পল্লিসাহিত্য

          মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ 

পল্লীগ্রামে শহরের মতো গায়ক, বাদক, নর্তক না থাকলেও তার অভাব নেই । চারদিকে কুকিল, দোয়েল , পাপিয়া প্রভৃতি পাখির কলগান , নদীর কুলকুল ধ্বনি,  পাতার মর্মর শব্দ, শ্যামল শস্যের ভঙ্গিময় হিলাদুলা প্রচুর পরিমাণে শহরের অভাবে এখানে পূর্ণ করে দিচ্ছে । পল্লীর ঘাটে মাঠে , পল্লীর আলোবাতাসে , পল্লীর প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে । কিন্তু বাতাসের মধ্যে বাস করে যেমন আমরা ভুলে যাই বায়ু-সাগরে আমরা ডুবে আছি , তেমনই পাড়াগাঁয়ে থেকে আমাদের মনেই হয় না যে কত বড় সাহিত্য ও সাহিত্যের উপকরণ ছড়িয়ে আছে । 

শ্রদ্ধেয় ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন “ মৈমনসিংহ গীতিকা” সংগ্রহ করে দেখিয়েছেন সাহিত্যের কি এক অমূল্য খুনি পল্লিজননী বুকের কোণে লুকিয়ে আছে । সুদূর পশ্চিমের সাহিত্যরসিক রোঁমা রোঁমা পর্যন্ত ময়মনসিংহের মদিনা বিবির সৌন্দের্য্যে মুগ্ধ হয়েছেন । মুনসুর বয়াতির মতো আরো কত পল্লীকবি শহরে চক্ষুর অগোচরে পল্লীতে আত্মগোপন করে আছেন,  কে তাঁদের সাহিত্যে মজলিসে এসে জগতের সঙ্গে চেনাশোনা করিয়ে দিবে ? আর যদি বাংলাদেশের প্রত্যেক পল্লী থেকে এইসব অজানা-অচেনা কবিদের গাঁথা সংগ্রহ করে প্রকাশ করা হত,  তা হলে দেখা যেত বাংলার মুসলমানও সাহিত্য সম্পদে কত ধনী।  কিন্তু হায় ! এ কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল কই ? 

আমরা পল্লীগ্রামে বুড়োবুড়ির মুখে কোন ঝিল্লিমুখর সন্ধ্যা কালে যেসব কথা শুনতে শুনতে ছেলেবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছি,  সেগুলো না কত মনোহর ! কত চমকপ্রদ! আরব্য উপন্যাসের আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ , আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যু প্রভৃতির চয়ে পল্লির উপকথাগুলোর মূল্য কম নয় । আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে সেগুলো বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে । এখানকার শিক্ষিত সন্তানকে আর রাখালের পিঠা গাছের কথা , রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা ও পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা শুনায় না , তাদের কাছে বলেন আরব্য উপন্যাসের গল্প কিংবা Lamb’s Tales from Shakespeare- এর গল্পের অনুবাদ । ফলে কোন সুদূর অতীতের সাক্ষীস্বরূপ এই রূপকথা নষ্ট হয়ে অতীতের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধে লোপ করে দিচ্ছে । যদি আজ বাংলার সমস্ত রূপকথা সংগ্রহীত হতো , তবে কোন প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা করে দেখিয়ে দিতে পারতেন যে , বাংলার নিভৃত কনের কোন কোন পিতামহী মাতামহীর ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য প্রান্তে কিংবা ভারত উপমহাদেশের বাইরে সিংহল, সুমাত্রা, যাভা, কম্বোডিয়া প্রভৃতি স্থানে এমনিভাবে প্রচলিত আছে । হয়তো এশিয়ার বাইরে ইউরোপখন্ডে লিথুনিয়া কিংবা ওয়েলসের কোন পল্লীরমণী এখনো হুবুহু বা কিছু রূপান্তিত ভাবে সেই উপকথাগুলো তার ছেলেপুলে  বা নাতি-পোতাকে শোনাচ্ছে । কে আছে এই উপকথাগুলো সংগ্রহ করে তাদের অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে ? ইউরোপ, আমেরিকা দেশে বড় বড় বিদ্বানদের সভা আছে,  যাকে বলা হয় Folklore Society  তাদের কাজ হচ্ছে এইসব সংগ্রহ করা এবং অন্য সভ্য দেশের উপকথার সঙ্গে সাদৃশ্য নিয়ে বিচার করা । এগুলো নৃতত্ত্বের মূল্যবান উপকরণ বলে কোন সমাজে গৃহীত হয়।  শ্রীযুক্ত দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ” ঠাকুরমার ঝুলি” বা ‘ঠাকুরদার থলে’ যথেষ্ট নয় ।  বাংলাদেশের সমস্ত উপকথা এক জায়গায় জড় করলে বিশ্বকোষের মতো কয়েক বালামে সংকুলান হতো না । 

