মুসলিম লীগের উদ্ভব , ১৯০৬

পটভূমি : 

১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢকাতে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা ভারতীয়  উপমহাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা । ভারতে মুসলমানদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মুসলিম লীগের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে । মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ অবদান ছিল অপরিসীম । 

ভারতে ব্রিটিশ শাসন আমল থেকেই হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় । এসময়ের হিন্দু মুসলিম ধর্মীয় পার্থক্য রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে বিস্তৃত হয় । ব্রিটিশ শাসনের গুরুত্বে হিন্দুরা ইংরেজ শাসনকে স্বাগত জানায় । তারা ইংরেজি শিক্ষা ও সংস্কৃতি গ্রহণ করে উন্নতির পথে অগ্রসর হয় এবং প্রশাসনের উচ্চপদগুলো দখল করে । কিন্তু মুসলমানরা প্রথম থেকেই ইংরেজদের সাথে সব রকমের সংস্রব বর্জন করে । ফলে চাকরিও শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে তারা হিন্দুদের থেকে পিছিয়ে পড়ে । এভাবে উভয় শ্রেণীর মধ্যে ব্যবধান রচিত হয় । 

ঊনিশ শতকের  মধ্য ভাগে ভারতে হিন্দু সমাজে ধর্মীয় জাতীয়তার সূত্রপাত হয় এবং ধর্মীয় জাতীয়তার উপর ভিত্তি করে হিন্দুদের রাজনৈতিক জাতীয়তার পত্তন হয় । এ সময় অনেক হিন্দু কবি বিশেষ করে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত , হেমচন্দ্র নবীনসেন , রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় , বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাদের রচনার মাধ্যমে হিন্দুদের হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেন । হিন্দুদের শিক্ষার উন্নতির জন্য কলকাতায় হিন্দু কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় । এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলমানদের শিক্ষা গ্রহণের কোনো সুযোগ ছিল না । এছাড়া হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার্থে কিছু সমিতিও গঠিত হয় । এসব সমিতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ল্যান্ড হোল্ডারস সোসাইটি , বেঙ্গল ইন্ডিয়া সোসাইটি , ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদি । এসব সমিতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে বাংলার হিন্দুগন দ্রুত উন্নতির দিকে অগ্রসর হয় । 

মুসলিম-সমাজে সংস্কার আন্দোলন অনেক দেরিতে শুরু হয়েছিল । ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর হতে আধুনিকতার আদর্শের ভিত্তির উপর মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা দেখা দেয় । ১৮৬৩ সালে কলকাতা নবাব আব্দুল লতিফ , মুসলিম সাহিত্য সমাজ , এবং ১৮৭৭ সালে সৈয়দ আমীর আলী কর্তিক ‘ সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন ‘ গঠিত হলে এর সূচনা হয় । এ সমিতি গুলোতে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ধর্মীয় , সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ের আলোচনার ব্যবস্থা করা হয় এবং উচ্চ ও মধ্যবিত্ত মুসলমান শ্রেণীকে পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হয় । এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় । 

কিন্তু ভারতে মুসলমান জনগণের মধ্যে নবজাগরণের সূত্রপাত করেছিলেন স্যার সৈয়দ আহমেদ খান । তিনি মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য ভাবধারা প্রসারের লক্ষ্যে ১৮৭৭ সালে অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে আলীগড়ে এ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন । মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে প্রগতিমূলক মনোভাবের গড়ে উঠতে এ কলেজের অবদান ছিল অপরিসীম । প্রথমদিকে সৈয়দ আহমেদের রাজনীতির ক্ষেত্রে হিন্দুদের সাথে সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন । কিন্তু  ১৮৮০ এর দশকে তিনি প্রচার শুরু করেন যে , মুসলমানরা একটি স্বতন্ত্র জাতি । ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি মুসলমানদিগকে জাতীয় কংগ্রেস হতে দূরে থাকার আহ্বান জানান । তিনি মনে করতেন , ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের শাসন সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর স্থাপিত হবে । 

