উপর ক্রমেই বীমার প্রচলন শুরু হয় । 

উপরে উল্লেখিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে , পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে ইউরোপের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রচারিত হয়,  ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠে,নতুন বাণিজ্য শহর বিকাশিত হয় ।ব্যবসা-বাণিজ্যের সহযোগিতার জন্য ব্যাংক-বীমা, জয়েন্ট স্টক কম্পানি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান আর্বিভাব ঘটে । ইউরোপের ধন সম্পদের পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকে । বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন পণ্য ইউরোপে প্রবেশ করে । তাদের জীবন স্বাচ্ছন্দে গড়ে ওঠে । 

শিল্প বিপ্লব ( Industrial Revolution  )

বিপ্লব শব্দটি ইংরেজি প্রতিশব্দ Revolution আর বিপ্লব শব্দটির অর্থ হল Overnight Change বা রাতারাতি পরিবর্তন । আঠারো শতকের শেষার্ধে শিল্প উৎপাদন ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয় তাই শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত । শিল্প বিপ্লব কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন ফরাসি সমাজতান্ত্রিক লেখক জেরোমি ব্লাংকি । পরে র্কাল মার্কস এবং এঙ্গেলস শিল্প বিপ্লব শব্দটি ব্যবহার করেন । একে পরিচিত করে তোলেন ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আরনল্ড জে .  টয়েনবি । 

The New Encyclopaedia Britannica এর সংজ্ঞা মতে , শিল্প বিপ্লব বলতে কৃষি ভিত্তিক হস্তচালিত অর্থব্যবস্থা থেকে শিল্প ও যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের এক প্রক্রিয়া কে বুঝায় । “ 

অধ্যাপক উইলিয়ামসের  মতে, ” আঠারো শতকের শেষ দিক হতে উনিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ,জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রয়োগ পদ্ধতিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা দেয় তাই শিল্পবিপ্লব । “ 

অধ্যাপক অমিত সেন বলেন ,” গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে উঠেছিল উৎপাদনের যে অবস্থার মধ্যে ইতিহাসে তার নাম দেওয়া হয়েছে শিল্প বিপ্লব । “ 

ফিলিস ডিন  এর মতে ,” অর্থনীতিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো শিল্পবিপ্লব বোঝায় । যেমন :- 

ক) কুটির শিল্পের পরিবর্তে যন্ত্রচালিত পুঁজিবাদী শিল্পের বিকাশ , 

খ) উৎপাদনের কাজে নতুন যন্ত্রপাতি ব্যবহার ,

গ) যন্ত্র চালানোর জন্য বাষ্পের ব্যবহার ,

ঘ) কারখানায় পণ্য উৎপাদনের জন্য শ্রমিক নিয়োগ , 

ঙ) উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে মুনাফা অর্জন  এরং 

চ) মূলধন যোগানোর জন্য ব্যাংক, বীমা, স্টক এক্সচেঞ্জ প্রভৃতি অর্থনীতি সংস্থার উদ্যোগ । 

উপরের উল্লেখিত  আলোচনা থেকে কথা বলা যায় যে , মানুষের কায়িক শ্রমের পরিবর্তে উৎপাদন প্রক্রিয়ার যন্ত্রের প্রয়োগের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় যে বিশাল পরিবর্তন ঘটে ইউরোপের ইতিহাসে তা শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত । এর ফলে শিল্পের কাঠামো , ব্যবস্থাপনা ,সংগঠন ,মূলধন ও উৎপাদন পদ্ধতির মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় ।  অল্প সময়ে অধিক উৎপাদন করা সম্ভব হয় । মানুষের ধন সম্পদ সুখ-স্বাচ্ছন্দ বৃদ্ধি পায় । অর্থনীতি সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সাধিত হয় ।এটি প্রথমে ইংল্যান্ডে শুরু হয় পরে ইউরোপের অন্যান্য দেশের ছড়িয়ে পড়ে । 

শিল্প বিপ্লবের কারণ ( Causes of Industrial Revolution  )

