পদ প্রকরন

দু:সাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্যে চাঁদের দেশে পেীঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহেও যাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন । ওপরের বাক্যটিতে “রা “ ( অভিযাত্রী +রা ), ” এর “ ( মানুষ +এর ) , “র” ( কল্পনা +র ) , “ এ “ ( মঙ্গলগ্রহ + এ ) প্রভৃতি চিহ্নগুলোকে বিভক্তি বলা হয় ।

বাক্যে ব্যবহারিত প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার: সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ ।

সব্যয় পদ চার প্রকার:

১) বিশেষ্য , ২) বিশেষন , ৩) সর্বনাম ৪) ক্রিয়া ।

সুতরাং পদ মোট পাঁচ প্রকার : – ১) বিশেষ্য , ২) বিশেষন , ৩) সর্বনাম ৪) ক্রিয়া ও ৫) অব্যয় ।

নিচের আলোচ্য বাক্যটিতে:

১) বিশেষ্য পদ : অভিযাত্রী , মানুষ , কল্পনা, রাজ্য , দেশ , মঙ্গলগ্রহ ।

২) বিশেষন পদ : দ:সাহসী , চিরন্তন , প্রস্তুত ।

৩) সর্বনাম পদ : তাঁরা

৪) ক্রিয়াপদ : পেীঁছেছেন, হচ্ছেন , যাওয়ার ( অসমাপিকা ক্রিয়া )

৫) অব্যয় পদ  : এবং , জন্য

বিশেষ্য পদ : 

কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে ।

বাক্যমধ্যে ব্যবহারিত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি , জাতি , সমষ্টি , বস্তু , স্থান , কাল , ভাব , কর্ম বা গুনের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে ।

বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার:

১) সঙ্গা ( বা নাম ) বাচক বিশেষ্য ( Proper Noun )

২) জাতিবাচক বিশেষ্য ( Common Noun )

৩) বস্তু ( বা দ্রব্য ) বাচক বিশেষ্য ( Material Noun )

৪) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য ( Collective Noun )

৫) ভাববাচক বিশেষ্য ( Verbal Noun )

৬) গুনবাচক বিশেষ্য ( Abstract Noun )

১) সঙ্গা ( বা নাম ) বাচক বিশেষ্য : যে পদ দ্বারা কোন ব্যাক্তি , ভেীগোলিক স্থান বা সঙ্গা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম প্রকাশ করে , তাকে সঙ্গা ( বা নাম ) বাচক বিশেষ্য বলে । যথা : –

ক) ব্যাক্তির নাম : নজরূল , ওমর , আনিস , মাইকেল ।

খ) ভেীগোলিক স্থানের : ঢাকা, দিল্লি , লন্ডন , মক্কা

গ) ভেীগোলিক সঙ্গা  : ( নদী , পর্বত , সমুদ্র ইত্যাদি ) মেঘনা , হিমালয় , আরব সাগর

ঘ) গ্রন্থের নাম : “ গীতাঞ্জলি “, ” অগ্নিবীণা “ , “ দেশে বিদেশে , “ বিশ্বনবি “ ।

২) জাতিবাচক বিশেষ্য : যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রানী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় , তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে । যেমন: – মানুষ , গরূ , পাখি , গাছ , পর্বত , নদী , ইংরেজ ।

৩) বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য : যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় , তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে । এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায় । যথা – বই , খাতা , কলম , থালা , বাটি , মাটি , চাল , চিনি , লবন , পানি ইত্যাদি ।

৪) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য : যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যাক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় , তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য ।যথা: – সভা, জনতা , সমিতি , পঞ্চায়েত , মাহফিল , ঝাঁক , বহর , দল ।

৫) ভাববাচক বিশেষ্য : যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় , তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে । যথা – গমন ( যাওযার ভাব বা কাজ ) , দর্শন ( দেখার কাজ ) , ভোজন ( খাওয়ার কাজ ) , শয়ন ( শোয়ার কাজ ) , দেখা , শোনা ইত্যাদি ।