আমরা Shakespeare – এ পড়েছি রাক্ষসদের বাঁধা বলি হচ্ছে Fi, Fie, foh, fun! ও small the blood of a British man- এর সঙ্গে তুলনা করে পল্লীর ‘হাঁউ, মাঁউ, খাঁউ, মানুষের গন্ধ পাঁউ, এ সাদৃশ্য হলো কোথায় থেকে ? তবে কি একদিন ঐ সাদা ইংরেজ ও ঐ কালো বাঙালির পূর্বপুরুষগণ ভাই ভাই  রূপে একই তাঁবুর নিচে বাস করত, ‘ এই রকম আরও কত কি ! তারপর ডাকের কথা আছে , খনার বচন আছে । 

যেমন ধরুন – কলা রুয়ে না কেটো পাত ,

                     তাতেই কাপড় তাতেই ভাত । 

প্রবাদ বাক্য এবং ডাক ও খনার বচনে কত যুগের ভূয়োদর্শনের পরিপক্ক ফল সঞ্চিত হয়ে আছে, কে তা অস্বীকার করতে পারে ? শুধু তাই নয় , জাতির পুরনো ইতিহাসের অনেক গোপন কথাও এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় । 

আমরা আজ ও বলি – ‘ পিঁড়ের বসে পেঁড়োর খবর।’ এই প্রবাদ বাক্যটি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় , যখন পান্ডুয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল । কে এই প্রবাদ বাক্য , ডাক,  খনার বচনগুলো সংগ্রহ করে তাদের চিরকাল জীবন্ত করে রাখবে । 

তারপর ধরুন ছড়ার কথা । কথায় কথায় ছেলেমেয়েগুলো ছড়া কাটতে থাকে।  রোদের সময় বৃষ্টি হচ্ছে অমনি তারা সমস্বরে ঝংকার দিয়ে ওঠে – 

             রোদ হচ্ছে ,পানি হচ্ছে ,

             খেকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে । 

এর সঙ্গে সঙ্গে মনে করুন মায়ের সেই ঘুমপাড়ানি গান সেই খোকা-খুকি ছড়া । এগুলি সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস, কিন্তু আজ দুঃখের দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই । ছড়াও ক্রমে লোকে ভুলে যাচ্ছে । কে এগুলিকে বইয়ের পাতায় অমর করে রাখবে ? শুধু ছড়া কেন ? খেলাধুলা না কত বাঁধা গৎ আছে বা ছিল আমাদের এ দেশে  । যখন ফুটবল , ব্যাটবলের নাম কারো জানা ছিল না , তখন কপাটি খেলার খুব ধুম ছিল । সে খেলার সঙ্গে কতনা বাঁধা বুলি ছেলেরা ব্যবহার করত- 

এক হাত বোল্লা বার হাত শিং 

উড়ে যায় বোল্লা তিং তিং । 

বিদেশি খেলার প্রচলন এর সঙ্গে সঙ্গে এসব লোপ পাবার উপক্রম হয়েছে।  এদের বাঁচিয়ে রাখবে ? 

