ভাষা

ভাষার সংজ্ঞা

 মানুষ তার মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করার জন্য  কণ্ঠধ্বনি  এবং হাত, পা, চোখ  ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে ইঙ্গিত করে থাকে ।  কন্ঠধ্বনির সাহায্যে মানুষ যত বেশি পরিমাণ মনোভাব প্রকাশ করতে পারে,  ইঙ্গিত এর সাহায্যে ততটা পারেনা ।  আর কণ্ঠধ্বনি সহযোগিতা মানুষ মনের সূহ্মাতিসূক্ষ্ন ভাবও  প্রকাশ করতে সমর্থ হয় ।  কণ্ঠ ধ্বনি বলতে মুখগহ্বর,  কন্ঠ ,  নাসিকা ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনি বা  ধ্বনি সমষ্টিকে বোঝায় । এই  ধ্বনিই ভাষার মূল উপাদান।  এই  ধ্বনির সাহায্যে ভাষার সৃষ্টি হয় ।  আবার  ধ্বনির সৃষ্টি হয়  বাগ যন্ত্রের দ্বারা ।  গলনালী ,  মুখবিবর,  কন্ঠ,  জিব্রা ,  তালু,  দন্ত , নাসিকা  ইত্যাদি বাক-প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাকযন্ত্র ।  এই বাকযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনি সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যম কে ভাষা বলে । 

সকল মানুষের বাসায় বাগ যন্ত্রের দ্বারা সৃষ্টি ।  তবুও একই ধ্বনি বা  ধ্বনিসমষ্টির অর্থ বিভিন্ন মানব গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে । এ কারণে বিভিন্ন মানব গোষ্ঠীর জন্য আলাদা আলাদা ভাষার সৃষ্টি হয়েছে । 

#) মানুষের কন্ঠনিঃসৃত  বাক সংকেতের  সংগঠনকে ভাষা বলা হয় ।  অর্থাৎ  বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্টি অর্থবোধক ধ্বনির  সংকেত এর সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমে হলো ভাষা । 

#) মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য মানুষ্য জাতি  অপরের বোধগম্য  যে ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টি উচ্চারণ করে থাকে,  তাকে ভাষা বলে । 

#) বাসা বিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে বাসা কে সংজ্ঞায়িত করেছেন । 

ডক্টর  মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে , “ মানুষ্য জাতি যে ধ্বনি বা ধ্বনি সকল দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করে,  তার নাম ভাষা । 

#)  ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন , “ মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত , ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন, কোন বিশেষ সমাজে ব্যবহারিত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত, তথা বাক্যে প্রস্তুত শব্দ- সমষ্টিকে ভাষা বলে। 

#) মূলত মানুষের মনোভাব প্রকাশের কন্ঠনিঃসৃত অর্থবহ ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলে । 

দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে ভাষার পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে।  বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থান করে মানুষ আপন মনোভাব প্রকাশের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বস্তু ও ভাবের জন্য বিভিন্ন ধরনের সাহায্যের শব্দের সৃষ্টি করেছে । সেসব শব্দ মূল্ত নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের বস্তু ও ভাবের প্রতীক মাত্র। এজন্যই আমরা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষার ব্যবহার দেখতে পাই । সে ভাষাও আবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে উচ্চারিত হয়ে এসেছে ।  ফলে,  এ শতকে মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে যে ভাষা ব্যবহার করে , হাজার হাজার আগেকার মানুষের ভাষা ঠিক এমনই ছিল না । 

 বর্তমান পৃথিবীতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি ভাষা প্রচলিত আছে ।  তার মধ্যে বাংলা একটি ভাষা।  ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মাতৃভাষা ।  বাংলাদেশের অধিবাসীদের মাতৃভাষা বাংলা ।  বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের সাধারণত  এবং  ত্রিপুরা, বিহার, উড়িষ্যা ও  আসামের কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের ভাষা  বাংলা ।  এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও  যুক্তরাজ্যসহ  বিশ্বের অনেক দেশের জনগণ রয়েছে  বাংলা ভাষাভাষী। 