আঠারো শতকের শেষার্ধে ইংল্যান্ডের কৃষি, শিল্প, খনিজ সম্পদ আহরণ ,যাতায়াত ব্যবস্থা ,প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সাধিত হয় যা সামগ্রিকভাবে শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত । শিল্প বিপ্লব কোন আকস্মিক ঘটনা ছিল না । দীর্ঘদিন যাবৎ শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এর প্রস্তুতি চলছিল । অষ্টাদশ শতকের শেষে গিয়ে তা বিকশিত হয় । নিচে শিল্প বিপ্লবের বিকাশ / কারণ সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো : 

১) মূলধন গঠন : 

শিল্প স্থাপনের জন্য মূলধন একান্ত প্রয়োজন । অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হওয়ার ফলে বনিক পুঁজির বিকাশ লাভ করে ।উন্নত প্রথায় কৃষি খামার পরিচালিত হওয়ায় একশ্রেণীর ভূস্বামী অর্থশালী হয় । একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংগঠন যেমন ব্যাংক-বীমা , স্টক এক্সচেঞ্জ উদ্ভব হয়। ফলে জনগণের সঞ্চয় কে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগের সাহায্য করে । এতে যেমন মুনাফার হার বৃদ্ধি পায় তেমনি শিল্পপতিদের হাতে নতুনভাবে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের সমাগম হয় । এভাবে মূলধন গড়ে ওঠায় শিল্প বিকশিত হয় । 

২) প্রযুক্তির আবিষ্কার ও ব্যবহার : 

ইংল্যান্ডের প্রযুক্তির উন্নতি শিল্প বিপ্লবের অন্যতম কারণ । অষ্টাদশ শতকে শিল্প উৎপাদনের বহু যন্ত্র ও প্রযুক্তি আবিষ্কার হয় । ১৯৩৩ সালে জন কে Flying Shuttle নামক এক ধরনের বৈজ্ঞানিক মাকুর আবিষ্কার করেন যা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক পরিবর্তন আনে ।১৭৬৪ সালে হারগ্রিভস আবিষ্কার করেন সুতা উৎপাদনের নতুন যন্ত্র , নাম স্পিনিং জেনি। ১৭৬৮ সালে রিচার্ড আর্করাইট আবিষ্কার করেন সুতা কাটার কল Water Frame । ১৭৭৯ সালে স্যামুয়েল ক্রম্পটন  আবিষ্কার করেন সুতা উৎপাদনের মিউল( Mule ) নামক এক উন্নত যন্ত্র ।১৭৮০  সালে এডমন্ড কার্টরাইট আবিষ্কার করেন বয়ন যন্ত্র Power Loom . । ১৭৬৯ সালে জেমস ওয়ার্ট আবিষ্কার করেন বাষ্পীয় ইঞ্জিন বা Steam Engine । বয়ন শিল্প ও পরিবহন খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে । ১৮৭৪ সালে স্টিফেনসন আবিষ্কার করেন চলমান ইঞ্জিন । ১৮১৫ সালে হামফ্রে ডেভি আবিষ্কার করেন উনি করতে খনিগর্ভে  কাজ করার জন্য Safety Lamp । ১৭৪০ সালে  রোবাক ও হেনরিকাট লৌহ শিল্পের উন্নতি সাধন করেন । ১৬৬০ থেকে ১৭২৯ সাল পর্যন্ত সরকারি অফিসে নিবন্ধনকৃত উৎপাদন কৌশল এর সংখ্যা ছিল ২৭০ । অপরদিকে ১৭৬০ থেকে ১৭৮৯ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০০ তে । এর থেকেই বোঝা যায় যে,  আঠার শতকের প্রযুক্তি কিভাবে উন্নতি লাভ করেছিল যা শিল্পবিপ্লবের বড় ভূমিকা রাখে । কুটির শিল্পের পরিবর্তে যন্ত্রচালিত পুঁজিবাদী শিল্পের বিকাশ ঘটে । 

গ) যোগাযোগ ব্যবস্থা : 

