ভারতবর্ষের ভূ -প্রকৃতি

( Physical Features of India ) 

১) ভূ-প্রকৃতি অনুসারে ভারতীয় উপমহাদেশ কে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ? 

২) ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ সমূহের বিবরণ দাও ? 

একটি মহাদেশের দক্ষিণাংশে সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ হলো ভারত বর্ষ । ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পূর্বে ভারতের মোট আয়তন ছিল প্রায় ৪০,৯৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার । বিশাল আয়তন, জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক বৈচিত্রের জন্য ভারত বর্ষ উপমহাদেশ নামেই সমধিক পরিচিত । ভারত বর্ষ চারদিকে প্রাকৃতিক সীমারেখা দ্বারা বেষ্টিত । এর উত্তরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় অবস্থিত । দেড় হাজার মাইল দীর্ঘ এই সুবিশাল পর্বত প্রাচীর ভারতবর্ষকে এক স্বতন্ত্র জগতে রক্ষা করেছে । হিমালয়ের উচ্চতা ও উত্তর দিক থেকে ভারত বর্ষ আক্রমণের পক্ষে একটা মস্ত প্রতিবন্ধক । উত্তর-পশ্চিমের হিন্দুকুশ ও সুলেমান পর্বতমালা একদিকে যেমন ভারতবর্ষকে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে পৃথক করে রেখেছে , অন্যদিকে উত্তর-পূর্বে আরাকান সড়ক পর্বতমালা মায়ানমার থেকে ভারতকে বিচ্ছিন্ন করেছে । অপরদিকে অর্থাৎ পূর্ব -পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতবর্ষ বঙ্গোপসাগর , আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে আছে । 

ভৌগলিক বিভাগ : 

ভূ প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভারতবর্ষকে প্রধান চারটি অঞ্চলে ভাগ করা যায় যথা : 

১) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল , 

২) সিন্ধু , গঙ্গা , ব্রহ্মপুত্র বিধেীত সমতল ভূমি ,

৩) মধ্য ভারত ও দক্ষিনাত্যের  মালভূমি , 

৪) সুদূর দক্ষিণের উপকূল ভাগ । 

১) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল : 

তরাই অঞ্চল হতে হিমালয়ের শীর্ষদেশ পর্যন্ত ক্রম- উচ্চতা বিশিষ্ট ভূ-ভাগ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত । কাশ্মীর , কাংগ্রা , টেইরী , কুমাউন , নেপাল , সিকিম, ভুটান প্রভৃতি পার্বত্য দেশগুলো এই অঞ্চলে অবস্থিত । এই অঞ্চলের সাথে সাথে রয়েছে তিনটি বিখ্যাত গিরিপথ যেমন : – খাইবার , বোলান ও গোলান । এই সকল গিরিপথ অতিক্রম করেই পারসিক , গ্রিক , শক ,আফগান ও মঙ্গলরা  ভারতবর্ষ আক্রমণ করে । এই অঞ্চলের অধিবাসীগনেই সর্ব প্রথম বিদেশি আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে । যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের উপর ভারতবর্ষের সমতলভূমির রাজনীতির তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি । একারণেই পার্বত্য অঞ্চলের দেশগুলো দীর্ঘদিন নিজ নিজ স্বাধীনতা বজায় রাখতে সক্ষম হয় । 

২)  সিন্ধু , গঙ্গা , ব্রহ্মপুত্র বিধেীত সমতল ভূমি : 

 পশ্চিমে  সিন্ধুর ব-দ্বীপ হতে দক্ষিণ – পূর্বে গঙ্গা-ব্রক্ষপুত্রের ব-দ্বীপ প্রসারিত বিশাল সমতল অঞ্চলকে সিন্ধু,  গঙ্গা -ব্রহ্মপুত্র বিধেতিম সমতল ভূমি বলা হয় । এ ধরনের নামকরণের প্রধান কারণ হলো সিন্ধু ,গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও তাদের শাখা নদী গুলো এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত । এর ফলে এই বিশাল ভুখন্ডের বেশিরভাগ স্থানেই অত্যন্ত উর্বর এবং প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ । এই অঞ্চলের জনবসতি ও ঘণ । প্রাচীন যুগ থেকেই এই অঞ্চলের বিভিন্ন নগর ও সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে । এই অঞ্চলেই ভারত ইতিহাসের যুগান্তকারী যুদ্ধগুলো যথা – তরাইনের যুদ্ধ ,পানিপথের যুদ্ধ, পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় । মোটকথা গাঙ্গেয় সমতল ভূমি ছিল ভারত ইতিহাসের কেন্দ্রস্থল । এখানে উল্লেখ্য যে , এই গাঙ্গেয় সমভূমিতে রয়েছে রাজস্থানের মরুভূমি ও পৃথিবীর প্রাচীনতম আরাবল্লী পর্বতমালা । সিন্ধু অববাহিকা কে গঙ্গা থেকে পৃথক করে রেখেছে রাজস্থানের মরুভূমি এবং কয়েকটি ক্ষুদ্র পাহাড় । রাজস্থানের মরু অঞ্চল প্রায় সব সময় শুষ্ক থাকে । 