বাংলা ভাষারীতি – 

 বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জনগণ নিজ নিজ অঞ্চলের ভাষা কথা বলে ।  এগুলো আঞ্চলিক কথ্য ভাষা ও উপভাষা । পৃথিবীর সব ভাষাতেই উপভাষা রয়েছে ।  এক অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষার সঙ্গে অপর অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষার যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায় ।  ফলে এমন হয় যে,  এক অঞ্চলের ভাষা অন্য অঞ্চলের লোকের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে ।  উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে,  চট্টগ্রাম অঞ্চলের  সাধারণের কথ্য ভাষা দিনাজপুর বা রংপুরের লোকের পক্ষে খুব সহজবোধ্য নয় ।  এ ধরনের আঞ্চলিক ভাষাকে বলার ও লেখার ভাষা হিসেবে সর্বজনীন স্বীকৃতি দেওয়া সুবিধাজনক নয় ।  কারণ,  তাতে বিভিন্ন আঞ্চলিক বাসীদের আদান-প্রদানের অন্তরায় দেখা দিতে পারে ।  সে কারণে,  দেশের শিক্ষিত ও  পন্ডিত সমাজে একটি আদর্শ ভাষা ব্যবহার করেন । বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষিত জনগণ এ আদেশ ভাষাতেই পারস্পারিক আলাপ-আলোচনা ও ভাবের আদান প্রদান করে থাকে । বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার কথ্য রীতি সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহারিত এই ভাষায় আদের্শ ও চলিত ভাষা । 

বাংলা, ইংরেজি,  আরবি, হিন্দি  প্রভৃতি ভাষার মৌলিক বা কথ্য  এবং লৈখিক বা লৈখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায় ।  ভাষার মৌলিক রূপ এর আবার রয়েছে একাধিক রীতি –  একটি প্রমিত রীতি ( Standard Colloquial language ) , অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি ( Regional Colloquial Style ) 

বাংলা ভাষার লৈখিক বা লৈখ্য  রুপেরও  রয়েছে দুইটি রীতি:  একটি চলিত রীতি ( Standard Colloquial Style )  ,  অপরটি  সাধুরীতি ( Standard Written form) 

সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য : 

১) সাধুরীতি 

ক) বাংলা লেখ সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট ।

 খ ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল । 

গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী । 

ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে । 

২) চলিত রীতি : 

ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল । ১00 বছর আগে যে চলিতরীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্র জনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল , কালের প্রবাহে বর্তমান তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে । 

খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল । 

গ) চলিত রীতির সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং আলাপ-আলোচনা ও নাট্য সংলাপের জন্য বেশি উপযোগী । 

ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত সহজতর রূপ লাভ করে । বিশেষ্য ও বিশেষণ এর ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে । 

৩) আঞ্চলিক কথ্য রীতি : 

সব ভাষারই আঞ্চলিক রূপের বৈচিত্র থাকে , বাংলা ভাষাও তা আছে । বিভিন্ন অঞ্চলে কথিত রীতির ভিন্নতা লক্ষিত হয় ; আবার কোথাও কোথাও কারও কারও উচ্চারণে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষার মিশ্রণে লক্ষ্য করা যায় । 

সাধু, চলিত কথ্যরীতির উদাহরণ : 

ক) সাধুরীতি : 

পরদিন প্রাতে হেডমাস্টার সাহেবের প্রস্তুত লিস্ট অনুসারে যে তিনজন শিক্ষক সাহেবের সহিত সাক্ষাৎ করিবার অনুমতি পাইয়াছিলেন, তাহারা ৮ টার পূর্বেই ডাকবাংলায় উপস্থিত হইলেন । একটু পরে আব্দুল্লাহ আসিয়া হাজির হইলো । তাহারা দেখিয়া একজন শিক্ষক জিজ্ঞাসা করিলেন আপনি যে! আপনার নাম তো হেডমাস্টার লিস্টে দেন নাই । – কাজী ইমদাদুল হক । 

খ) চলিত রীতি : 

পুল পেরিয়ে সামনে একটা বাঁশ বাগান পরল । তারই মধ্যে দিয়ে রাস্তা । মচ মচ করে শুকনো বাঁশ পাতার রাশ ও বাঁশের খোসা জুতোর নিচে ভেঙে যেতে লাগলো । 

পাশে একটা ফাঁকা যায়গা বুনো গাছপালা লতা ঘন সমাবেশ । সমস্ত ঝোপটার  মাথা জুড়ে সাদা সাদা তুলোর মত রাধালতার ফুল ফুটে রয়েছে । 

  • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় । 

বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার: 

বাংলা ভাষার গোড়াপত্তনের যুগের স্বল্পসংখ্যক শব্দ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও নানা ভাষা সংস্পর্শে এসে এর শব্দ সম্ভার বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে  । বাংলাদেশে তুর্কি আগমন ও মুসলিম শাসন পতনের সুযোগে ক্রমে প্রচুর আরবি ও ফারসি শব্দ বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদে পরিণত হয়েছে । এরপর এলো ইংরেজ । ইংরেজ শাসনামলে ও তাদের নিজস্ব সাহিত্য এবং সংস্কৃতির বহু শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ লাভ করে । বাংলা ভাষা ওইসব ভাষার শব্দ গুলোকে আপন করে নিয়েছে । এভাবে বাংলা ভাষার যে শব্দ সম্ভারের সমাবেশ হয়েছে, সে গুলোকে পণ্ডিতগণ কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন যেমন :- 