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হলে সমগ্র দেশব্যাপী হিন্দু মুসলিম বিরোধী তীব্র আকার ধারণ করে । বঙ্গভঙ্গের ফলে স্বাভাবিকভাবেই পূর্ব বাংলার মুসলমানদের ভাগ্যোন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয় । কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রদ করার দাবিতে কলকাতা বাঙালি হিন্দু বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর তীব্র আন্দোলন শুরু করে । কংগ্রেস সমর্থক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা বঙ্গভঙ্গ সমর্থনের জন্য মুসলমানদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন । কংগ্রেসও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানায় । এতে মুসলমানরা কংগ্রেসের প্রতি বিরূপ মনোভাবপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী ও কার্যকর রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে । 

ইতিমধ্যে ১৮৯২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে  ভারতীয় কাউন্সিল আইন পাশ হয় এবং এই আইনের নির্বাচন নীতি পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি হয় । ১৯০৬ সালে ভারত-সচিব লর্ড মর্লি ভারতে আসন্ন শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করেন । এতে মুসলিম নেতৃবৃন্দ শঙ্কিত হয়ে পড়েন এই ভেবে যে , ভারতে নির্বাচনের মাধ্যমে আইনসভা গঠিত হলে হিন্দুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে । ফলে মুসলিম নেতারা নতুন শাসনতন্ত্রে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বড়লাট লর্ড মিন্টো এক প্রতিনিধি দল পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন । ১৯০৬ সারে মহামান্য আগাখান নেতৃত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের মুসলিম প্রতিনিধি দল সিমলায় বড়লাটের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি করেন । লেডি মিন্টোর ভাষায় “ বড়লাটের সাথে মুসলিম প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎকার ভারতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ।” লর্ড মিন্টো মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং এই আশ্বাস দেন , একটি পৃথক সম্প্রদায় হিসাবে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ নিরাপদ রাখা হবে । 

সিমলা বৈঠকের পর মুসলমান নেতাদের মনে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় এবং তারা মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা প্রচার এবং রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার সংকল্প করেন । ইতিমধ্যে নবাব সলিমুল্লাহর তার রাজনৈতিক সহচর নবাব আলী চৌধুরীর মারফত সিমলায় প্রতিনিধিদের কাছে মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার একটি খসড়া পাঠিয়েছিলেন । সিমলার এক ঘরোয়া বৈঠকে প্রতিনিধিগণ তার  খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন এবং ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য শিক্ষা সম্মেলনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন । 

১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ( All Indian Muslim Education Conference ) অধিবেশন শুরু হয় । সম্মেলনে ভারতের সকল অংশ থেকে মুসলমান প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন । এ সম্মেলনে মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয় । সম্মেলনের শেষ নবাব  ভিকার-উল-মূলক এর সভাপতিত্বে একটি রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভায় নবাব সলিমুল্লাহর ভারতের মুসলিম জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি সর্বভারতীয় মুসলিম সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করেন । প্রস্তাবটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং ঐ দিন অর্থাৎ ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় । 

মুসলিম লীগের লক্ষ্য : 

#) মুসলিম লীগের লক্ষ্য গুলি আলোচনা করো । 

প্রতিষ্ঠালগ্নে মুসলিম লীগের প্রধান তিনটি লক্ষ্য ছিল । 

প্রথমতঃ ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য সুনিশ্চিত করা এবং সরকারের কোনো ব্যবস্থা সম্পর্কে মুসলমানদের মনে কোনো ভুল ধারণা জম্মিলে তা দূর করা । 

দ্বিতীয়তঃ মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাদের দাবি-দাওয়া সমূহ সরকারের কাছে উপস্থাপন করা । 

তৃতীয়তঃ অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি যাতে মুসলমানদের বিদ্বেষ  না দেখা দেয় তার জন্য চেষ্টা করা । 