এ সময় পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয় । নতুন নতুন রাস্তা ,খাল খনন ইত্যাদি নির্মিত হয়  । জলপথের সম্প্রসারণ ঘটে । স্টিমার রেলগাড়ি নির্মিত হয় । রেলগাড়ি, ইস্টিমার, মুদ্রণযন্ত্র বাষ্পীয় ইঞ্জিন দ্বারা চালিত হয় । পূর্বে শীতের পর রাস্তা কাদাযুক্ত হয়ে যেত যানবাহন চলাচলের অসুবিধা হত ।টেলফোর্ড ও ম্যাকডম রাস্তা নির্মাণের নতুন কৌশল উদ্ভাবন করা এই সমস্যার সমাধান হয় । যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে শিল্পপণ্য এক স্থান থেকে অন্যস্থানে, এক দেশ থেকে অন্যদেশে আনা-নেওয়া করা সহজ হয় । এতে শিল্পের বিকাশ ঘটে । 

৪) বাজার সৃষ্টি : 

ইংল্যান্ডের সরকার বনিকবাদ নীতি অনুসরণ করে উপনিবেশ স্থাপন ,বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ , উপনিবেশগুলো আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নানা উপায়ে বাজার সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে । উপনিবেশগুলো থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে তা থেকে কলকারখানায় শিল্প দ্রব্য উৎপাদন করে আবার ঐ সকল দেশে বিক্রি করত । ইংল্যান্ড ছিল বড় উপনিবেশ স্থাপনকারী এবং বাজার সৃষ্টিকারী দেশ যা শিল্পবিপ্লবে বিশেষ ভূমিকা রাখে । 

৫) জনসংখ্যা বৃদ্ধি : 

আঠারো শতকের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় , গড় আয় বৃদ্ধি পায় , বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় । এতে শিল্প পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায় । আবার বর্ধিত জনসংখ্যার কৃষির পাশাপাশি শিল্প কলকারখানার উৎপাদন কাজে নিয়োজিত হয় । ১৭৫০ সালের পর থেকেই মৃত্যুর হার কমতে থাকে আর জন্মহার বৃদ্ধি পেতে থাকে । ১৭৫১ সনে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মোট জনসংখ্যা ছিল ৬.১মিলিয়ন । ১৯৩১ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৩২  মিলিয়নে ।বর্ধিত  জনগণের জন্য যেমন:- অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পায় , তেমনি বৈদেশি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায় । 

৬) প্রকৃতির অবদান : 

ইংল্যান্ডের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য শিল্প বিপ্লবের সহযোগিতা করে । দেশের আর্দ্র আবহাওয়া বয়ন শিল্পের উন্নয়নে সাহায্য করেছিল । কেননা এর ফলে কাপড় বুননের সময় সুতা ছিড়ে যেত না । মাটির নিচে কয়লা ও লোহার অফুরন্ত সঞ্চয় এবং কয়লা ও লোহার খনিগুলো পরস্পর কাছাকাছি থাকায় এগুলোর আহরণ সহজ হয়েছিল । দেশের খালগুলো বিভিন্ন নদ-নদীকে যুক্ত করায় জলপথের উন্নয়ন সহযোগী ছিল । 

৭) অনুকূল পরিবেশ পরিস্থিতি : 

ইংল্যান্ডের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা শিল্প বিপ্লবের ত্বরান্বিত করেছিল । যেখানে ছিল বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় সহিংসতা ,যুক্তি,বিজ্ঞান ,দর্শন ,সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মুক্ত পরিবেশ । অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ছিল সরকার কর্তৃক অবাধ নীতি যা বিপ্লবের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল । 

৮) কৃষি বিপ্লব : 

কৃষি বিপ্লব ছিল শিল্প বিপ্লবের অন্যতম প্রধান কারণ । কেননা কৃষি বিপ্লবের ফলে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় । এতে শিল্পের কাঁচামাল অধিক পরিমাণে পাওয়া যায় । আর কাঁচামাল হলো শিল্প পণ্য উৎপাদনের হাতিয়ার । তাই শিল্পবিপ্লবে , কৃষি বিপ্লবের ভূমিকা ছিল অসাধারণ । 

শিল্প বিপ্লবের ফলাফল ( Result of Industrial Revolution  )

ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের ফলাফল ছিল ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী । দেশের অর্থনৈতিক ,সামাজিক, রাজনৈতিক, বৈদেশিক সম্পর্কে মানুষের জীবন ও চিন্তা-চেতনার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এ বিপ্লবের প্রভাব অনুভূত হয়েছিল । নিম্নে শিল্প বিপ্লবের ফলাফল আলোচনা করা হলো : 

১) অর্থনৈতিক (Economic ) 

ক) শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি: 

কায়িক শ্রমের  পরিবর্তে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয় । ফলে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায় । ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের মোট জাতীয় উৎপাদন শিল্প খাতের অবদান ২৩,৪% থেকে৩৬.৫% বৃদ্ধি পায় । ইংল্যান্ড কৃষি প্রধান দেশ থেকে শিল্প প্রধান দেশে পরিণত হয় । 

খ) বাণিজ্য বৃদ্ধি : 

শিল্প বিপ্লবের ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় । আমদানি হতো কাঁচামাল আর খাদ্যশস্য । রপ্তানি হতো শিল্পজাত পণ্য । ইংল্যান্ডের শিল্প পণ্য পৃথিবীর সব দেশে রপ্তানি হতো । এই কারণে ইংল্যান্ডকে বলা হতো পৃথিবীর কারখানায় ( Workshop of the world ) একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার ঘটে । এভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে এক নবযুগের সূচনা হয়। 

গ) পুঁজিবাদের উদ্ভব: 

উৎপাদন ব্যবস্থার সবটাই পুঁজিপতিদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎপাদিত পণ্য দেশে বিদেশে বিক্রি করে তারা লাভবান হয়। এভাবে সঞ্চিত মূলধন দ্বারা তারা আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এভাবে নতুন পুঁজিপতিরা নতুন কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে আসে। এভাবে শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থায় পুঁজিপতিদের হাতে চলে যায়। তারা ধনী থেকে আরো বেশি ধনী হতে থাকে। মাথাপিছু গড় আয় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আয় বন্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। 

ঘ) নতুন নতুন শহরের আর্বিভাব:

শিল্প বিপ্লবের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় বড় কারখানা গড়ে ওঠে। এসব কারখানায় গ্রাম থেকে আগত বিলুপ্ত সংখ্যক মানুষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। ফলে নতুন নতুন শহর গড়ে ওঠে। পুরাতন শহর আরো বড় হয়। গ্রামের জনসংখ্যা কমতে থাকে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আঠারো শতকের মধ্যভাগে ইংল্যান্ডের ১৫% জনসংখ্যা বাস করত শহরে । ১৮০১ এবং ১৮৪১ সনে শহরের জনসংখ্যা দাঁড়ায় ২৫% ও ৬০% । 

২) সামাজিক ( Social ) 

ক) মধ্যবিত্ত বা বুর্জোয়া শ্রেণীর বিকাশ : 

শিল্প বিপ্লবের ফলে ধনী ব্যবসায়ী ও উঠতি শিল্পপতি শ্রেনী গড়ে উঠে যারা মধ্যবিত্ত শ্রেণী বা বুর্জোয়া শ্রেণি নামে পরিচিত । ধীরে ধীরে বুর্জোয়া শ্রেণীর ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় । অভিজাত শ্রেণী এতদিনে যে অপ্রতিদ্বন্দ্বি ক্ষমতা ভোগ করে আসছিল তা লোপ পায় । সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রাধান্য বিস্তার করে । 

খ) শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব : 

শিল্প বিপ্লবের ফলে ভূমিহীন চাকরি- সম্বল শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব হয়। এরা গ্রাম থেকে শহরে এসে কারখানায় শ্রমিক হিসেবে জীবন যাত্রা শুরু করে। এরা কঠোর পরিশ্রম করে যা  উপার্জন করতো তা দিয়ে সংসার চালাতে পারতো না । তখন সংসারের নারী ও শিশুদেরকে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হতো । কলকারখানা বুলুফিলন নোংরা, অস্বাস্থ্যকর । যন্ত্রপাতিগুলো এমনভাবে রাখা হতো শ্রমিকদের জীবনের কোন মূল্যই ছিল না । এঅবস্থায় শিশু ও নারী শ্রমিকদের দৈনিক ১৬-১৭ ঘন্টা কাজ করতে হতো । এদের বাসস্থান ছিল নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর । এভাবে শিল্প বিপ্লবের ফলে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধি পায় । একদিকে ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতি শ্রেণীর উদ্ভব হয় অন্যদিকে দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকশ্রেণী ও গড়ে ওঠে। 