১) তৎসম শব্দ 

২) তদ্ভব শব্দ 

৩) অর্ধ তৎসম শব্দ 

৪) দেশি শব্দ 

৫)  বিদেশী সব 

১) তৎসম শব্দ : 

যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে , সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ । তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ । এর অর্থ [ তৎ (তার) +সম(সমান) ]=তার সমান অর্থাৎ সংস্কৃত । উদাহরণ : চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র , পাত্র , মনুষ্য ইত্যাদি । 

২) তদ্ভব শব্দ : 

যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষা পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষার স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দ কে বলা হয় তদ্ভব শব্দ । তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ । এর অর্থ , “ তৎ( তার ) থেকে “ভব “ ( উৎপন্ন ) । যেমন :  সংস্কৃত- হস্ত .  প্রাকৃত-হথ ,  তদ্ভব – হাত । সংস্কৃত- চর্মকার ,  প্রাকৃত- চম্মআর , তদ্ভব-  চামার ইত্যাদি । এই তদ্ভব শব্দ গুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দ বলা হয় । 

৩) অর্ধ-তৎসম শব্দ : 

বাংলা ভাষার কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয় । এগুলোকে বলে অর্ধ তৎসম শব্দ । তৎসম মানে সংস্কৃত । আর অর্ধ তৎসম মানে আধা সংস্কৃত । উদাহরণ: জোসনা , ছেরাদ্দ , গিন্নি , বোষ্টম, কুচ্ছিত – এ শব্দগুলো যথাক্রমে সংস্কৃত  জ্যোৎস্না , শ্রাদ্ধ, গৃহিনী , বৈষ্বব, কুৎসিত শব্দ থেকে আগত । 

৪) দেশি শব্দ  : 

বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের ( যেমন: গোলমুন্ডা প্রভৃতি )ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত রয়েছে ।এসব শব্দ কে দেশি শব্দ নামে অভিহিত করা হয়। অনেক সময় এসব শব্দের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না ,কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মিলে।যেমন : কুড়ি ( বিশ ) -কোলভাষা, পেট ( উদর ) – তালিম ভাষা , চুলা ( উনুন ) – মুন্ডারী ভাষা । এরূপ হচ্ছে – কুলা , গঞ্জ, চোঙ্গা , টোপর , ডাব, ডাগর , টেঁকি , ইত্যাদি আরও বহু দেশি শব্দ বাংলা ব্যবহৃত হয় । 

৫) বিদেশি শব্দ : 

রাজনৈতিক, ধর্মীয়,  সংস্কৃতিগত ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় স্থান করে নিয়েছে । এসব শব্দ কে বলা হয় বিদেশি শব্দ । এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবী , ফরাসি এবং ইংরেজি শব্দ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । এছাড়া উদ্যোগী, ফরাসি,  ওলন্দাজ, তুর্কি – এসব ভাষার  আরো কিছু শব্দ একইভাবে বাংলা ভাষায় এসে গেছে । আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত, মায়ানমার (  বার্মা)  মালয় ,  চীন  জাপান  প্রভৃতি দেশের কিছু শব্দ আমাদের ভাষায় প্রচলিত রয়েছে । 

ক) আরবি শব্দ: 

বাংলা ব্যবহৃত আরবি শব্দ গুলোকে দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায় :- 

১) ধর্ম সংক্রান্ত শব্দ : 

আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কোরআন ,কেয়ামত ,গোসল ,জান্নাত,  জাহান্নাম ,তওবা ,তসবি, যাকাত, হজ্জ,  হাদিস, হারাম হালাল  ইত্যাদি । 

২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ : 

আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর,  এজলাস , এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা , খারিজ, গায়েব, দোয়াত,  নগদ, বাকি,মহকুমা, মোক্তার , রায় ইত্যাদি । 

খ) ফরাসি শব্দ : 

বাংলা ভাষায় আগত ফরাসি শব্দ গুলোকে আবার তিন ভাগে ভাগ করতে পারি । 

১) ধর্ম সংক্রান্ত শব্দ : 

খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ,  পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশ্ত, রোজা  ইত্যাদি । 

২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ: 

কারখানা,  চশমা, জবানবন্দি, তারিখ, তোশক, দফতর ,  দরবার, দোকান,  দরখাস্ত , দেীলত, নালিশ,  বাদশাহ , বান্দা,  বেগম,  মেথর, রসদ  ইত্যাদি । 

৩) বিবিধ শব্দ : 

আদিম,  আমদানি,  জানোয়ার,  জিন্দা,  নমুনা,  বদমাশ,  রপ্তানি,  হাঙ্গামা  ইত্যাদি । 