তারপর ধরুন , পল্লী গানের কথা । পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে এই গানগুলি অমূল্য রত্ন বিশেষ । সেই জারি গান , সেই ভাটিয়ালি গান,  সেই রাখালী গান , মারফতি গান-গানের এক অফুরন্ত ভান্ডার পল্লীর ঘাটে-মাঠে ছড়ানো রয়েছে । তাতে কত প্রেম , কত আনন্দ , কত সৌন্দর্য , কত তত্ত্বজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে । শহরে গানের প্রভাবে সেগুলো এখন বর্বর চাষার গান বলে ভদ্রসমাজে বিকায় না । কিন্তু-

 মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে 

আমি আর বাইতে পারলাম না । 

এই গানটির সঙ্গে আপনার শহরে গানের কোনো তুলনা হতে পারে ? কিন্তু ধারাবাহিক রূপে সেগুলো সংগ্রহের জন্য কোন চেষ্টা হচ্ছে কি ? 

এ পর্যন্ত যা বললাম সেগুলো হচ্ছে পল্লীর প্রাচীন সম্পদ । সাহিত্যের ভান্ডারে দান করবার মতো পল্লীর নতুন সম্পদের অভাব নেই । আজকাল বাংলাসাহিত্য বলে যে সাহিত্য চলছে তার পনেরো আনা হচ্ছে শহরে সাহিত্য , সাধু ভাষায় বলতে গেলে নাগরিক সাহিত্য। সে সাহিত্যে আছে রাজ-রাজড়ার কথা , বাবু-বিবির কথা, মোটরগাড়ির কথা, বিজলি বাতির কথা , সিনেমা থিয়েটারের কথা, চায়ের বাটিতে ফুঁ দেওয়ার কথা।  এইসব কথা নিয়ে গল্প উপন্যাস কবিতা নাটক রাশি রাশি লেখা হচ্ছে । পল্লীর গৃহস্থ কৃষকদের  জেলে-মাঝি, মুটে-মজুরের কোনো কথা তাতে ঠাঁই নাই । তাদের সুখ দুঃখ,  তাদের পাপ পুণ্য তাদের আশা-আকাঙ্খার কথা কয়জনে মাথা ঘামাচ্ছে ? আমাদের বিশ্ব বরেণ্য কবি সম্রাট ও একবার  ‘ এবার ফিরাও মোরে ‘ বলে আবার নাগরিক সাহিত্য  নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন । ধান গাছে তক্তা হয় কিনা, এখন শহরের লোকেরা এটা জানলেও পাড়াগাঁয়ের জীবন তাদের কাছে এক অজানা রাজ্য । সেটা কারো কাছে একেবারে পচা জঘন্য , আর কারো কাছে একেবারে চাদের জোসনা দিয়ে ঘেরা । তারা পল্লীর র্মম কথা কি করে জানবেন । কি করেই বা তার মুখচ্ছবিখানি আঁকবেন? আমাদের আর দরকার হয়েছে শহরের সাহিত্যের বালাখানার পাশে গেঁয়ো সাহিত্যের জোড়াবাংলা ঘর তুলতে । আজ অনেকের আত্মা পাথর ও লোহার কৃত্রিম বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে মাটির ঘর মাটির মানুষ হয়ে থাকতে চাচ্ছে । তাদের জন্য আমাদের কিছু গড়াগাঁথন দরকার আছে । ইউরোপ-আমেরিকায় আজ এই Proletariat  সাহিত্যকর্মের আদরের আসন পাচ্ছে ,আমাদের দেশেও পাবে ।  কিন্তু কোথায় সে পল্লীর কবি ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক যারা নিখুতভাবে এই শহরে চশমা আঁটা-চোখের সামনে ধরতে পারবেন? 