৩) মধ্য ভারত ও দক্ষিন্যাত্যের মালভূমি : 

উত্তর ভারতের দক্ষিণ হতে বিন্ধ্য-সাতপুরা পর্যন্ত এবং পশ্চিমে আরাবল্লী হতে পূর্বে ছোট নাগপুর , বঙ্গদেশ ও উড়িষ্যার প্রাপ্ত  পর্যন্ত ভারতের মালভূমি বিস্তৃত । এই অঞ্চল অনেকগুলো ছোট-বড় পাহাড় এবং বিশাল অরণ্য সমাকীর্ণ । স্বাভাবিকভাবে এই অঞ্চলের জমির তেমন উর্বর নয় এবং জনবসতি ও কম । 

বিন্দা পর্বত এর দক্ষিণ হতে কৃষ্ণ- তুঙ্গভদ্রা নদীর উত্তরের ভূ-ভাগকে দক্ষিণের মালভূমি বলা হয় । এই অঞ্চলের উপর দিয়ে নর্দমা , তাপ্তি , গোদাবরী , কৃষ্ণা , কাবেরী প্রবৃত্তি খরস্রোতা নদী প্রবাহিত হয়েছে । এই মালভূমির মধ্যেই ভারতের মহারাষ্ট্র , কর্ণাটক ও অন্ধপ্রদেশ অবস্থিত । এই অঞ্চলেই প্রাচীনকালে রাষ্ট্রকূট ও চালুক্য উদ্ভব ঘটে । 

৪) সুদূর দক্ষিণের উপকূল ভাগ : 

কৃষ্ণা ও তুঙ্গ ভদ্রা নদীর দক্ষিণে অংশটিকে সুদূর দক্ষিণ ( Far South )  বা  দক্ষিণের উপকূল ভাগ বলা হয় । ভৌগলিক দিক হতে দক্ষিণের মালভূমির সঙ্গে এই অঞ্চলের কোন অলঙ্ঘ্য ব্যবধান নেই । তবে দক্ষিণের মালভূমির সঙ্গে সুদূর দক্ষিণের পার্থক্য এই যে , সুদূর দক্ষিণ ছিল দ্রাবিড় সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র । এই অঞ্চলে উত্তর ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে খুব কম । এই অঞ্চলের জমি ছিল বেশ উর্বর । সমুদ্রপথে ব্যবসা-বাণিজ্য জন্যেও এই অংশটি ছিল উপযুক্ত । এখানেই মসলা , চন্দনকাঠ , গজদন , মুক্তা প্রভৃতি রাজ্যগুলো এ অঞ্চলে গড়ে ওঠে । প্রাচীনকালে এই অঞ্চল হতেই ভারতীয়গন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপনিবেশ ও সাম্রাজ্য স্থাপন করে । যুগে যুগে হিন্দু ও মুসলিম শাসকগণ সুদূর দক্ষিনে প্রভুত্ব স্থাপনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন । 

পরিবেশ ও ইতিহাসের উপর ভৌগলিক প্রভাব : 

১) ভারতের ইতিহাসে প্রকৃতির প্রভাব আলোচনা করো ? 

২) ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ সমূহের বিবরণ দাও । ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রকৃতির প্রভাব বর্ণনা করো । 

ভারতবর্ষের পরিবেশ এবং ইতিহাসের উপর ভৌগলিক প্রভাব ছিল অপরিসীম । নেমে উহার প্রভাব সমূহ আলোচনা করা হলো : 

ক) হিমালয়ের প্রভাব : 

প্রথম , ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে হিমালয় পর্বতমালা এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে । ঐতিহাসিক পানিকরের ভাষায় , “ ভারতীয় ভূগোলের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হল হিমালয় । “ উত্তরে হিমালয় বিশাল প্রাচীরের মতো যুগ যুগ ধরে ভারতকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছে । ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রেও হিমালয়ের প্রভাব কম ছিল না । হিমালয়ের কারণেই ভারতের নিজস্ব ধারায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে । 

দ্বিতীয়ত , অসংখ্য নদ নদীর উৎপত্তি স্থল হিমালয় । হিমালয় হতে নির্গত বৃহৎ নদী সিন্ধু ,গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ও তাদের অসংখ্য উপনদী ভারতভূমিকে করে তুলেছে সুফলা- সুজলা । এই নদীত্রয়  বিধেীত অঞ্চলের এই বিকাশ ঘটে ভারতীয় সভ্যতার । এখানে গড়ে ওঠে এক সমৃদ্ধ , ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি । 

তৃতীয়ত , ভারতবর্ষের ইতিহাস প্রায় উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আগত আক্রমণকারীগনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে । আর্য ও মুসলমানরা গঙ্গা নদীর প্রবাহ অনুসরণ করে প্রথমে আর্যাবর্তের আধিপত্য বিস্তার করে । অতঃপর তারা বিন্ধ্যপর্বত অতিক্রম করে দক্ষিণাত্যে উপস্থিত হয় । দিল্লি ছিল গাঙ্গেয় উপত্যকার শীর্ষস্থানে অবস্থিত । এ কারণে ইতিহাসের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ :- তরাইনের দুইটি যুদ্ধ এবং পানিপথের তিনটি যুদ্ধ দিল্লির সংলঙ্গ অঞ্চলেই সংঘটিত হয় । 

খ) বিন্ধ্য পর্বতমালার প্রভাব : 

হিমালয়ের ন্যায় বিন্ধ্য পর্বতমালা ও ভারত ইতিহাসের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে।  বিন্ধ্য পর্বতমালায় দক্ষিণাত্যেকে উত্তর ভারত থেকে পৃথক করে রেখেছে। ফলে উত্তর ভারতের প্রভাবমুক্ত হয়ে দক্ষিণাত্যে স্বতন্ত্রতা দ্রাবিড় সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে  । তবে বহু শত পূর্বে ভারতে অনুপ্রবেশ কারী আর্যগন  প্রমাণ করে যে , এই সুউচ্চ এবং বহুদূর বিস্তৃত পর্বতমালা প্রকৃতপক্ষে অনতিক্রম্য নহে । পুরানে বর্ণিত অগস্ত বিন্ধ্যপর্বত অতিক্রম এর কাহিনী অনুসরণ করে আর্যরাও দলে দলে দক্ষিণাত্যে বসতি স্থাপন করে । পরবর্তীকালে মৌর্য, গুপ্ত ,খলজী ,ও মোঘলরা বহুবার এই পর্বতমালা অতিক্রম করে এক ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করে । 

গ) নদ নদীর প্রভাব : 

ভারতীয় সভ্যতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নদনদীর প্রভাব ছিল অপরিসীম । প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতা যেমন :- তাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে এবং মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে গড়ে ওঠে , তেমনি প্রাচীন যুগের সিন্ধু নদীর উপত্যকায় মহেঞ্জোদাড়ো  ও হরপ্পা সভ্যতা উদ্ভব ঘটে । অনুরূপভাবে দ্রাবিড় সভ্যতার উন্মেষ হয় দক্ষিণাত্যে গোদাবরী, কৃষ্ণা, তুঙ্গভদ্রা ও কাবেরী উপত্যকায় । পাঞ্জাবের নদীসমূহ ও গঙ্গা নদী উত্তর ভারতের আর্য সভ্যতার গতি ও প্রকৃতি বহুলাংশে নির্ধারণ করেছে । প্রাচীনকাল থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদী গুলো বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার জন্য বড় বড় নদীর তীরে বন্দর গড়ে উঠেছে। আর্যাবর্তের বড় বড় নগরগুলো গঙ্গা এবং তার শাখা নদী গুলোর তীরেই অবস্থিত । দক্ষিণ ভারতের বড় বড় শহরগুলো নদীর তীরে গড়ে উঠেছে । আবার নদীর গতিপথ পরিবর্তনের অনেক নগরের পতন ঘটেছে । 