গ) ইংরেজি শব্দ : 

ইংরেজি শব্দ দুই প্রকারের পাওয়া যায় : – 

১) অনেকটাই ইংরেজি উচ্চারণে : 

ইউনিভার্সিটি , ইউনিয়ন,  কলেজ,  টিন,  নভেল, নোট,  পাউডার,  পেন্সিল, ব্যাগ,  ফুটবল,  মাস্টার, লাইব্রেরি,  স্কুল  ইত্যাদি । 

২) পরিবর্তিত উচ্চারণে : 

আফিম ( Opium )  , অফিস( Office )  , ইস্কুল ( School ) , বাস্ক ( Box ) , হাসপাতাল ( Hospital ) , বোতল ( Bottle ) , ইত্যাদি।  

ঘ) ইংরেজি ছাড়া অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষার শব্দ : 

১) পূর্তগীজ : 

আনারস,  আলপিন,  আলমারি,  গির্জা,  গুদাম,  চাবি, পাউরুটি , পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি  । 

২) ফরাসি: 

 কার্তুজ ,  কুপন , ডিপো , রেস্তোরাঁ  ইত্যাদি । 

৩) ওলন্দাজ : 

ইস্কাপন, টেককা, ‍তুরূপ , রুইতন , হরতন ইত্যাদি  । 

ঙ) অন্যান্য ভাষার শব্দ : 

১) গুজরাটি : 

খদ্দর, হরতাল  ইত্যাদি 

২) পাঞ্জাবি : 

চাহিদা,  শিখ  ইত্যাদি । 

৩) তুর্কি: 

 চাকর,  চাকু, তোপ, দারোগা ইত্যাদি  । 

৪) চীনা: 

চা, চিনি ইত্যাদি । 

৫) মায়ানমার : 

ফুঙ্গি, লুঙ্গি  ইত্যাদি 

৬) জাপানি : 

রিক্সা, হারিকিরি ইত্যাদি । 

মিশ্র শব্দ : 

কোন কোন সময় দেশী ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে । যেমন:  রাজা-বাদশা ( তৎসম +  ফারসি) , হাট-বাজার (  বাংলা + ফারসি ) .  হেড-মেীলভি ( ইংরেজি+ ফারসি ) ,  হেড-পন্ডিত (  ইংরেজি +  তৎসম ) , খ্রিস্টাব্দ ( ইংরেজি + তৎসম ) , ডাক্তার-খানা ( ইংরেজি + ফারসি ) , পকেট-মার ( ইংরেজি + বাংলা ) , চেী-হদ্দি ( ফারসি + আরবি ) ইত্যাদি । 

 পারিভাষিক শব্দ : 

বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে । 

উদাহারন : অম্লজান, উদযান নথি, প্রশিক্ষন , ব্যবস্থাপক , বেতার , মহাব্যবস্থাপক , সচিব , স্নাতক , স্নাতকোত্তর , সমাপ্তি , সাময়িকী , সমীকরণ  ইত্যাদি  । 

বিশেষ দৃষ্টান্ত : 

বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার দেশ, বিদেশি, সংস্কৃত – যে বাসা থেকে আসুক না কেন,  এখন তা বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদ ।  এগুলো বাংলা ভাষার সঙ্গে এমন ভাবে মিশে গেছে যে,  বাংলা থেকে আলাদা করে এদের কথা চিন্তা করা যায় না ।  যেমন : টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, রেডিও, স্যাটেলাইট, ইত্যাদি প্রচলিত শব্দের বাংলা পরিভাষা সৃষ্টি  নিষ্প্রয়োজন । 

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর : 

১) ভাষায কী ? 

ক) উচ্চারণের প্রতীক 

খ) কণ্ঠের উচ্চারণ 

গ) ভাব প্রকাশের মাধ্যম  

ঘ) ধ্বনির সমষ্টি  

উত্তর : গ 

২) মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন কোনটি ? 

ক) ভাষা 

খ) অঙ্গভঙ্গি 

গ) ইঙ্গিত 

ঘ) আচরণ 

উত্তর : ক 

৩) মানুষের ভাষা কিসের সাহায্যে সৃষ্টি হয় ? 

ক) কলমের সাহায্যে 

খ) ঠোঁটের সাহায্যে 

গ) অঙ্গপতঙ্গের সাহায্যে 

ঘ) বাগযন্ত্রের সাহায্যে 

উত্তর : ঘ

৪) মানুষের কন্ঠনিঃসৃত বাক সংকেতের সংগঠনকে কি বলে ? 

ক) ধ্বনী 

খ) শব্দ 

গ)  বাক্য 

ঘ)  ভাষা 

উত্তর :ঘ

৫) এক এক গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলাজাত ধ্বনীপুঞ্জকে কি বলে ? 