৬) গুনবাচক বিশেষ্য : যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুনের নাম বোঝায় , তা- ই গুনবাচক বিশেষ্য । যথা – মধুর মিষ্টত্বের গুন- মধুরতা , তরল দ্রব্যের গুণ – তারল্য , তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ – তিক্ততা , তরূণের গুন-তারূণ্য ইত্যাদি । তদ্রূপ : – সেীরভ , যেীবন , সুখ , দু:খ ।

বিশেষন পদ : 

বিশেষন:  যে পদ বিশেষ্য , সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুন, অবস্থা , সংখ্যা , পরিমান ইত্যাদি প্রকাশ করে , তাকে বিশেষন পদ বলে ।

চলন্ত গাড়ি : বিশেষ্যের বিশেষন ।

করূনাময় তুমি : সর্বনামের বিশেষণ ।

দ্রুত চল : ক্রিয়া বিশেষণ ।

বিশেষণ দুই ভাগে বিভক্ত : যথা : – ১) নাম বিশেষণ ও ২) ভাব বিশেষণ ।

১) নাম বিশেষণ:  যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে , তাকে নাম বিশেষন বলে ।যথা : – 

বিশেষ্যের বিশেষন : সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে ?

সর্বনামের বিশেষণ: সে রূপবান ও  গুণবান।

নাম বিশেষনের প্রকারভেদ :

ক) রূপবাচক :নীল আকাশ , সবুজ মাঠ , কালো মেঘ ।

খ) গুনবাচক : চেীকস লোক , দক্ষ কারিগর , ঠান্ডা হাওয়া ।

গ) অবস্থাবাচক : তাজা মাছ , রোগা ছেলে , খোঁড়া পা ।

ঘ) সংখ্যাবাচক: হাজার লোক , দশ দশা , শ টাকা ।

ঙ) ক্রমবাচক : দশম শ্রেনী , সত্তর পৃষ্ঠা , প্রথমা কন্যা ।

চ) পরিমাণবাচক : বিঘাটেক জমি , পাঁচ শতাংশ ভূমি , হাজার টনী জাহাজ , এক কেজি চাল , দু কিলোমিটার রাস্তা ।

ছ) অংশবাচক: অর্ধেক সম্পতি , ষোল আন দখল , সিকি পথ ।

জ) উপাদানবাচক : বেলে মাটি , মেটে কলসি , পাথুরে মূর্তি ।

ঝ) প্রশ্নবাচক : কতদুর পথ ? কেমন অবস্থা ?

ঞ) নির্দিষ্টতাগ্রাপক : এই লোক , সেই লোক , ছাব্বিশে মার্চ ।

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি :

ক) ক্রিয়াজাত : হারানো সম্পতি , খাবার পানি , অনাগত দিন ।

খ) অব্যয়জাত : আচ্ছা মানুষ , উপরি পাওনা , হঠাৎ বড়লোক ।

গ) সর্বন্ম জাত : কবেকার কথা , কোথাকার কে , স্বীয় সম্পত্তি ।

ঘ) সমাসসিদ্ধ : বেকার, নিয়ম -বিরূদ্ধ , চেীচালা ঘর ।

ঙ)  বীস্পামূলক : হাসিহাসি মুখ , কাঁদকাঁদ চেহারা , ডুবুডুবু নেীকা ।

চ) অনুকার অব্যয়জাত : কনকনে শীত , শনশনে হাওয়া , ধিকিধিকি আগুন , টসটসে ফল , তকতকে মেঝে ।

ছ) কৃদন্ত : কৃতী সন্তান , জানাশোনা লোক , পায়ে- চলা পথ , হৃত সম্পত্তি , অতীত কাল ।

জ) তদ্ধিতান্ত: জাতীয় সম্পদ , নৈতিক বল , মেঠো পথ  ।

ঝ) উপসর্গযুক্ত : নিখুঁত কাজ , অপহৃত সম্পদ , নির্জলা মিথ্যে ।

ঞ) বিদেশি : নাস্তনাবুদ অবস্থা , লাওয়ারিশ মাল , লাখেরাজ সম্পত্তি , দরপত্তনি তালুক ।

২) ভাব বিশেষণ : যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তা-ই ভাব বিশেষণ ।

ভাব বিশেষণ চার প্রকার: ১) ক্রিয়া বিশেষণ , ২) বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ , ৩) অব্যয়ের বিশেষণ , ৪) বাক্যের বিশেষণ ।

