সমাপিকা ,অসমাপিকা ও যেীগিক ক্রিয়ার প্রয়োগ

সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের ( মনোভাবের ) পরিসমাপ্তি হয় , তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে । যেমন: ছেলেরা খেলা করছে । এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে

অসমাপিকা ক্রিয়া : যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি  ঘটে না , বক্তার কথা অসম্পূর্ন থেকে যায় , তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে । যেমন:

১) প্রভাতে সূর্য উঠলে ………………..

২) আমরা হাত-মুখ ধয়ে ………………

৩) আমরা বিকেলে খেলতে ……………..

এখানে “ উঠলে “ ধুয়ে “ এবং “ খেলেতে “ ক্রিয়াপদগুলো দ্বারা কথা শেষ হয়নি ; কথা সম্পূর্ন হতে আরও শব্দের প্রয়োজন । তাই এ শব্দগুলো অসমাপিকা ক্রিয়া ।

উপযুক্ত বাক্যগুলো পূর্ণ মনোভাব গ্রাপন করলে দাঁড়াবে : –

১) প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয় ।

২) আমরা হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসলাম ।

৩) আমরা বিকেলে খেলতে যাই ।

সমাপিকা ক্রিয়ার গঠন :

সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক , অকর্মক ও দ্বিকর্মক হতে পারে । ধাতুর সঙ্গে বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কালের বিভক্তি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয় । যথা : –

আনোয়ার বই পড়ে । ( ক্রিয়া-সকর্মক, কাল- বর্তমান ) ।

মাসুদ সারাদিন খেলেছিল। ( ক্রিয়া- অকর্মক , কাল -অতীত ) ।

আশি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব । ( ক্রিয়া-দ্বিকর্মক , কাল – ভবিষ্যৎ ) ।

অসমাপিকা ক্রিয়ার গঠন :

ধাতুর সঙ্গে কাল নিরপেক্ষ -ইয়া ( য়ে ) , -হতে (তে) অথবা – হলে ( লে ) বিভক্তি যুক্ত হয়ে অসমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয় । যেমন: – “ দরিদ্রে পাইলে ধন হয় র্গবস্ফীত “ । যত্ন করলে রত্ন মেলে । তাকে খুঁজে নিয়ে আসতে চেষ্টা করবে ।

অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা :

অসমাপিকা ক্রিয়া ঘটিত বাক্যে  একাধিক প্রকার কর্তা ( কর্তৃকারক ) দেখা যায় –

১) এক কর্তা : বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক বা অভিন্ন হতে পারে । যথা – তুমি চাকরি পেলে আর কি দেশে আসবে ? ”পেলে “ ( অসমাপিকা ক্রিয়া ) এবং “ আসবে “ ( সমাপিকা ক্রিয়া ) উভয় ক্রিয়ার কর্তা এখানে “ তুমি “ ।

২) অসমান কর্তা : বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক না হলে সেখানে কর্তাগুলোকে অসমান কর্তা বলা হয় । যেমন: – 

ক) শর্তাধীন কর্তা : এ জাতীয় কর্তাদের ব্যবহার শর্তাধীন হতে পারে । উদাহরণ: – তোমরা বাড়ি এলে আমি রওনা হব । এখানে “ এলে “ অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা “ তোমরা “ এবং “ রওনা হব “ সমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা “ আমি “ । তোমাদের বাড়ি আসার ওপর রওনা হওয়া নির্ভরশীল বলে এ জাতীয় বাক্যে কর্তৃপক্ষের ব্যবহার শর্তাধীন ।

খ) নিরপেক্ষ কর্তা : শর্তাধীন না হয়েও সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপদ থাকতে পারে । সেক্ষেত্রে প্রথম কর্তৃপদটিকে বলা হয় নিরপেক্ষ কর্তা । যেমন: – সূর্য অস্তমিত হলে যাত্রীদল পথ চলা শুরু করল । এখানে “ যাত্রীদের “ পথ চলার সঙ্গে “ সূর্য “ অস্তমিত হওয়ার কোন শর্ত বা সম্পর্ক নেই বলে “ সূর্য “ নিরপেক্ষ কর্তা ।

অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার :

১) “ ইলে “ >’লে’ বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার:

ক) কার্যপরস্পরা বোঝাতে : চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে ।

খ) প্রশ্ন বা বিস্ময় গ্রাপনে : একবার মরলে কি কেউ ফেরে ?

গ) সম্ভাব্যতা অর্থে : এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে ।

ঘ) সাপেক্ষতা বোঝাতে : তিনি গেলে কাজ হবে ।

ঙ) দার্শনিক সত্য প্রকাশে : “ জম্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা হবে ?

চ) বিধিনির্দেশে : এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফেীজদারিতে সোপর্দ হবে ।

ছ) সম্ভাবনার বিকল্পে : আজ গেলেও যা, কাল গেলেও তা ।

জ) পরিণতি বোঝাতে : বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে ।

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

− 1 = 1