ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্ভব ( ১৮৮৫)

১৮৮৫ সালের শেষের দিকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে । ভারতে ব্রিটিশ শাসনেরর বিরুদ্ধে আন্দোলনে কংগ্রেসের ভূমিকা ছিল অনন্য । ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের সময় পর্যন্ত কংগ্রেস ছিল ভারতবাসীর প্রধান জাতীয়তাবাদী প্রতিষ্ঠান । ভারতে প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষ কংগ্রেসের পতাকাতলে সমবেত হয়ে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের লক্ষ্যে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করে । সুতরাং বলা যায় যে , ভারতের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাস। 

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি: 

ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিশেষ প্রসার ঘটে । এই সময় ভারতীয়দের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার এবং এক শিক্ষিত সচেতন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব হয় । এই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী ক্রমশঃ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে । ভারতের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন এবং স্বায়ত্তশাসন প্রভৃতি বিষয়ে তারা সচেতন হয়ে ওঠে । কিন্তু এ ধরনের রাজনৈতিক আদর্শ কার্যকর করার জন্য উপযোগী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সে সময়ে ভারতে ছিল না । ১৮৭৫ সালে কয়েকজন চিন্তাশীল রাজনীতিবিদ বিশেষ করে  শিশির কুমার ঘোষ, আনন্দমোহন বসু ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি ও রাজনৈতিক শিক্ষার উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ‘ ইন্ডিয়া লীগ’  নামে একটি রাজনৈতিক সংস্থা গঠন করে । The Englishman পত্রিকা এই সমিতিকে “ The first marked sign of the awakening of the people of this side of India to Practical life” বলে প্রশংসা করেন । কিন্তু ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এর সঙ্গে বিরোধিতার কারণে এ সমিতি বেশি দিন স্থায়ী হয় নি । তবে স্বল্পকালীন স্থায়ী হলেও ভারতের জাতীয় জনগণের ইতিহাসে এই সমিতির বিশেষ অবদান ছিল । 

ইন্ডিয়া লীগ এর পর ১৮৭৬ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় ভারত সভা ( India Association) । সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এর প্রাণ পুরুষ । মূলতঃ সুশিক্ষিত যুবকগণ কতৃৃক এই সভা পরিচালিত হয় । ভারতীয়দের স্বার্থ রক্ষায় এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশ সাধনে এই সভায় অবদান ছিল অপরিসীম । সুরেন্দ্রনাথ এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারত সভা জাতীয় সিভিল সার্ভিস (I.S.C) পরীক্ষার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন । এ সময় ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের উচ্চতর চাকরি থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের উর্দ্ধতন বয়স সীমা ২১ বছর থেকে ১৯ বছর করেন । অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ব্রিটিশ সরকার যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই । এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বিধিগুলো পরিবর্তন করতে বাধ্য হন । 

সরকারের প্রতিক্রিয়াশীল নীতির জন্য জাতীয় আন্দোলন দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয় । এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন আরেকটি সুযোগ আসে । ১৮৭৮ সালে বড়লাট লিটন দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য  Vernacular Press Act এবং ভারতবাসীকে নিরস্ত্র করার জন্য Arms Act পাস করেন । সংবাদপত্র আইনে বলা হয় যে , দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত কোন সংবাদপত্র যদি রাজদ্রোহিতামূলক কোনো কিছু প্রকাশ করে তাহলে ঐ সংবাদপত্রের ছাপাখানাসহ সমস্ত সরঞ্জাম সরকার বাজেয়াপ্ত করবে । এখানে উল্লেখ্য যে , সংবাদপত্র আইন কেবলমাত্র দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্রের উপর প্রয়োগ করা হয় । ইংরেজি সংবাদপত্রগুলোকে এ আইনের আওতায় থেকে বাদ দেওয়া হয় । অস্ত্র আইনে বলা হয়েছে , কোন ভারতীয় নিজের কাছে অস্ত্র রাখতে হলে অবশ্যই সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে । পক্ষান্তরে ইউরোপীয়দের অস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা-নিষেধ ছিল না । সরকারের সংবাদপত্র আইন ও অস্ত্র আইনের বিরুদ্ধে ভারত সভার তীব্র প্রতিবাদ জানায় । 