৩) রাজনৈতিক ( Political ) 

ক) রাজনীতিতে ভূস্বামী ও অভিজাতদের একচেটিয়া ক্ষমতা লোপ পায় । রাজনৈতিক ক্ষমতা ধীরে ধীরে পুঁজিপতিদের হাতে চলে যায় ।

খ) নিজেদের অবস্থার উন্নতির জন্য শ্রমিকশ্রেণির সঙ্ঘবদ্ধ হবার উপলব্ধি করে এবং ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন শুরু করে । এ লক্ষ্যে শ্রমিক দল( Labour Party )  গঠিত হয় । শ্রমিক শ্রেণীর ধর্মঘট, আন্দোলন ইত্যাদির মাধ্যমে মালিকদের নিকট তাদের দাবি পেশ করে । ফলে নিম্নতম মজুরি , শ্রমঘণ্টা , বাসস্থান , বীমা প্রবৃতি আইন পাশ হয় । একপর্যায়ে শ্রমিক শ্রেণীর ভোটাধিকার লাভ করে । 

গ) শিল্প বিপ্লবের ফলে অনেক নতুন শহর গড়ে উঠে , অনেক পুরাতন শহর ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । এতে জনসংখ্যার ঘনত্বের ব্যাপক রদবদল হয় । সেজন্য পার্লামেন্টের সংস্কার প্রয়োজন দেখা দেয় । 

ঘ) বেশি মুনাফার লোভে বাড়তি পণ্য বিক্রয় জন্য বিদেশে বাজার দখলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় । এ লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উপনিবেশ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তীব্র আকার ধারণ করে । 

সমাজতান্ত্রিক মতবাদ ( Sociolism )  

দার্শনিক ও চিন্তাবিদরা সমাজের সম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য ও শ্রমিকদের দুর্দশা এবং দরিদ্র কথা ভেবে এর প্রতিকারের চিন্তা করেন । তারা বলেন শ্রমেই হলো  সম্পদের উৎস আর কাঁচামাল প্রাকৃতিক সম্পদ । এতে সকলের সমান অধিকার আছে । কারখানার মুনাফা শ্রমিকের এই প্রাপ্য ,মালিকের নয় ।রাষ্ট্রের উচিত শিল্পের রাষ্ট্রয়ত্তকরনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা । এভাবে সমাজতান্ত্রিক মতবাদ এর বিকাশ ঘটে । এ মতবাদের প্রধান প্রবক্তা হলেন কার্ল মার্কস । 

১৮ সত্যকে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব সাধিত হওয়ার কারণ ( Causes of Industrial Revolution in England in the 18th Century .  )

শিল্প বিপ্লবের জন্য যে সকল সহায়ক উপাদান এর দরকার তার সবগুলোই এই সময় ইংল্যান্ডের ঘটেছিল । যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ , বণিক ,পুঁজির বিকাশ ,অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ,কৃষিতে বিপ্লব ,খনিজ দ্রব্য , ব্যাংক-বীমা, স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত, উদার রাজনীতি ও অর্থনীতি । আর এগুলো সবই হয়েছিল 18 শতকে । এসব কারণে ১৮ শতকে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সাধিত হয় । 

পরিশেষে বলা যায় যে , শিল্প বিপ্লব কোন আকস্মিক ঘটনা নয় । এটার দীর্ঘদিনের সাধনার ফসল । ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব সম্ভব হয়েছিল এজন্য যে , প্রায় একই সময় ব্যাপী শিল্প ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তনের জন্য সহায়ক উপাদানের সমন্বয় ঘটেছিল । শিল্প বিপ্লব আর্থসামাজিক ও রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন সাধন করে । মালিক-শ্রমিক তথা ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায় । এরই এক পর্যায়ে শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘব করার জন্য সমাজতান্ত্রিক মতবাদের উদ্ভব হয় । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × = 3