সকল প্রদেশের নেতৃস্থানীয় মুসলিম প্রতিনিধি সমন্বয়ে ৬০ সদস্যের একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হয় । নবাব মুহসীন-উল-মূলক ও নবাব ভিকার- উল-মূলক লীগের যুগা-সম্পাদক নির্বাচিত হন । মুসলিম লীগের পরবর্তী অধিবেশনে গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হবে ঘোষণা করা হয় । 

সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের দফতর লক্ষ্নেীতে স্থাপিত হয় । ১৯০৭ সালের ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর করাচিতে লীগের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় । এ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন বোম্বের স্যার আদমজী পীরভাই । এই অধিবেশনে বঙ্গভঙ্গ সমর্থন করা হয় এবং বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করা হয় । এই অধিবেশনে লীগের গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হয় । গঠনতন্ত্রের লীগের সদস্য সংখ্যা চারশত জন নির্দিষ্ট হয় । নির্দিষ্ট অনুপাতে বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে সদস্যসংখ্যা বন্টন করা হয় । চল্লিশ  জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্ম সংসদ গঠিত হয়। কর্ম সংসদদের মেয়াদ হয় ৩ বছর । লীগের একজন সভাপতি , ছয় জন সহ-সভাপতি , একজন সচিব ও দ ‘জন  যুগ্ন-সচিব থাকবেন স্থির হয় । ১৯০৮ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে আলীগড়ে অনুষ্ঠিত লীগের একটি বিশেষ অধিবেশনে গঠনতন্ত্রটি পরিপূর্ণভাবে গৃহীত হয় । এই অধিবেশনে মহামান্য আগা খানকে লীগের সভাপতি এবং সৈয়দ হাসান বিলগ্রামীকে সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয় । ইতোসব দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লীগের প্রাদেশিক ও জেলা শাখা খোলা হয় । ১৯০৮ সালের ৬ মে সৈয়দ আমীর আলীর উদ্যোগে লন্ডনে মুসলিম লীগের শাখা প্রতিষ্ঠিত হয় । ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ১৯০৯ সালের এই লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । 

মুসলিম লিগের দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশনে ১৯০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অমৃতসরে অনুষ্ঠিত হয় । এই অধিবেশনে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গুলোতে পৃথক মুসলিম প্রতিনিধিত্ব এবং চাকরিতে মুসলমানদের নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় । এ অধিবেশনে বঙ্গভঙ্গ রদ না করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয় । অধিবেশনের শাসন সংস্কার পরিকল্পনার ব্যাপারে মুসলমানদের অভিমত সরকারকে অবহিত করার জন্য একটি প্রতিনিধিদল প্রেরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । 

১৯১০ সালের ২৯ জানুয়ারি দিল্লিতে লীগের তৃতীয় বার্ষিক অধিবেশন বসে । এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন  আর্কটের যুবরাজ স্যার গোলাম মোহাম্মদ আলী খান  । লীগের চতুর্থ বার্ষিক অধিবেশন নাগপুরে ১৯১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর হয় । সৈয়দ নাজবুল্লাহ এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন । ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে লীগের পঞ্চম বার্ষিক অধিবেশন কলকাতা অনুষ্ঠিত হয় । নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন এই অধিবেশনের সভাপতি । 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন: 

#) মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা স্যার সলিমুল্লাহ ভূমিকা আলোচনা করো। 

#) মুসলিম লীগ গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি ছিল ? 

#) সিমলা ডেপুটেশন সম্পর্কে কি জানো ? 

#) সিমলা ডেপুটেশনের গুরুত্ব কী ছিল ? 

রচনামূলক প্রশ্ন : 

#) মুসলিম লীগ ( ১৯০৬) গঠনের পটভূমি আলোচনা করো । প্রাথমিক পর্যায়েই দলের লক্ষ্য কী ছিল ? 

#) ব্রিটিশ-ভারতে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে যা জানো লেখ । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

48 ÷ = 8