এ সময় ব্রিটিশ ও ভারতীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে । বলে ইংরেজ ও ভারতীয়দের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম অবনতি ঘটে । ১৮৮৩ সালে ইলবার্ট বিলকে কেন্দ্র করে বিদেশি শাসকগণের প্রতি ঘৃণার মাত্রা আরো বৃদ্ধি পায় । এ বিলের উদ্দেশ্য ছিল বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ যাবৎ ভারতীয় ও ইউরোপের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল তা দূর করা । এ বিলের মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের ইংরেজ  বিচারকগণের সম-মর্যাদা ও  সম-ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব করা হয় । ইলবার্ট বিলের বিরুদ্ধে ইংরেজরা তুমুল আন্দোলন শুরু করলে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারত সভাও প্রত্যুত্তরে আন্দোলন গড়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয়দের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হন । এসব ঘটনাবলীর মাধ্যমে সচেতন শিক্ষিত ভারতবাসী এই সিদ্ধান্তে আসেন যে , স্থায়ী সংগঠন ছাড়া ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা সম্ভব নয় । ঐতিহাসিক অনিল শীল ইলবার্ট বিল সংক্রান্ত আন্দোলনকে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বাভাস বলে মন্তব্য করেছেন । 

১৮৮৩ সালে কলকাতায় পৃষ্ঠপোষকতায় এক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় । ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে হতে বহু বিশিষ্ট নেতা এই প্রদর্শনী উপলক্ষে কলকাতায় জমায়েত হতে পারেন এ কথা বিবেচনা করে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় এক জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করেন । ভারতের বিভিন্ন অংশ হতে শতাধিক প্রতিনিধি এই  সম্মেলনে যোগ দেন । এ সভায় শিল্প ও কারিগরি শিক্ষা ,বৃহত্তম  কর্মসংস্থান , বিচার ব্যবস্থার পৃথকীকরণ , প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয় । এ সম্মেলন খুবই সফল হয় । জাতীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের পর সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় পরের বছর উত্তর ভারত সফর করেন এবং ১৮৮৫ সালে কলকাতা জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে । এ সভায় আলোচ্য বিষয় ছিল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সংস্কার এবং একযোগে ইংল্যান্ড ও ভারতের পরীক্ষা গ্রহণ, অস্ত্র আইন রহিতকরণ , বিচার ও শাসন বিভাগের পৃথকীকরণ এবং সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন বিভাগের  ব্যয়ভার হ্রাস ইত্যাদি । ১৮৮৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের শেষ হয় । 