এই সমস্ত রূপকথা, পল্লীগাঁথা, ছড়া প্রভৃতি দেশের আলোবাতাসের মতো সকলেরই সাধারণ সম্পত্তি।  তাতে হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদ নেই । যেরূপ মাতৃস্তন্য সন্তান মাত্রই অধিকার , সেরূপে পল্লিসাহিত্য পল্লিজননী হিন্দু-মুসলমান সকলেই সমান অধিকার । 

এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলায় ছিল । তার কলঙ্কবিশেষে এখনো কিছু আছে , সময়ের ও রুচির পরিবর্তন সে অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে । নেহাত সেকেলে পাড়াগাঁয়ের লোক ছাড়া সেগুলোর আর কেউ আদর করে না । কিন্তু একদিন ছিল যখন নায়ের দাঁড়ি-মাঝি থেকে গৃহস্থের বউ -ঝি পর্যন্ত , বালক থেকে বুড়ো পর্যন্ত,  আমির থেকে গরিব পর্যন্ত সকল কেই এগুলো আনন্দ উপদেশ বিলাতো । যদি পল্লী সাহিত্যের দিকে পল্লিজননী সন্তানেরা মনোযোগ দেয় তবে আমার মনে হয় এরূপ পল্লী সাহিত্য সভার আয়োজন সার্থক হবে , নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয় , কেবলি ফক্কিকার । 

শব্দার্থ টীকা : কলগান শ্রুতিমধুর ধ্বনি । পরতে পরতেস্তরে স্তরে । ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষক ও সাধক দীনেশচন্দ্র সেন মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরী গ্রামে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন । ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে তিনিই সর্বপ্রথম ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য ’ গ্রন্থে বাংলাদেশের লোকসাহিত্যিক গৌরব ও মর্যাদা সাহিত্যের দরবারে তুলে ধরেন । তারই সুযোগ্য সম্পাদনায় চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক সংগ্রহীত ‘মৈমনসিংহ গীতিকা ’ এবং ‘ পূর্ববঙ্গ গীতিক ‘  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।  দীনেশচন্দ্র সেনের মৌলিক গ্রন্থ গুলোর মধ্যে রামায়ণ কথা , বৃহৎবঙ্গ, বেহুলা, ফুল্লরা, জড়ভরত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য । ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি পরলোকগমন করেন । রোমাঁ রোলাঁ ( Roman Rolland ) ফরাসি দেশের কাল জয়ী সাহিত্যিক দার্শনিক । রোমাঁ  রোলাঁর জন্ম ২৯ শে জানুয়ারি , ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে । ‘ জাঁ ক্রিস্তফ ‘ উপন্যাস তার অমূল্য কীর্তি । এ গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন । ৩০ শে ডিসেম্বর ১৯৩৯ সালে তার মৃত্যু হয় । মদিনা বিবি মৈমনসিংহ গীতিকায় অন্তভুক্ত লোকগাথা ‘দেওয়ানা-মদিনা’র নায়িকা । 

মনসুর বয়াতি দেওয়ানা-মদিনা’র লোকগাথার বিখ্যাত কবি । আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ আরব্য উপন্যাসের সবচেয়ে চিত্রাকর্ষক গল্প আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ । এই গল্পটির ঘটনাস্থল চীন দেশ । আলাউদ্দিন নামের এক সাহসী তরুণ এক চতুর জাদুঘরের বিস্ময়কর প্রদীপ লাভ করে । আলাউদ্দিন ছিল গরীব এক দুঃখিনী মায়ের একমাত্র ছেলে । এ প্রদীপ দিলেই এক মহাশক্তিধর দৈত্য এসে হাজির হতো এবং আলাউদ্দিনের আদেশ অনুযায়ী কাজ করত । এভাবেই এ প্রদীপের বদৌলতে আলাউদ্দিন প্রচুর ধন সম্পদের অধিকারী হয়।  মায়ের দুঃখও দূর হয় । 