১) ক্রিয়া বিশেষণ:  যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে , তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে । যথা –

ক) ক্রিয়া সংগঠনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয় ।

খ) ক্রিয়া সংগঠনের কাল : পরে একবার এসো ।

) বিশেষণীয় বিশেষণ : যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়অ বিশেষণকে বিশেষিত করে , তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে । যথা: –

ক) নাম বিশেষণের বিশেষণ :  সামান্য একটু দুধ দাও । এ ব্যাপারে  সে অতিশয় দু:খিত ।

খ) ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে ।

৩) অব্যয়ের বিশেষণ : যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে । যথা : – ধিক্ তারে , শত ধিক্ নির্লজ্জ সে জন ।

৪) বাক্যের বিশেষণ: কখনো কখনো কোন বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ন বাক্যেকে বিশেষিত করতে পারে , তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলা হয় । যেমন: –

দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে । বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন ।

বিশেষণের অতিশায়ন:

বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে , তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। যেমন: – যমুনা একটি দীর্ঘ নদী , পদ্মা দীর্ঘতর, কিন্তু মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী। সূর্য় , পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যে তুলনায় সূর্য বৃহত্তম , পৃথিবী চন্দ্রের  চেয়ে বৃহত্তর এবং চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর

ক) বাংলা শব্দের অতিশায়ন:

১) বাংলা শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে চাইতে, চেয়ে , হইতে, হতে, অপেক্ষা, থেকে ইত্যাদি শব্দ ব্যবহারিত হয় । এসব ক্ষেত্রে দুয়ের মধ্যে তারতম্য বোঝাতে প্রথম বিশেষ্যটি প্রায়ই ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত হয়ে থাকে এবং গরূর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি । 

বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান ।

২) বহুর মধ্যে অতিশায়ন: অনেকের মধ্যে   একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বোঝাতে মূল বিশেষণের কোন পরিবর্তন হয় না । মূল বিশেষণের পূর্বে সবচাইতে, সবচেয়ে , সব থেকে , সর্বাপেক্ষা , সর্বাধিক প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার হয় । যথা: – 

নবম শ্রেণির ছাত্রদের মধ্যে করিম সবচেয়ে বুদ্ধিমান । ভাইদের মধ্যে বিমলই সবচাইতে বিচক্ষণ । পশুর মধ্যে সিংহ সর্বাপেক্ষা বলবান ।

৩) দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেকে , অধিক, বেশি , অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয় । যথা : –

পদ্মফুল গোলাপের চাইতে অনেক সুন্দর । ‍ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী । কমলার চাইতে পাতিলেবু অল্প ছোট ।

৪) কখনো কখনো ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তিই চেয়ে , থেকে প্রভৃতি শব্দের কার্যসাধন করে । যেমন: – এ মাটি  সোনার বাড়া ।

খ) তৎসম শব্দের অতিশায়ন:

১) তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে “তর”এবং বহুর মধ্যে “ তম “ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে থাকে । যেমন: – গুরূ-গরূতর-গরূতম । দীর্ঘ-দীর্ঘতর-দীর্ঘতম ।

কিন্তু “ তর “ প্রত্যয়যুক্ত বিশেষনটি শ্রুতিকটু হলে “ তর “ প্রত্যয় যোগ না করে বিশেষণের পূর্বে “ অধিকতর “ শব্দটি যোগ করতে হয় । যেমন: – অশ্ব হস্তী অপেক্ষা অধিকতর সুশ্রী ।

২) বহুর মধ্যে অতিশায়নে তুলনীয় বস্তুর উল্লেখ না করেও “ তম “ প্রত্যয় যুক্ত হতে পারে । যেমন: – মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী । দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা ।

৩) তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে তুলনায় “ ঈয়স্ “ প্রত্যয় এবং বহুর মধ্যে তুলনায় “ ইষ্ঠ “ প্রত্যয় যুক্ত হয় । বাংলায় সাধারণত “ ঈয়স্ “ প্রত্যয়ান্ত শব্দগুলো ব্যবহারিত হয় না ।যেমন: –