তবে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সর্বাধিক কৃতিত্ব হলো এ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম ( A.O.Hume ) নামক একজন ইংরেজর । ১৮৮২ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ভারতে একজন জবরদস্ত I.C.S কর্মকর্তা । ১৮৮২ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি ভারতীয়দের স্বার্থ আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে জড়িত করেন । অবশ্যই জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইউমের অন্য উদ্দেশ্য কাজ করেছিল । হিউমের জীবনী লেখক স্যার উইলিয়াম ওয়েডারবর্ন ( Sir William Wederborn) লিখেছেন যে , বড়লাট লর্ড লিটনের শাসনামলে হিউম যখন উচ্চপদে আসীন ছিলেন , তখন সাতখন্ডের এক গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টে তার হস্তগত হয় । এই রিপোর্টগুলি পড়ে তার মনে এ আশঙ্কার জন্ম নেয় যে , ভারতে খুব শীঘ্রই একটি ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লব অত্যাসন্ন । এখানে স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে , ১৮৭০ দশকের সময় ছিল ভারতে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দুঃখ-দুর্দশার যুগ । দক্ষিণাত্যের কৃষক বিদ্রোহ , মাতৃভাষা সংবাদপত্র ও অস্ত্র আইন প্রসূত গণবিক্ষোভ ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে এক অস্বস্তিকর ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল । যাহোক , এ সংকট থেকে ইংরেজদের রক্ষা করতে তিনি ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে হাত করতে চেষ্টা করেন । এই উদ্দেশ্যে ১৮৮৩ সালে ১ মার্চ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক দের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে তাদেরকে রাজনীতিক, সামাজিক,মানসিক ও নৈতিক উৎকর্ষ লাভের জন্য একটি স্থায়ী সংস্থা গঠনের উপদেশ দেন । তদানীন্তন ভারতের বড়লাট লর্ড ডাফরিনও এ সময় ভারত সরকারের সমালোচনার জন্য একটি বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন । ১৮৮৪ সালের প্রথম দিকে হিউম ডাফরিনের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তার পরিকল্পনার কথা জানান । ডাফরিন হিউমকে বলেন, “ He found the greatest difficulty in ascertaining the real wishes of the people and that it would be a public benefit if there existed some responsible organisations through which the Government might be kept informed regarding the best Public opinion.” ( an advanced history of India, page 881) ডাফরিন হিউমের পরিকল্পনা সমর্থন করেন । এভাবে সরকারি আনুকূল্য নিয়ে ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বাই শহরে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয় । জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় । 

উদ্দেশ্যাবলীঃ 

১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বাইয়ের গোকুলদাশ তেজপাল সংস্কৃত কলেজ হতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় । এই অধিবেশনে যোগদান করেন ৭২ জন প্রতিনিধি । অধিবেশনের সভাপতি আসন অলংকৃত করেছিলেন কলকাতার খ্যাতনামা ব্যারিস্টার উমেশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় । সর্বভারতীয় স্তরে এটিই প্রথম রাজনৈতিক সম্মেলন । সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যবলি ছিল নিম্নরূপঃ 

১) ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয়দের মধ্যে যোগসূত্র এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা ; 

২) ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও যোগাযোগের মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণ স্বদেশীকতার সংকীর্ণতা দূর করে জাতীয় ঐক্যের পথ প্রশস্ত করা ; 

৩) শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আলাপ-আলোচনার দ্বারা সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাবলী চিহ্নিত করে তার সমাধানের পথ নির্ধারণ কর; 

৪) একটি সর্বভারতীয় নেতৃত্ব প্রদান করা; 

৫) আগামী এক বছরের মধ্যে রাজনৈতিক অগ্রগতির জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা; 

৬) ঔপনিবেশিকতা বিরোধী আদর্শ ও তত্ত্ব প্রচার করা । 

কংগ্রেসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বোঝা যায় যে , কংগ্রেস গোড়া থেকেই কোন সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে নি । একটি সর্বভারতীয় আন্দোলন গড়ে তোলাই ছিল কংগ্রেসের প্রাথমিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । 

কংগ্রেসের সামাজিক ভিত্তি : 