ঘ) সমুদ্রের প্রভাব : 

ভারত ইতিহাসের গতি ও প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণে পর্বতমালার ন্যায় সমুদ্র বিশেষ ভূমিকা পালন করে । ভারত উপমহাদেশের তিন দিকে সমুদ্র । ভারতের দক্ষিণ- পশ্চিম ও দক্ষিণ- পূর্ব ভারত মহাসাগর, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই সমুদ্র গুলো একদিকে যেমন ভারতকে বিদেশি আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছে অপরদিকে সমুদ্র গুলো দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য- এশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে।  এই বাণিজ্যের পথ ধরেই একসময় ভারতীয় সভ্যতা ,সংস্কৃতি ও উপনিবেশ পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে গড়ে ওঠে । আজও পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির নিদর্শন বিদ্যমান । মধ্যযুগের সমুদ্র পথেই  আরব বণিকেরা ভারতবর্ষের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করে । আধুনিক যুগের সমুদ্র পথ ধরেই , পূর্তগীজ , ইংরেজ ,ফরাসি, ডাচ প্রভৃতি ইউরোপীয় বণিকদের ভারতে আগমন ঘটে । ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ভারতবর্ষে ইংরেজদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয় । 

ঙ) সংস্কৃতির উপর প্রভাব : 

ভারতীয় সংস্কৃতির উপরেও ভৌগলিক প্রভাব বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় । উত্তর ভারতে যেখানে আর্য সভ্যতা ও সংস্কৃতি ছিল প্রধান সেখানে দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয় । আবার উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে এমন কিছু অঞ্চল আছে যেখানে ভারতের আদিম অধিবাসীরা বসবাস করত । এসব আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা আজ ও সেখানে তাদের আদিম চরিত্র টিকিয়ে রেখেছে । 

চ) আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব : 

ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ আবহাওয়া ও ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য ভারতীয় জনগণের চরিত্রের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে । পাহাড় ও বনায়ন অঞ্চলে সহজভাবে জীবিকা অর্জন ছিল কষ্টসাধ্য। স্বাভাবিকভাবে এখানকার মানুষরা সাহসী, পরিশ্রমী ও স্বাধীনচেতা হয়। জীবন ধারনের প্রয়োজনেই এসব অঞ্চলের মানুষ প্রতিবেশী সমতল অঞ্চলকে আক্রমণ ও লুণ্ঠন করত । স্বাধীনতার জন্য উত্তর-পশ্চিম ভারতের পাহাড়ি অধিবাসীদের সংগ্রাম এবং রাজপুত ও মারাঠা জাতি কর্তৃক দিল্লির সম্রাট দের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় । অপরপক্ষে , উর্বর সমভূমিতে বসবাসকারী জনগণ হয় কম পরিশ্রমে ও আরামপ্রিয় । সমতল ভূমিতে জীবনযাত্রা সহজ হওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবে এলাকার জনগণ সাহিত্য , দর্শন ও আধ্যাত্মিক সাধনায় আত্মনিয়োগ করে । উত্তর ভারতের সমৃদ্ধ অঞ্চল এই প্রতিবাদী বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে । 

  • ভারত উপমহাদেশের হিমালয়ের প্রভাব আলোচনা করো । 
  • ভারতীয় উপমহাদেশে বিন্ধ্য পর্বতমালার প্রভাব আলোচনা করো । 
  • ভারতীয় উপমহাদেশে নদনদীর ও সমুদ্রের  প্রভাব আলোচনা করো । 
  • ভারতবর্ষের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সংস্কৃতি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব আলোচনা করো । 

১) ১৯৪৭  সালের ভারত বিভক্তির পূর্বে ভারতের মোট আয়তন কত ছিল ? 

উত্তর : প্রায় ৪০,৯৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার । 

২) ভারতবর্ষের উত্তর দিকে কোন পর্বতমালা অবস্থিত ? 

উত্তর : হিমালয় । 

৩) হিমালয় পর্বতমালা কোন মহাদেশে অবস্থিত ? 

উত্তর : এশিয়া মহাদেশ । 

৪) হিমালয় ভারতবর্ষের কোন দিকে অবস্থিত ? 