মূল বিশেষনদুয়ের তুলনায়( বাংলা ব্যবহার নেই )বহুর তুলনায়
লঘুলঘিয়ানলঘিষ্ঠ
অল্পকনীয়ানকনিষ্ঠ
বৃদ্ধজ্যায়ানজ্যেষ্ঠ
শ্রেয়শ্রেয়ানশ্রেষ্ঠ

উদাহরন: তিন ভাইয়ের মধ্যে রহিমই জ্যেষ্ঠ এবং করিম কনিষ্ঠ । সংখ্যাগুলোর লঘিষ্ঠ সাধারন গুণিতক বের কর ।

৪) ” ঈয়স্ “ প্রত্যয়ান্ত কোনো কোনো শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ বাংলায় প্রচলিত আছে । যেমন: – ভূয়সী প্রশংস।

একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষন রূপে প্রয়োগ:

বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহারিত হতে পারে । যেমন: –

ভালো: বিশেষণ রূপে  –ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।

            বিশেষ্য রূপে – আপন ভালো সবাই চায় ।

মন্দ : বিশেষণ  রূপে – মন্দ কথা বলতে নেই ।

          বিশেষ্য রূপে  – এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে ?

পুন্য : বিশেষণ  রূপে – তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।

         বিশেষ্য  রূপে – পুণ্যে মতি হোক ।

নিশীথ : বিশেষণ রূপে – নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।

    বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত ।

শীত : বিশেষন রূপে – শীতকালে কুয়াশা পড়ে ।

        বিশেষ্য রূপে – শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

সত্য : বিশেষণ রূপে – সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল ।

       বিশেষ্য রূপে – এ এক বিরাট সত্য

সর্বনাম পদ : 

বিশেষ্যের পরিবর্তে  যে শব্দ ব্যবহারিত হয় , তাকে সর্বনাম পদ বলে ।

সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহারিত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ । যেমন: – হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রানী । তার শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তূপ ।

`দ্বিতীয় বাক্যে “ তার “ শব্দটি প্রথম বাক্যের “ হস্তী “ বিশেষ্য পদটির প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দরূপে ব্যবহারিত হয়েছে । তাই “ তার “ শব্দটি সর্বনাম পদ । বিশেষ্য পদ অনুক্ত ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহারিত হতে পারে । যেমন: –

ক) যারা দেশের ডাকে সাড়া  দিতে পারে, তারাই তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ।

খ) ধান ভানতে যারা শিবের গীত গায় , তারা স্থির লক্ষ্যে পেীঁছতে পারে না ।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ :

বাংলা ভাষায় ব্যবহারিত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে ।

১) ব্যক্তিবাচক বা পুরূষবাচক : আমি , আমরা , তুমি , তোমরা , সে, তারা , তাহারা , তিনি , তাঁরা , এ, এরা, ও , ওরা ইত্যাদি ।

২) আত্মবাচক : স্বয়ং , নিজে , খোদ, আপনি ।

৩) সামীপ্যবাচক : এ , এই , এরা , ইহারা , ইনি ইত্যাদি ।

৪) দূরত্ববাচক : ঐ , ঐসব ।

৫) সাকুল্যবাচক : সব , সকল , সমুদয় , তাবৎ ।

৬) প্রশ্নবাচক : কে , কি , কী , কোন , কাহার, কার , কিসে ?

৭) অনির্দিষ্টতাগ্রাপক : কোন , কেহ , কেউ, কিছু ।

৮) ব্যাতিহারিক : আপনা আপনি, নিজে নিজে , আপসে , পরস্পর ইত্যাদি ।

৯) সংযোগ্রাপক : যে , যিনি, যাঁরা , যারা , যাহারা ইত্যাদি ।

১০) অন্যাদিবাচক : অন্য , অপর , পর ইত্যাদি ।

সর্বনাম পদ :

১) ব্যাক্তিবাচক , ২) আত্মবাচক , ৩) সামীপ্যবাচক , ৪) দূরত্ববাচক , ৫) সাকুল্যবাচক , ৬) প্রশ্নবাচক , ৭) অনির্দিষ্টতাগ্রাপক , ৮) ব্যতিহারিক , ৯) সংযোগগ্রাপক , ১০) অন্যাদিবাচক ।

সর্বনামের পুরূষ :