কংগ্রেস মূলতঃ ছিল একটি বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠান । সমাজের সাধারণ ও নিম্ন বর্ণের মানুষের কংগ্রেসে কোন ঠাঁই ছিল না । তবে ড. অমলেশ ত্রিপাঠী মন্তব্য করেছেন যে , প্রথম যুগের কংগ্রেস তহবিলে যারা মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতেন তারা বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নয় , তারা ছিলেন বিরাট জমিদার । কংগ্রেসের জমিদার শ্রেণীর যথেষ্ট প্রভাব ছিল । তবে জমিদার শ্রেণীর কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের সংখ্যা কখনোই বেশি ছিল না । কংগ্রেস ছিল সাধারণতভাবে  ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত শহরবাসী মধ্যবিত্তদের প্রতিষ্ঠান । ১৮৮৫ সাল থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত যেসব সদস্য কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন তাতে আইনজীবিদের সংখ্যায় বেশি ছিল । অন্যদিকে অধিবেশনে ডাক্তার ,শিক্ষক ,সাংবাদিক ,বণিক শ্রেণীর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম । যাহোক , কংগ্রেসের প্রথম যুগের সদস্যদের মধ্যে জমিদার, মধ্যবিত্ত , বণিক সবাই কংগ্রেসের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল । আবার ভৌগলিক মাপকাঠিতে বিচার করলে দেখা যায় যে , বাংলা , বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি থেকেই অধিকাংশ কংগ্রেস নেতা ও সদস্য আসতেন । এর প্রধান কারণ ছিলো পাশ্চাত্য শিক্ষার সুযোগ  এসব অঞ্চলেই  ছিল সবচেয়ে বেশি । 

কংগ্রেস অধিবেশনে যারা অংশ নিতেন তাদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন হিন্দু । আবার হিন্দুদের মধ্যে ব্রাহ্মণদের সংখ্যায় বেশি ছিল । অশিক্ষিত ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের কংগ্রেসের ঠাঁই হয়নি । কংগ্রেসের এই সীমাবদ্ধতার তীব্র সমালোচনা করে  লালা লাজপত রায় একদা মন্তব্য করেছিলেন – “ The congress movement was neither inspired by the people nor devised p;ammed by them. It was a movement not from within .” 

অন্যদিকে কংগ্রেস অধিবেশন গুলোতে যোগদানকারী মুসলিম সদস্যদের সংখ্যা স্বল্পতাও বিশেষ উল্লেখযোগ্য । ১৮৯২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যে ১৩,৮৩৯ জন সদস্য কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন , তার মধ্যে মুসলিম প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল মাত্র ৯১২ জন । কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে একমাত্র বদরুদ্দীন তায়েবজী ছাড়া অন্য কোন মুসলিম নেতার নাম পাওয়া যায় না । অথচ কংগ্রেস ছিল ধর্মনিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান । মূলতঃ দুটি কারণে মুসলিম সম্প্রদায় কংগ্রেসে যোগদান করেনি । প্রথমত , শিক্ষা-দীক্ষায় মুসলমান সম্প্রদায় হিন্দুদের থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল । স্বাভাবিক কারণেই তাই উচ্চশিক্ষিতদের প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসে মুসলমানদেরকে ঠাঁই  হয় নি। দ্বিতীয় কারণটি হলো স্যার সৈয়দ আহমেদ খানের সক্রিয় কংগ্রেস বিরোধিতা । সৈয়দ আহমেদ কংগ্রেসকে একটি হিন্দু প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং মুসলিম যুব সম্প্রদায়কে নিজেদের স্বার্থে কংগ্রেস থেকে দূরে রাখতে আহ্বান করেন । তিনি মনে করতেন , মুসলমানরা একটি স্বতন্ত্র জাতি । হিন্দু ও মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ  এক নয় । তিনি আরো মনে করতেন, ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের শাসন মুসলমানদের উপর স্থাপিত হবে । বদরুদ্দীন তায়েবজঅ স্যার সৈয়দ আহমেদ এর এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করেও কিছু করতে পারেনি । স্যার সৈয়দ আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় তায়েবজীকে জানান- “  I object to every Congress in any shape of rorm which regards India as one nation.” ।  যাহোক , সৈয়দ আহমেদের আহবানে সাড়া দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায় কংগ্রেস বর্জন করতে থাকে । ১৮৮৮ সালে এলাহাবাদ অধিবেশনে মুসলিম প্রতিনিধিদের সংখ্যা ছিল ২২২ জন েএবং ১৮৮৯ সালের বোম্বাই কংগ্রেস অধিবেশনে ২৪৮ জন মুসলিম প্রতিনিধি যোগ দেন । কিন্তু ১৮৯৪ সালে মাদ্রাজ ও ১৮৯৫ সালে পুনায় আহুত কংগ্রেস অধিবেশনে মুসলিম প্রতিনিধি সংখ্যা ছিল যথাক্রমে মাত্র ২৩ ও ২৫ জন । ১৮৯৮, ১৯০২, ১৯০৩, ১৯০৫, ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে আহুত কংগ্রেস অধিবেশনে সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১০,২০,৯,১০ ও ৫ জন । এভাবে মুসলিম প্রতিনিধিদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কংগ্রেস বাস্তবিক এক হিন্দু প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয় । 