ক) শব্দ 

খ) ধ্বনী 

গ) বর্ণ

ঘ) ভাষা 

উত্তর : ঘ 

৬) নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের বস্তু ও ভাবের প্রতীক কোনটি ? 

ক) শব্দ 

খ)  বাক্য 

গ)  পদ 

ঘ)  অক্ষর 

উত্তর : ক 

৭) ভাষার মূল উপাদান কি ? 

ক) ধ্বনি 

খ) বাক্য 

গ)  শব্দ 

ঘ)  বর্ণ 

উত্তর : ক 

৮) কিসের ভেদে ভাষার পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে থাকে ? 

ক) কাল ও  দেশভেদে 

খ) পরিবেশ ও অঞ্চলভেদে 

গ) দেশ,  কাল ও  পরিবেশ ভেদে 

ঘ) কাল স্থানভেদে 

উত্তর: গ 

৯) বর্তমানে পৃথিবীতে কত কোটি লোকের ভাষা বাংলা? 

ক) প্রায় বিশ 

খ) প্রায় পঁচিশ 

গ) প্রায় ত্রিশ 

ঘ ) প্রায় পঞ্চাশ 

উত্তর: গ 

১০) বর্তমানে পৃথিবীতে ভাষা প্রচলিত আছে- 

ক)দুই হাজারের উপর 

খ) পাঁচ হাজারের উপর 

গ) সাড়ে তিন হাজররের উপর 

ঘ) সাড়ে সাত হাজারের উপর 

উত্তর : গ 

১১) ভাষার জগতে বাংলার স্থান কোথায় ? 

ক) ষষ্ঠ 

খ)  চতুর্থ 

গ)  অষ্টম 

ঘ)  দশম 

উত্তর : খ 

১২) জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর বৃহত্তম মাতৃ ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষার স্থান হল – 

ক) প্রথম  

খ) দ্বিতীয় 

গ) তৃতীয়  

ঘ) চতুর্থ 

উত্তর  : ঘ 

১৩) বাংলা ভাষার মূল উৎস কি ? 

ক) হিন্দি ভাষা

খ)  বৈদিক ভাষা 

গ) কানাুড় ভাষা 

ঘ)  অনার্য ভাষা 

 উত্তর: খ 

১৪) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন কোনটি ? 

ক) মহাভারত

খ)  চর্যাপদ

গ)  রামায়ণ 

ঘ) বেদ 

উত্তর : খ 

১৫) বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন অঞ্চলের মানুষের সর্বজনীন ভাষা বাংলা ? 

ক) আসাম  

খ) পশ্চিমবঙ্গ

গ)  গুজরাট 

ঘ)  উত্তর  প্রদেশ 

উত্তর: খ 

১৬) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন কোনটি ? 

ক) মধু মালতি 

খ) সিকান্দারনামা 

গ) শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন 

ঘ) আর্য ভট্ট  

উত্তর : গ 

১৭) বাংলা গদ্য কোন যুগের ভাষার নিদর্শন ? 

ক) প্রাচীন যুগ

খ)  অন্ধকার  যুগ 

গ) মধ্যযুগ 

ঘ)  আধুনিক যুগ 

উত্তর: ঘ 

১৮) মধ্যযুগের বাংলা গদ্যে সাধু রীতির সামান্য নমুনা পাওয়া যায় কোথায় ? 

ক) কাব্য সাহিত্যে 

খ)  পুঁথি সাহিত্যে 

গ)   চিঠিপত্র 

ঘ)  দলিল- দস্তাবেজ 

উত্তর : ঘ 

১৯) ভাষার কোন রূপ ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে ? 

ক) চলিত

খ)  সাধু

গ)  আঞ্চলিক 

ঘ)  প্রাকৃত 

উত্তর : খ 

২০) বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার  কথ্যরীতি সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহৃত ভাষাকে কি বলে ? 

ক) সাধু ভাষা

খ)  মিশ্র ভাষা 

গ)  আদর্শ চলিত ভাষা 

ঘ) আঞ্চলিক ভাষা 

 উত্তর: গ 

২১) বাংলা ভাষার রীতি কয়টি ? 

ক) ২টি 

খ) ৩টি 

গ) ৪ টি 

ঘ) ৫ টি 

উত্তর : ক 

২২) পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষার কয়টি রূপ লক্ষ্য করা যায় ? 

ক) দুইটি 

খ) তিনটি 

গ) চারটি 

ঘ) একটি 

উত্তর  : ক 

২৩) সাধু ও চলিতরীতি বাংলা ভাষার কোন রূপে রয়েছে ? 