” পুরূষ “ একটি পারিভাষিক শব্দ । বিশেষ্য , সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরূষ আছে । বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরূষ নেই ।

ব্যাকরনে পুরুষ তিন প্রকার-

১) উত্তম পুরুষ , ২) মধ্যম পুরুষ , ৩) নাম পুরুষ ।

১) উত্তম পুরুষ – স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ । আমি , আমরা, আমাকে , আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ ।

২) মধ্যম পুরুষ – প্রত্যক্ষভাবে  উদ্দিষ্ট ব্যাক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ । তুমি , তোমরা , তোমাকে , তোমাদের , তোমাদিগকে , আপনি, আপনারা , আপনার , আপনাদের প্রভৃতি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ ।

৩) নাম পুরুষ – অনুপস্থিত অথবা পরোভাবে উুদ্দিষ্ট ব্যাক্তি , বস্তু বা প্রাণীই নাম পুরুষ । সে , তারা, তাহারা, তাদের , তাহাকে , তিনি, তাঁকে , তাঁরা , তাঁদের প্রভৃতি নাম পুরুষ । ( সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ ) ।

পুরুষভেদে ব্যাক্তিবাচক সর্বনামগুলোর রূপ –

রূপউত্তম পুরুষমধ্যম পুরুষ নাম পুরুষ
সাধারণআমি , আমরা , আমাকে , আমাদিগকে , আমার , আমাদের, কবিতায় , মোর, মোরা   তুমি , তোমরা , তোমাকে, তোমাদিগকে, তোমার , তোমাদেরসে, তারা , তাহারা , তাকে , তাহাকে
সম্রতাত্মক আপনি , আপনারা , আপনাকে , আপনার, আপনাদেরতিনি , তাঁরা , তাঁহারা , তাঁদের , তাঁহাদিগকে , তাঁদেরকে , তাঁহাকে , তাঁকে, ইনি , এঁর, এঁরা , এঁদের , ইহাকে , এঁকে , উনি ,ওঁর, ওঁরা , ওঁদের
তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-গ্রাপক ।   ইহা , ইহারা , এই , এ , এরা , উহা , উহারা , ও , ওরা , ওদের ।

সর্বনামের বিভক্তিগ্রাহী রূপ-  

বাংলা সর্বনামসমূহ কর্তৃকারক ভিন্ন অন্যান্য কারকে বিভক্তিযুক্ত হওয়ার পূর্বে একটি বিশেষ রূপ পরিগ্রহ করে । সর্বনামের এ রূপটিকে বিভক্তিগ্রাহী রূপ বলা হয় ।

কর্তৃকারকে সর্বনামের মূল রূপটিই ব্যবহারিত হয়  এবং একে প্রথমা বিভক্তিযুক্ত এক বচন ধরা হয় ।

 কর্তৃকারেক প্রথমার এক বচনঅন্যান্য কারকে বিভক্তিগ্রাহী রূপ
সাধারনসম্ভ্রমাত্মকতুচ্ছার্থকসম্ভ্রমাত্মকতুচ্ছার্থক
আমি    
তুমিআপনিতুইআপনাতোমা, তো
সেতিনি তাঁহা , তাতাহা , তা
যেযিনি যাঁহা , যাঁযাহা , যা
 ইনিইঁহা , এঁইহা , এ
     
     
কে, কি , কী কে, কি , কী কাহা, কা

 গ্রাতব্য :

১) চলিত ভাষায় –

ক) তুচ্ছার্থে তাহা স্থানে তা , যাহা স্থানে যা , কাহা স্থানে কা , ইহা স্থানে এ , উহা স্থানে ও আদেশ হয় ।

খ) সম্ভ্রমার্থে এগুলোর সাথে একটি চন্দ্রবিন্দু সংযোজিত হয় । যথা : – তাহা+দের = তাহাদের ( সাধু ) > তাদের ( চলিত ) । ( সম্ভ্রমার্থে ) তাঁহা +দের = তাঁহাদের ( সাধু ) > তাঁদের ( চলিত ) ।

২) করন কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের পূর্বে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে র , এর বা কে বিভক্তি যোগ করে নিতে হয় । যেমন: – তাহাকে দিয়া , তাকে দিয়ে , তাহার দ্বারা , তার দ্বারা , আমাকে দিয়ে ।