কংগ্রেসের কার্যাবলী ( ১৮৮৫-১৯০৫) 

জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা লগ্ন এটি ছিল একটি মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের সংগঠন । এ সময় কংগ্রেসের যারা নেতৃত্ব দেন তারা সকলে ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ও পাশ্চাত্য ভাবধারায় উদ্ভুদ্ধ । এসব নেতারা ব্রিটিশ সরকারের উদারনৈতিক মনোভাবের প্রতি আস্থাশীল ছিলেন । এসময় কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক উপায়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবী দাওয়া উভ্যুত্থানের পক্ষপাতী ছিলেন ।  তাদের বিশ্বাস ছিল এই যে , ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত সহানুভুতির সাথে ভারতবাসী দাবি-দাওয়া বিচার বিবেচনা করবেন এবং ভারতে প্রগতিশীল ও উদারনৈতিক সংস্কাররাদী প্রবর্তিত হবে। 

কংগ্রেসের প্রথম যুগে যেসব দাবি-দাওয়া  সরকারের কাছে উভ্যুত্থান হয়েছিল সেগুলোকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় ক) শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও খ) অর্থনৈতিক সংস্কার । 

শাসনতান্ত্রিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে কেন্দ্র ও প্রদেশ ব্যবস্থাপক সভার প্রসার ও সম্প্রসারণ , ভারতীয় কাউন্সিলে বিলোপ, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভারতীয়দের অধিকারহারে অন্তর্ভুক্ত , শাসন ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ প্রকৃতির দাবি জানায় । 

শুধুমাত্র ভারতে নয় , কংগ্রেসে সময় ইংল্যান্ডের ভারতের শাসনতান্ত্রিক সরকারের অনুকূলে জনমত সংগ্রহের চেষ্টা করে এবং সফলকাম হয় । ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসের দাবি অগ্রাহ্য করতে না পেরে ১৮৯২ সালে ভারতীয় কাউন্সিল আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য হন । এ আইনের দ্বারা কেন্দ্রীয ও প্রদেশগুলোর আইনসভা সম্প্রসারণ করা হয় । এই আইনের দ্বারা কেন্দ্রী ও প্রদেশে আইনসভাগুলোর সম্প্রসারণ করা হয় এবং পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতির ব্যবস্থা করা হয় । ভারতের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ইতিহাস এই আইন ছিল এক উল্লেখযোগ্য পদসঞ্চার । 

শাসনতান্ত্রিক দাবি-দাওয়ার সাথে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা ও সরকারের কাছে তুলে ধরেন । তারা ভারতে ক্রমবর্দ্ধমান অর্থনৈতিক অবনতির জন্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও শোষন নীতিকে দায়ী করেন এবং ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি বিধানের জন্য আধুনিক শিল্প বিকাশে দাবি উত্থাপন করেন । অবাধ বাণিজ্য নীতি রদ করে ভারতীয় শিল্পকে সংরক্ষণের দাবি জানানো হয় । ভারতীয় ধন-সম্পদের ব্যাপক নির্গমণের বিরুদ্ধেও কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের তীব্র প্রতিবাদ জানান । কৃষকদের শোচনীয় অবস্থা নিরসনের জন্য ভূমির রাজস্বের হার কমানোর দাবি জানানো হয় । সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করার সমালোচনা করা হয় । আয়করের নিম্নতর সীমা স্থির , বিলাতি কাপড় আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং টাকার সাথে পাউন্ডের বিনিময়ে আর ন্যায্যভাবে নির্ধারণ প্রভৃতি সম্পর্কে সরকারকে বলা হয় । ১৯০৫ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস সরকারের কাছে এসব দাবিগুলি জানাতে থাকে । 