ক) লেখ্য 

খ) কথ্য 

গ) আঞ্চলিক 

ঘ) উপভাষা 

উত্তর :ক 

২৪) ভাষার কোন রীতি তদ্ভব শব্দবহুল ? 

ক) সাধুরীতি 

খ) আঞ্চলিক কথ্য রীতি 

গ) সাধু ও চলিত রীতি 

ঘ) চলিত রীতি 

উত্তর : ঘ 

২৫) ভাষার কোন রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তব্য তার অনুপোযোগী ? 

ক) চলিত রীতি

খ)  কথ্যরীতি 

গ)  সাধুরীতি 

ঘ)  আঞ্চলিক রীতি 

উত্তর: গ 

২৬) বক্তব্য ও নাটকের সংলাপের জন্য কোন ভাষা বেশি উপযোগী ? 

ক) চলিত

খ)  সাধু 

গ)  মিশ্র 

ঘ)  আঞ্চলিক 

 উত্তর: ক 

২৭) ভাষার কোন রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে ? 

ক) চলিত রীতি 

খ)  সাধু রীতি 

গ)  আঞ্চলিক রীতি 

ঘ)  সব কয়টি 

উত্তর : খ 

২৮) বাসার চলিতরীতি অনুসৃতি কষ্টসাধ্য কেন? 

ক) এরিতিক কৃত্রিমতা বর্জিত বলে

খ)  লিখিত কোন ব্যাকরণ নেই বলে 

গ) এ  রীতিতে তদ্ভব শব্দের প্রাধান্য থাকে বলে 

ঘ)  পরিবর্তনশীল বলে 

উত্তর : খ 

২৯) মধ্যযুগের বাংলা লেখ্য সাধুরীতির সামান্য নমুনা পাওয়া যায়- 

ক) কথাসাহিত্যে

খ)  দলিল দস্তাবেজে 

গ)  পুঁথি সাহিত্যে 

ঘ)  চিঠিপত্র 

 উত্তর: খ 

৩০) গুরুচণ্ডালী দোষ কাকে বলে? 

ক) সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণকে

খ) চলিত ও আঞ্চলিক রীতির মিশ্রণকে

গ) সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণকে 

ঘ) চলিত ও উপভাষার মিশ্রণকে 

উত্তর: ক 

৩১) সাধু ও চলিত ভাষার কোন কোন পদ বিশেষ রীতি মেনে চলে ? 

অথবা, সাধু ও চলিত রীতির প্রধান পার্থক্য কোথায় ? 

ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ 

খ)  ক্রিয়া ও সর্বনাম 

গ)  বিশেষ্য ও ক্রিয়া 

ঘ)  বিশেষণ ও ক্রিয়া 

 উত্তর: খ 

৩২) বাংলা ভাষার চলিত রীতির প্রবর্তন করেন কে ? 

 অথবা,  চলিত ভাষার প্রবর্তক কে ? 

ক)  প্যারীচাঁদ মিত্র 

খ) গিরিশচন্দ্র সেন 

গ)  প্রমথ চৌধুরী 

ঘ)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

 উত্তর: গ 

৩৩) সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য কোনটি ? 

ক) গুরুগম্ভীর 

খ)  গুরুচণ্ডালী 

গ) অবোধ্য 

ঘ) দুর্বোধ্য 

 উত্তর : ক 

৩৪) চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য ? 

ক)  গুরুগম্ভীর 

খ)  কৃত্রিম 

গ) পরিবর্তনশীল

ঘ) তৎসম শব্দবহুল 

উত্তর : গ 

৩৫) ভাষার কোন রূপে  ব্যাকরন অনুসরণ করে চলে ? 

ক) চলিত

খ)  সাধু 

গ)  আঞ্চলিক 

ঘ)  উপভাষা 

 উত্তর: খ 

৩৬) কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট বা অপরিবর্তনশীল ? 

ক) কথ্য রীতি 

খ) লেখ্য রীতি 

গ) সাধুরীতি 

ঘ) চলিত রীতি 

উত্তর : গ 

৩৭) সাধু ভাষা কোথায় অনুপযোগী ? 

ক) কবিতার পংক্তিতে 

খ)  গানের কলিতে 

গ)  গল্পের বর্ণনায় 

ঘ)  নাটকের সংলাপে 

উত্তর: ঘ 

৩৮) বাংলা ভাষার চলিত রীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য কোনটি ? 

ক) অভিজাত পূর্ণ 

খ)  পদবিন্যাস  সুনির্দিষ্ট 

গ) কৃত্রিমতাবর্জিত

ঘ) কাঠামো অপরিবর্তনীয়

উত্তর: গ 

৩৯) পুল পেরিয়ে সামনে একটি  বাঁশ বাগান পড়ল । কোন রীতির বাক্য? 

