উক্তি পরিবর্তন

কোন কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি । উক্তি দুই প্রকার : প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি । 

প্রত্যক্ষ উক্তি: যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধুত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে । যথা – তিনি বলেন, “বইটা আমার দরকার ।” 

পরোক্ষ উক্তি : যে বাক্যে বক্তার উক্তি অন্যের জবানিতে রূপান্তিতভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলা হয় । যথা: তিনি বললেন যে বইটা তাঁর দরকার । 

উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম

১) প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ভরণ চিহ্নের ( “ ” ) অন্তর্ভুক্ত থাকে । পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ভরণ চিহ্ন লোপ পায় । প্রথম উদ্ভরণ চিহ্ন স্থানে  ‘যে’ এই সংযোজন অব্যয়টি ব্যবহার করা হয় । বাক্যের সংগতি রক্ষার জন্য উক্তিকে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয় । যেমন:-

প্রত্যক্ষ উক্তি : খোকা বলল, “আমার বাবা বাড়ি নেই ।” 

পরোক্ষ উক্তি : খোকা বলল যে , তার বাবা বাড়ি ছিলেন না । 

২) বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সর্বনামের পরিবর্তন করতে হয় । যেমন – 

প্রত্যক্ষ উক্তি : রশিদ বলল, “আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন ।”

পরোক্ষ উক্তি : রশিদ বললেন যে , তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন । 

৩) প্রত্যক্ষ উক্তির কালবাচক পদকে পরোক্ষ উক্তিতে অর্থ অনুযায়ী করতে হয় । যেমন – 

প্রত্যক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন , “কাল তোমাদের ছুটি থাকবে ।”

পরোক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে । 

৪) প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয় । 

প্রত্যক্ষ                                              পরোক্ষ 

এই                                                            সেই

ইহা                                                            তাহা 

এ                                                               সে

আজ                                                          সেদিন 

আগামীকাল                                               পরদিন

গতকাল                                                      আগেরদিন

গতকল্য                                                      পূর্বদিন

ওখানে                                                         ঐখানে 

এখানে                                                         সেখানে 

এখন                                                            তখন 

ক) প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলে লিখেছিল,  “ শহরে খুব গরম পরছে ।”

পরোক্ষ উক্তি  : ছেলে লেগেছিল যে, শহরে খুব গরম পড়েছিল । 

অথবা, ছেলে লিখেছিল শহরে খুব গরম পড়ছে । 

খ) প্রত্যক্ষ উক্তি : করিম বলেছিল, “আমি বাজারে যাচ্ছি ।” 

পরোক্ষ উক্তি : করিম বলেছিল যে , সে বাজারে যাচ্ছে । 

গ) প্রত্যক্ষ উক্তি : সৌরভ বলল, “আমি ঢাকা যাব ।” 

পরোক্ষ উক্তি : সৌরভ বলল যে , সে ঢাকা যাবে । 

প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন চিরন্তন সত্যের  উদ্ভৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোন পরিবর্তন হয়না । যেমন : 

প্রত্যক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন , “পৃথিবী গোলাকার ।”

পরোক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার ।

খ) প্রত্যক্ষ উক্তি : বৈজ্ঞানিক বললেন  , “ চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে ।”

পরোক্ষ উক্তি : বৈজ্ঞানিক বলেছেন যে , চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে । 

৭) প্রশ্নবোধক,  অনুজ্ঞাসূচক ও আদেশসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খন্ড বাক্যের ক্রিয়াভাবঅনুসারে পরিবর্তন করতে হয় । যেমন : – 

প্রশ্নবোধক বাক্য : 

ক) প্রত্যক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন , “তোমরা কি ছুটি চাও ?”

পরোক্ষ উক্তি : আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলে । 

খ) প্রত্যক্ষ উক্তি : বাবা বললেন , “ কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?” 

পরোক্ষ উক্তি : আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে , বাবা তা জানতে চাইলেন । 

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য : 

ক) প্রত্যক্ষ উক্তি : সৌরভ বলল, “তোমরা আগামীকাল এসো ।”

পরোক্ষ উক্তি : সৌরভ তাদের পরেরদিন আসতে বলল । 

খ) প্রত্যক্ষ উক্তি : তিনি বললেন , “দয়াকরে ভেতরে আসুন।”

পরোক্ষ উক্তি : তিনি ( আমাকে ) ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন । 

আবেগসূচক বাক্য : 

ক) প্রত্যক্ষ উক্তি : লোকটি বলল , “বাহ ! পাখিরটি তো চমৎকার ।”

     পরোক্ষ উক্তি : লোকটি আনন্দের সাথে বলল যে , পাখিটি চমৎকার । 

খ) প্রত্যক্ষ উক্তি : ভিখারিনীর দুঃখের সাথে বলল , “শীতে আমরা কতই না কষ্ট পাচ্ছি ।”

পরোক্ষ উক্তি : ভিখারিনীর দুঃখের সাথে বলল যে ,তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 × = 21