এসব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়াও ভারতবাসীর গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত ব্যাপারেও কংগ্রেস  ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । এসময় কংগ্রেস সরকারের কাছে সংবাদপত্র এবং বাক-স্বাধীনতা কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষার প্রসার এবং ইংল্যান্ডের ন্যায় ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান । সুতরাং দেখা যায় যে , ১৮৮৫ সাল থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন নিবেদন এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য সাধন করাই ছিল কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য । 

কিন্তু কংগ্রেসের প্রথম যুগের নেতৃবৃন্দ ব্রিটিশ শাসকদের প্রতি আস্থাবান হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর সুনজর অর্জন করতে পারেনি । কারণ কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী কার্যকলাপ এবং জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে ব্রিটিশ সরকার ক্রমশঃ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে । ফলে কংগ্রেস কর্তৃক উত্থাপিত অধিকাংশ দাবি-দাওয়া সরকার কর্তৃক প্রত্যাখ্যান হয় । 

তবে কংগ্রেসের আন্দোলন ব্যর্থ হলেও কংগ্রেস সমগ্র জাতির মধ্যে একটি জাগরণ এনেছিল তা নিঃসন্দেহে বলা যায় । কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারতীয় জনগণ ব্রিটিশ শাসনের কুফল সম্পর্কে এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক শোষণের স্বরুপ সম্পর্কে জানতে পারে । প্রথম যুগের কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ জাতীয় আন্দোলনের যে ভিত স্থাপন করেছিলেন তার উপর নির্ভর করে পরবর্তীকালে জাতীয় আন্দোলন অধিকতর শক্তিশালী হয়ে উঠে । 

কংগ্রেসে ভাঙ্গন ( ১৯০৭) : 

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হয়। বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হলে বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় সর্বত্র বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। শীঘ্রই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন প্রতিবাদের পর্যায় অতিক্রম করে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। শুরু হয় ইংরেজদের বিরুদ্ধে বয়কট আন্দোলন। বয়কট আন্দোলন শেষে স্বদেশী আন্দোলনের পরিণতি লাভ করে। ক্রমেই স্বদেশী আন্দোলন বাংলার সর্বত্র জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এ আন্দোলন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। 

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ স্বদেশী আন্দোলন ভারতের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হন, অপরদিকে কংগ্রেসের মডারেট বা  নরমপন্থী নেতা স্বদেশী আন্দোলন ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে প্রসারিত করার বিরোধিতা করেন । নরমপন্থী নেতারা মনে করেন যে , সন্ত্রাসবাদি আন্দোলনের হলে সরকারের দমননীতি প্রবল হয়ে উঠবে এবং এর ফলে সরকারের বিরুদ্ধে আইন সম্মত রাজনৈতিক আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হবে । এই দুই পরস্পর বিরোধী মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৫ সারে বারানসীতে কংগ্রেসের অধিবেশন বসে । এই অধিবেশনে সভাপতি নরমপন্থী গোপালকৃষ্ণ গোখলে কঠোর ভাষায় নীতির সমালোচনা করেন । তিনি বয়কট আন্দোলনকে সমর্থন করেন ।  চরমপন্থী নেতা লালা লাজপত রায় সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের স্বপক্ষে মত প্রকাশ করেন । এই অধিবেশনে কংগ্রেসের মধ্যে চরমপন্থী গ্রুপের উদ্ভব হয় ।  স্বদেশের সমর্থনে প্রস্তাব গৃহীত হয় । বঙ্গভঙ্গ রদ করার জন্য গোখলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইংল্যান্ডে প্রেরণ করা হয় । ১৯০৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশন বসে । এ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে চরম বিরোধ বাধে । 