৩) ষষ্ঠী বিভক্তি অর্থে ঈয় – প্রত্যয়যুক্ত সর্বনামজাত বিশেষণ শুধু তৎসম সর্বনামের ক্ষেত্রেই ব্যবহারিত হয় । যথা : মৎ+ঈয় = মদীয় , ভবৎ+ঈয় = ভবদীয় , তৎ+ঈয় = তদীয় ।

৪) “ কী “ সর্বনামটি কোনো কোনো কারকে “ কিসে “ বা ( ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত হয়ে ) , কীসের রূপ গ্রহন করে । যথা : – কী + দ্বারা = কীসের দ্বারা , কী+ থেকে=কীসে থেকে , কীসের থেকে ।

সর্বনামের বিশিষ্ট প্রয়োগ :

১) বিনয় প্রকাশে উত্তম পুরূষের এক বচনে দীন , অধম , বান্দা , সেবক , দাস প্রভৃতি শব্দ ব্যবহারিত হয় । যথা: – “ আগ্রা করে দাসে , শাস্তি নরাধমে । ” দীনের আরজ “ ।

২) ছন্দবদ্ধ কবিতায় সাধারণত “ আমার “ স্থানে মম” “ আমাদের “ স্থানে মোদেরে এবং “ আমরা “ স্থানে মোরা ব্যবহারিত হয় । যেমন: – “ কে বুঝিবে ব্যথা মম “ । মোদের গরব, মোদের আশা , আ মরি ! বাংলা ভাষা “ । “ ক্ষুদ্র শিশি মোরা , করি তোমারি বন্দনা ” ।

৩) উপাস্যের প্রতি সাধারণত “ আপনি “ স্থানে তুমি প্রযুক্ত হয় । যেমন: – ( উপাস্যের প্রতি ভক্ত ) “ প্রভু “ তুমি রক্ষা কর এ দীন সেবকে ।

৪) অভিন্দনপত্র রচনায়ও অনেক সময় সম্মানিত ব্যক্তিকে “ তুমি “ সম্বোধন করা হয় ।

৫) তুমি : ঘনিষ্ঠজন, আপনজন বা সমবয়স্ক সাথীদের প্রতি ব্যবহার ।

তুমি : তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত হয় , ঘনিষ্ঠতা বোষাতেও আমরা তাই ব্যবহার করি ।

অব্যয় পদ :

ন ব্যয় = অব্যয় । যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না , অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয় । অব্যয় শব্দের সাথে কোরো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না , সেগুলোর এক বচন বা বহু বচন হয় না এবং সেগুলোর  স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না ।

যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে , কখনো একাধিক পদের , বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায় , তাকে অব্যয় পদ বলে ।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে – বাংলা অব্যয় শব্দ , তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশি অব্যয় শব্দ ।

১) বাংলা অব্যয় শব্দ : আর , আবার, ও , হাঁ , না ইত্যাদি ।

২) তৎসম অব্যয় শব্দ :  যদি , যথা , সদা , সহসা , হঠাৎ, অর্থাৎ , দৈবাৎ , বরং , পুনশ্চ , আপাতত, বস্তুত  ইত্যাদি । “ এবং “ ও “ সুতরাং “ তৎসম শব্দ হয়েও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে । সংস্কৃতে “ এবং “ শব্দের অর্থ এমন , আর “ সুতরাং “ অর্থ অত্যন্ত , অবশ্য । কিন্তু এবং =ও ( বাংলা ) , সুতরাং = অতএব ( বাংলা ) ।

৩) বিদেশি অব্যয় শব্দ : আলবত , বহুত , খুব , শাবাশ , খাসা , মাইরি , মারহাবা   ইত্যাদি ।

বিবিধ উপায়ে গঠিত অব্যয় শব্দ :

১) একাধিক অব্যয় শব্দযোগে : কদাপি , নতুবা , অতএব , অথবা ইত্যাদি ।

২) আনন্দ বা দু:খ প্রকাশক একই শব্দের দুইবার প্রয়োগে : ছি ছি , ধিক্ ধিক্ , বেশ বেশ ইত্যাদি ।