ক) চলিত রীতি 

খ)  সাধুরীতি 

গ)  আঞ্চলিক  রীতি

ঘ) কথ্য রীতি 

 উত্তর : ক 

৪০) বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা বাসীদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানের কোনটি অন্তরায় হতে পারে ? 

ক) যদি প্রত্যেকে আমরা আঞ্চলিক ভাষা পছন্দ করি 

খ)  প্রত্যেক আঞ্চলিক ভাষাকে সর্বজনীন  স্বীকৃতি দিলে 

গ)  আঞ্চলিক ভাষার উপর রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ হলে 

ঘ)  আঞ্চলিক ভাষাকে তুচ্ছ জ্ঞান করলে 

 উত্তর : খ 

৪১) আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কি ? 

ক) কথ্যভাষা 

খ) উপভাষা 

গ)  সাধু ভাষা 

ঘ)  চলিত ভাষা 

 উত্তর : খ 

৪২) উপভাষার আরেক নাম কি ? 

ক)  আঞ্চলিক ভাষা 

খ) দেশীয় ভাষা 

গ)  মূল ভাষা 

ঘ)  বাংলা ভাষা 

 উত্তর : ক 

৪৩) কোন শব্দগুচ্ছ সাধু ভাষার উদাহরণ ? 

ক) তুলা , সহিত 

খ) জুতো, মাথা 

গ) পুড়িল, দেখে 

ঘ) বুনো , তুলো 

উত্তর : ক 

৪৪) চলিত রীতির উদাহরণ কোনটি ? 

ক)) বন্য 

খ) শুকনো 

গ) তুলা 

ঘ) শুষ্ক 

উত্তর : খ 

৪৫) চলিত রীতির শব্দ কোনটি ? 

ক) তুলা 

খ) শুকনা 

গ) তুলো 

ঘ) পুড়িল 

উত্তর : গ 

৪৬) “ গুলি “ শব্দটি ভাষার কোন রীতিতে ব্যবহৃত হয় ? 

ক) কথ্যরীতি 

খ) আঞ্চলিক রীতি

গ)  আধুনিক রীতি 

ঘ)  সাধুরীতি 

উত্তর : ঘ 

৪৭) “ বন্য “ শব্দের চলিত রূপ কোনটি ? 

ক) বুন

খ) বুনো 

গ) বন 

ঘ) বূন 

উত্তর: খ 

৪৮) “ মিথ্যা “ শব্দের সঠিক চলিত রূপ কোনটি ? 

ক) মিছে 

খ) মিত্তে 

গ) মিথ্যে 

ঘ) মিছা 

উত্তর : গ 

৪৯) বাংলা গদ্যরূপ কখন বিকাশ লাভ করে ? 

ক) প্রাচীন যুগে , খ) মধ্যযুগে গ) ইংরেজ আগমনের পরে ঘ) স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে 

উত্তর : গ 

৫০) উৎস বা  উৎপত্তি অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায় ? 

অথবা , শব্দের উৎস মূলক শ্রেণীবিভাগ কয়টি ? 

ক) তিনটি খ) চারটি গ) পাঁচটি ঘ) ছয়টি 

উত্তর : গ 

৫১) বাংলা গদ্য কোন যুগের ভাষার নির্দেশক ? 

ক) প্রাচীন যুগের খ) মধ্যযুগের গ) অন্ধকার যুগের ঘ) আধুনিক যুগের 

উত্তর : ঘ 

৫২) তৎসম শব্দের “ তৎ “ কোনটি বোঝায় ? 

ক) সংস্কৃত খ) বাংলা গ) প্রাকৃত ঘ) অসমীয়া 

উত্তর : ক 

৫৩) যে শব্দগুলো বাংলা ভাষায় অবিকৃত রয়েছে সেগুলো – 

অধবা, সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত অপরিবর্তনীয় শব্দ সমূহের নাম কি ? 

ক) তৎসম শব্দ খ) তদ্ভব শব্দ গ) দেশি শব্দ ঘ) বিদেশি শব্দ 

উত্তর : ক 

৫৪) নিচের কোনটি তৎসম শব্দ ? 

ক) চন্দ্র / ধর্ম খ) গিন্নি গ) ডিঙ্গা ঘ) ঈমান 

উত্তর : ক 

৫৫) তৎসম শব্দ কোনটি ? 

ক) চা খ) চেয়ার গ) ধর্ম ঘ) কান 

উত্তর : গ 

৫৬) “ চন্দ্র “ কোন শব্দের উদাহরণ ? 

ক) তৎসম খ) তদ্ভব গ) দেশি ঘ) বিদেশি 

উত্তর : ক 

৫৭) তৎসম শব্দ কোনটি ? 

ক) চাঁদ খ) নক্ষত্র / চন্দ্র গ) ঈমান ঘ) চামার 

উত্তর : খ 

৫৮) নিচের কোনটি তৎসম শব্দ ? 