উত্তর : উত্তর দিকে । 

৫) কোন পর্বত ভারতকে দুই ভাগে ভাগ করেছে? 

( Which mountain divides India between two divisions ? ) 

উত্তর : বিন্ধ্যপর্বত ভারতকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে । 

৬) ভারতবর্ষের বর্তমান আয়তন কত ? 

উত্তর : ৩২,৮৭,২৬৩ বর্গ কিলোমিটার । 

৭) প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতা কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ? 

উত্তর : তাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস । 

৮) মিশরীয় সভ্যতা কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ? 

উত্তর : নীল নদীর তীরে । 

৯) মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা সভ্যতা কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ?

উত্তর : সিন্ধু নদীর তীরে । 

১০) পৃথবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা কোনটি ? 

উত্তর : হিমালয় । 

১১) হিমালয় পর্বত কোথায় অবস্থিত ? 

উত্তর : ভারতের উত্তরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় অবস্থিত । 

১২) হিমালয় পর্বতের দীর্ঘ কত ? 

উত্তর : দেড় হাজার মাইল । 

১৩) ভূ প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভারতবর্ষকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।  সেগুলো কি কি ? 

উত্তর : চারটি অঞ্চলে, ক) উত্তর পার্বত্য অঞ্চল ,খ) সিন্ধু ,গঙ্গা -ব্রহ্মপুত্র বিধেীত সমতল ভূমি । গ)মধ্য ভারত ও দাক্ষিনত্যের  মালভূমি  , ঘ) সুদূর দক্ষিণের উপকূল ভাগ । 

১৪) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল কোন কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ? 

উত্তর : তরাই অঞ্চল হতে হিমালয়ের শীর্ষ দেশ পর্যন্ত ক্রম-উচ্চতা বিশিষ্ট ভূ-ভাগ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত । কাশ্মীর কাংগ্রা, টেইরী কুমাইন, নেপাল, সিকিম , ভুটান প্রকৃতি পার্বত্য দেশগুলো এই অঞ্চলে অবস্থিত । 

১৫) ভারতবর্ষের কোন অঞ্চল নিয়ে সিন্ধু- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বিধেীত সমতল ভূমি গঠিত ? 

উত্তর : পশ্চিমের সিন্ধুর ব-দ্বীপ হতে দক্ষিণ-পূর্বে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রর ব-দ্বীপ প্রসারিত বিশাল সমতল অঞ্চলকে সিন্ধু -গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বিধেীত সমতল ভূমি বলা হয় । 

১৬) ভারতবর্ষের কোন অঞ্চলকে মধ্য ভারতের মালভূমি বলা হয় ? 

উত্তর : উত্তর ভারতের দক্ষিণ হতে বিন্ধ্য-সাতপুরা পর্যন্ত এবং পশ্চিমে আরাবল্লী হতে পূর্বের ছোট নাগপুর , বঙ্গদেশ ও উড়িষ্যার প্রান্ত পর্যন্ত ভারতের মালভূমি বিস্তৃত । 

১৭) ভারতবর্ষের কোন অঞ্চলকে দক্ষিণের মালভূমি বলা হয় ? 

উত্তর : বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণ হতে কৃষ্ণা -তুঙ্গ -ভদ্রা নদীর উত্তরের ভূ-ভাগকে দক্ষিণের মালভূমি বলা হয় । 

১৮) ভারতবর্ষের কোন অঞ্চলকে সুদূর দক্ষিণ ( Far South )  বলা হয় ? 

উত্তর : কৃষ্ণা ও তুঙ্গভদ্রা দক্ষিণের অংশটিকে সুদূর দক্ষিণ ( Far South ) বা দক্ষিণের উপকূল ভাগ বলা হয় । 

১০) কোন পর্বতমালা যুগ যুগ ধরে ভারতবর্ষকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছে ? 

উত্তর : হিমালয় পর্বতমালা । 

১১) কোন পর্বতমালা দক্ষিণনাত্যকে উত্তর ভারত থেকে পৃথক করে রেখেছে ? 

উত্তর : বিন্ধ্য পর্বতমালা । 

১২) ভারতবর্ষ কোন কোন সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে আছে ? 

উত্তর : ভারত মহাসাগর , আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

75 ÷ = 15