৩) দুটি ভিন্ন শব্দযোগে : মোটকথা , হয়তো , যেহেতু , হইলে ইত্যাদি ।

৪) অনুকার শব্দযোগে : কুহু কুহু , গুন গুন , ঘেউ ঘেউ , শন শন , ছল ছল , কন কন ইত্যাদি ।

অব্যয়ের প্রকারভেদ :

অব্যয় প্রধানত চার প্রকার :

১) সমুচ্চয়ী , ২) অনন্বয়ী  , ৩) অনুসর্গ, ৪) অনুকার  বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় ।

১) সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন , বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায় , তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে । সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার: ১) সংযোজক , ২) বিয়োজক ও ৩) সংকোচক

ক) সংযোজক অব্যয় :

  1. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায় । এখানে “ ও “ অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে ।
  2. তিনি সৎ , তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে । এখানে “ তাই “ অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে । আর, অধিকন্তু , সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয় ।

খ) বিয়োজক অব্যয় :

১) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী । এখানে “ কিংবা “ অব্যয়টি দুটি পদের ( হাসেম এবং কাসেমের ) বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটাচ্ছে ।

২) “ মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর  পাতন “ । এখানে “ কিংবা “ অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক ।

আমরা চেষ্টা করেছি বটে , কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি । এখানে “ কিন্তু “ অব্যয়  দুটি বাক্যের বিয়োজক । বা , অথবা , নতুবা , না হয় , নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয় ।

গ) সংকোচক অব্যয় : তিনি বিদ্বান , অথচ সৎ ব্যাক্তি নন । এখানে “ অথচ “ অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করছে । কিন্তু , বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয় ।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে , যদি , যদিও , যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে । তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে । যেমন: –

১) তিনি এত পরিশ্রম কনের যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে ।

২) আজ যদি ( শর্ত বাচক ) পারি , একবার সেখানে যাব ।

৩) এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার ।

২) অনন্বয়ী অব্যয় : যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় , তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে । যেমন:-

ক) উচ্ছ্বাস প্রকাশে : মরি মরি ! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ !

খ) স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি : হ্যাঁ, আমি যাব । না , আমি যাব না ।

গ) সম্মতি প্রকাশে : আমি আজ আলবত যাব ! নিশ্চয়ই পারব ।

ঘ) অনুমোদনবাচকতায় : আপনি যখন বলছেন , বেশ তো আমি যাব ।

ঙ) সমর্থনসূচক জবাবে : আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে ।

চ) যন্ত্রনা প্রকাশে : উ: ! পায়ে বড্ড লেগেছে । না : ! এ কষ্ট অসহ্য ।

ছ) ঘৃনা বা বিরক্তি প্রকাশে : ছি ছি , তুমি এত নীচ ! কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না ।

জ) সম্বোধনে : ” ওগো “ আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে !

ঝ) সম্ভাবনায়  : “ সংশয়ে সংকল্প সদা টলে

পাছে লোকে কিছু বলে ।

ঞ) বাক্যালংকার অব্যয় : কয়েকটি অব্যয় শব্দ নিরর্থকভাবে ব্যবহারিত হয়ে বাক্যের শোভাবর্ধন করে, এদের বাক্যালংকার অব্যয় বলে । যেমন: –

) কত না হারানো স্মৃতি জাগে আজও মনে ।

২) “ হায়রে ভাগ্য , হায়রে লজ্জা, কোথায় সভা , কোথায় সজ্জা ।

৩) অনুসর্গ : যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে , তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে । যথা – ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না । ( দিয়ে অনুসর্গ অব্যয় ) ।

অনুসর্গ অব্যয়  “ পদান্বয়ী অব্যয় “ নামেও পরিচিত ।

অনুসর্গ অব্যয় দুই প্রকার:  ক) বিভক্তিসূচক অব্যয় এবং খ) বিভক্তি রূপে ব্যবহারিত অনুসর্গ ।

৪) অনুকার অব্যয় : যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব , শব্দ বা ধ্বনির অনুকরনে গঠিত হয় , সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে । যথা : –