শেষ পর্যন্ত ফিরোজ শাহ মেহেতা কুটবুদ্ধি খাটিয়ে সর্বজনমান্য বর্ষিয়ান দাদাভাই নেীরাজীকে কংগ্রেসের সভাপতি ঘোষণা করায় আপাততঃ ভাঙ্গন বোধ হয় । এ অধিবেশনে আপোষের ভিত্তিতে স্বদেশী , বয়কট , জাতীয় শিক্ষা ও স্বরাজ সম্পর্কে চারটি প্রস্তাব পাস হয় । গোটা ১৯০৭ সাল ধরে দুই পক্ষ প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা দিয়ে লড়াই করে । ঐ বছরের শেষে উভয়েই উভয়েইকে প্রধান রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে মনে করতে থাকে । এ সময় চরমপন্থী নেতাদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে , জনগণ জেগে উঠেছি , শুরু হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম । এখন একটা বড় ধাক্কা দেওয়া দরকার । অববিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে অধিকাংশ চরমপন্থী মনে করতেন নরমপন্থীদের সঙ্গ ছাড়ার এখনই উপযুক্ত সময় । অপরপক্ষে ,  ফিরোজ শা মেহেতার নেতৃত্বে বেশিরভাগ নরমপন্থী মনে করতেন , চরমপন্থীদের সঙ্গে থাকার অর্থ বিপদজনক জলে নামা । তারা এ আশঙ্কা করেন যে , চরমপন্থীদের দলে থাকলে বিশ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা কংগ্রেস ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাবে । কাজেই  সময় থাকবে চরমপন্থীদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া দরকার । 

কলকাতা কংগ্রেসের নরমপন্থীদের লড়াকু মনোভাব দেখে মডারেট ফিরোজ শা মেহেতা ১৯০৭ সালে কংগ্রেসের অধিবেশনের স্থল নাগপুর থেকে সুরাটে সরিয়ে নেন । ১৯০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সুরাটে তাপ্তি নদীর তীরে কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হয় । কংগ্রেসের বার্ষিকী অধিবেশনে দুই গোষ্ঠীর বিরোধ চরম আকার ধারণ করে । এ অধিবেশনে নরমপন্থীরা রাসবিহারী ঘোষকে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । অপরপক্ষে চরমপন্থী গোষ্ঠীর রাসবিহারী ঘোষের স্থলে বালগঙ্গাধর তিলককে কংগ্রেসের সভাপতি মনোনীত করতে বদ্ধপরিকর হন । অধিবেশনের শুরুতে গুজব রটে যে, নরমপন্থীরা কলকাতা গৃহীত চারটি প্রস্তাব বানচাল করতে চান । ফলে চরমপন্থীরা চরম উত্তেজিত হয় । এরপর সুরেন্দ্রনাথ কংগ্রেসের সভাপতি হিসাবে রাসবিহারী ঘোষের নাম সমর্থন করতে উঠলে প্রচন্ড গন্ডগোল  ও হাতাহাতি শুরু হয়ে যায় । কংগ্রেস অধিবেশন একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয় । এই ঘটনার পর চরমপন্থীরা কংগ্রেস সংগঠন ত্যাগ করেন । ফলে কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতৃত্ব অক্ষুন্ন থাকে । কংগ্রেসের এই ভাঙ্গনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ উল্লাসিত হন । বড়লাট মিন্টো অবিলম্বে ভারত-সচিব মর্লিকে লিখলেন, “ সুরাটে কংগ্রেসের ভাঙ্গন আমাদের মহাবিজয় ।” 

এভাবেই সুরাটের তেইশতম কংগ্রেস অধিবেশনে চরমপন্থী ও নরমপন্থীদের মধ্যে মতভেদ প্রকাশ্যে পরিণতি লাভ করে । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

÷ 2 = 4