আলিবাবা চল্লিশ দস্যু আরব্য উপন্যাসের অন্যতম বিখ্যাত গল্প।  গরিব কাঠুরে আলিবাবা ভাগ্যক্রমে পাহাড়ের গুহায় দস্যুদলের গুপ্ত ধনভান্ডারের সন্ধান পায় । সেখান থেকে প্রচুর ধনরত্ন এনে বাড়িতে রাখে । দস্যুদল আলী বাবার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করে । আলিবাবা তার বুদ্ধিমতী বাদী মর্জিনার সহায়তায় এই দস্যুদলকে কাবু করে । 

Lamb’s Tales from Shakespeare- বিশ্ব বিখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার ও কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক গুলো সহজ ভাষায় কিশোরীদের উপযোগী করে রূপান্তর করেন । সেই গ্রন্থেরই উল্লেখ এখানে করা হয়েছে।  

প্রত্নতাত্ত্বিক–  পুরাতত্ত্ববিদ ।  প্রাচীন লিপি ,মুদ্রা বা ভগ্নবশেষ থেকে পুরাকালের তথ্য নির্ণয় করেন । 

Folklore Society- যে সমিতির লোকশিল্প গান উৎসব অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার উপাদান সংগ্রহ করে এবং প্রচারের জন্য নানা কাজ করে থাকে এ সমিতি লোকসাহিত্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে নিয়োজিত । উইলিয়াম থমস ‘ ফোকলোর ‘  কথাটির উদ্ভাবক । ১৮৪৮ সালে সর্বপ্রথম লন্ডনে এই সমিতি গঠিত হয় । 

নৃতত্ত্ব ( Anthropology ) – মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞান । 

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারপ্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও বাংলা লোকগাথা ও রূপকথার রূপকার দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের জন্ম ১২৮৪ বঙ্গব্দে, মৃত্যু ১৩৬৩ সনে । তিনি বাংলার নানা অঞ্চলগুলি বহু পরিশ্রম করে রূপকথা সংগ্রহ করেন।  তাঁর রচিত ‘ ঠাকুরমার ঝুলি ‘ শিশুদের প্রিয় বই । 

প্রবাদবাক্যদীর্ঘদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাসযোগ্য কথা বা জনশ্রুতি , যেমন, ‘ নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা ‘ । 

খনাপ্রাচীন ভারতের বিখ্যাত নারী জ্যোতিষী । বাংলাদেশের জলবায়ু নির্ভর কৃষিতত্ত্ব বিষয়ে উপদেশমূলক খনার ছড়াগুলো অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ে রচিত বলে ধারণা করা হয় । পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত বারাসাত মহাকুমার দেওলি গ্রামে তার নিবাস ছিল বলে জনশ্রুতি আছে । 

বালামবইয়ের খন্ড , ইংরেজি Volume । ভূয়োদর্শন প্রচুর দেখা ও শোনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা । বালাখানা প্রাসাদ । Proletariat সাহিত্য অত্যাচারিত শ্রমজীবী দুঃখী মানুষের সাহিত্য । ফক্কিকারফাঁকিবাজ । 

পাঠপরিচিতি : ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে কিশোরগঞ্জ জেলার পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশনের ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন।  এ সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে তিনি যে অভিভাষণ দেন তারই পূর্নলিখিত রূপ ’পল্লীসাহিত্য ’ প্রবন্ধটি । আলোচ্য প্রবন্ধে ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলার পল্লী সাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন । লেখক এই প্রসঙ্গে বলেছেন , একদিন এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলাদেশের ছিল আ, জ উপযুক্ত গবেষক এবং আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও চেষ্টায় সেই সম্পদগুলো সংগ্রহ করা নিতান্ত প্রয়োজন । বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য পল্লীসাহিত্যের বিচিত্র সম্পদ বিশেষ যত্নের সঙ্গে আহরণ করা একান্ত আবশ্যক । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

× 6 = 36