কজ্রের ধ্বনি – কড় কড়  মেঘের গর্জন – গুড় গুড়

বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম   সিংহের গর্জন – গর গর

স্রোতের ধ্বনি – কল কল   ঘোড়ার ডাক – চিঁহি চিঁহি

বাতাসের গতি – শন শন   কাকের ডাক – কা কা

শষ্ক পাতার শব্দ – মর মর  কোকিলের রব – কুহু কুহু

নূপুরের আওয়াজ  – রুম ঝুম   চুড়ির শব্দ – টুং টাং

অনুভূতিমূলক অব্যয় ও অনুকর অব্যয়ের শ্রেণিভুক্ত । যথা –

ঝাঁ ঝাঁ ( প্রখরতাবাচক ) , খাঁ খাঁ ( শূন্যতাবাচক ) , কচ কচ , কট কট , টল মল , ঝল মল , চক চক , ছম ছম , টন টন, খট খট ইত্যাদি ।

অনুকার অব্যয় দুই প্রকার : –

ক) অব্যয় বিশেষন : কতগুলো অব্যয় বাক্যে ব্যবহারিত হলে নাম-বিশেষণ , ক্রিয়া-বিশেষণ এবং বিশেষণীয় বিশেষণের অর্থবাচকতা প্রকাশ করে থাকে । এদের অব্যয় বিশেষণ বলা হয় । যথা – 

নাম-বিশেষণ : অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ ।

ভাব – ভিশেষণ : আবর যেতে হবে ।

ক্রিয়া – বিশেষণ : অন্যত্র চলে যায় ।

খ) নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় : কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল , সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত । যেমন: – যথা – তথা , যত- তত , যখন – তখন , যেমন-তেমন , যেরূপ – সেরূপ ইত্যাদি । উদাহরণ:- যথা ধর্ম তথা জয় । যত গর্জে তত বর্ষে না ।

গ) ত ( সংস্কৃত তস্ ) প্রত্যায়ান্ত অব্যয় : এরকম তৎসম অব্যয় বাংলায় ব্যবহারিত হয় । যথা : – ধর্মত বলছি । দুর্ভাগ্যবশত পরীক্ষায় ফেল করেছি । অন্তত তোমার যাওয়া উচিত । গ্রানত মিথ্যা বলিনি ।

একই অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার :

১) আর – পুনরাবৃত্তি  : ও দিকে আর যাব না ।

নির্দেশ অর্থে : বল, আর কী চাও ?

নিরাশায় : সে দিন কি আর আসবে ?

বাক্যালংকারে : আর কি বাজবে বাঁশি ?

২) ও- সংযোগ অর্থে : করিম ও রহিম দুই ভাই ।

সম্ভাবনায় : আজ বৃষ্টি হতেও পারে ।

তুলনায় : ওকে বলাও যা , না বলাও তা ।

স্বীকৃতি গ্রাপনে : খেতে যাবে? গেলেও হয় ।

হতাশা গ্রাপনে : এক চেষ্টাতেও হলো না ।

৩) কি/কী – জিগ্রাসায় :  তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ ?

বিরক্তি প্রকাশে : কী বিপদ , লোকটা যে পিছু ছাড়ে না ।

সাকুল্য অর্থে :  কি আমীর কি ফকির , একদিন সকলকেই যেতে হবে ।

বিড়ম্বনা প্রকাশে : তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম ।

৪) না -নিষেধ অর্থে : এখন যেও না ।

বিকল্প প্রকাশে : তিনি যাবেন , না হয় আমি যাব ।

আদর প্রকাশে বা অনুরোধে : আর একটি মিষ্টি খাও না খোকা । আর একটা গান গাও না ।

সম্ভানায় : তিনি না কি ঢাকায় যাবেন ।

বিস্ময়ে : কী করেই না দিন কাটাচ্ছ !

তুলনায় : ছেলে তো না , যেন একটা হিটলার ।

৫) যেন- উপমায় : মুখ যেন পদ্মফুল ।

প্রার্থনায় : খোদা যেন তোমার মঙ্গল করেন ।

তুলনায় : ইস্ ঠান্ডা যেন বরফ ।

অনুমানে : লোকটা যেন আমার পরিচিত মনে হলো ।

সতর্কীকরণে : সাবধানে চল , যেন পা পিছলে না পড় ।

ব্যাঙ্গ প্রকাশে : ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল ।

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 ÷ = 6