ক) চাঁদ খ) ভবন গ) কুলা ঘ) ডিঙ্গা 

উত্তর : খ 

৫৯) “ ভবন “ কোন শ্রেণীর শব্দ ? 

ক) তৎসম শব্দ খ) পারিভাষিক শব্দ গ) যৌগিক শব্দ ঘ) বিদেশি শব্দ 

উত্তর : ক 

৬০) নিচের কোনটি তৎসম শব্দের উদাহরণ ? 

ক) কুচ্ছিত খ) বেগম গ) গিন্নি ঘ) হস্ত / পত্র 

উত্তর : ঘ 

৬১) নিচের কোনগুলো তৎসম শব্দ ? 

ক) আজ, আলনা , আটপেীর , ওঝা , কাজ 

খ) অঞ্চল , অদ্য , কর্ম , ক্ষতি , গমন , ঘৃত 

গ) কামড় ,কয়লা , নেকা , পেয়ালা , নক্ষত্র 

ঘ) চেহারা , চাকর , চাকরি , জঙ্গল , জঙ্গী 

উত্তর : খ 

৬২) “ অশ্ব “ শব্দটি কোন শব্দ ? 

ক) পারিভাষিক শব্দ খ)  তৎসম শব্দ গ)  যৌগিক শব্দ ঘ)  বিদেশি শব্দ 

উত্তর : খ 

৬৩) মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন কোনটি ? 

ক) ভাষা খ) চিত্র গ) আচরন ঘ) ইঙ্গিত 

উত্তর : ক 

৬৪) পৃথিবীর আদি ভাষার নাম কি ? 

ক) হিন্দ-এশিয়ান খ) হিন্দ – ইউরোপিয়ান গ) হিন্দ-আফ্রিকান ঘ) হিন্দ-মালয়েশিয়ান 

উত্তর : খ 

৬৫) ভাষার জগতে বাংলার স্থান কোথায় ? 

ক) ষষ্ঠ খ) সপ্তম গ) অষ্টম ঘ) নবম 

উত্তর : খ 

৬৬) কোন ভাষা হতে বাংলা ভাষার জন্ম হয় ? 

ক) পালিজ খ) হিন্দি গ) উড়িয়া ঘ) বঙ্গ কামরূপী 

উত্তর : ঘ 

৬৭) কিসের ভেদে ভাষার পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে ? 

ক) দেশ,কাল ও পরিবেশ ভেদে 

খ) পরিবেশ ও দেশভেদে 

গ) কাল ও পরিবেশ ভেদে 

ঘ) দেশ ও কাল ভেদে 

উত্তর : ক 

৬৮) প্রত্যেক ভাষার তিনটি মৌলিক অংশ থাকে ? অংশগুলো কি কি ? 

ক) ধ্বনি ,শব্দ, বাক্য খ) শব্দ ,সন্ধি-সমাস গ) অনুস্বর্গ , উপসর্গ ঘ) ধ্বনি ,শব্দ ,বর্ণ 

উত্তর : ক 

৬৯) বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জনগণ যে ভাষায় কথা বলে তার নাম কি ? 

ক) মৌলিক ভাষা খ) সাধু ভাষা গ) উপভাষা ঘ) ব্যবহারিক ভাষা 

উত্তর : গ 

৭০) বাংলা ভাষাকে কয়টি যুগে ভাগ করা হয়েছে ? 

ক) ৩টি খ) ৪টি গ) ৫টি ঘ) ৬টি 

উত্তর : খ 

৭১) বাংলা ভাষার ভিত্তি কোথায় ? 

ক) তৎসম শব্দ খ) তদ্ভব শব্দ  গ) দেশি শব্দ  ঘ) বিদেশি শব্দ 

উত্তর : ক 

৭২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন কোনটি ? 

ক) মহাভারত খ) রামায়ণ গ) চর্যাপদ ঘ) জঙ্গ নামা 

উত্তর : গ 

৭৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন কোনটি ? 

ক) মধু মালতি খ) সিকান্দারনামা গ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ঘ) বৈষ্ণবপদাবলী 

উত্তর : গ 

৭৪) বাংলা ভাষার মূল উৎস কি ? 

ক) কানাড়ী ভাষা খ) বৈদিক ভাষা গ) হিন্দি ভাষা ঘ) অনার্য ভাষা 

উত্তর : খ 

৭৫) বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ কোনগুলো ? 

ক) সারাংশ,  ভাবার্থ ও ভাব সম্প্রসারণ 

খ) কাল পুরুষ ও বচন 

গ) সমাসবদ্ধ সন্ধি 

ঘ) ধ্বনিতত্ত্ব , রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্ব 

উত্তর : ঘ 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

44 ÷ 11 =