আমেরিকার সংক্ষিপ্ত পরিচয়

আমেরিকার আদি অধিবাসীদের নাম রেড ইন্ডিয়ান । ক্রিস্টোফার কলম্বাস নামক একজন ইতালির নাবিক ১৪৯২ সালে আমেরিকা আবিষ্কার করেন । মূল আমেরিকা ছিল বৃটেনের ১৩ টি উপনিবেশ । বৃটেনের বিরুদ্ধে নানা অসন্তোষের কারণে জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই এ ১৩ টি উপনিবেশ সম্মিলিতভাবে ব্রিটেনে বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে । দীর্ঘ  ৬ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৭৮৩ সালে আমেরিকা স্বাধীনতা লাভ করে । উল্লেখ্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভারতের যেমন সামগ্রিকভাবে সাহায্য করেছিল , তেমনি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স অর্থ, অস্ত্র এবং সৈন্য দিয়ে আমেরিকাকে সাহায্য করেছিল । আমেরিকার সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিম্নরূপ : 

রাষ্ট্রীয় নাম  :

 আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ( United States of America ) । উল্লেখ্য , ১৪৯২ সালে ইতালির দুঃসাহসিক নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেন । তখন তিনি এ অংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছিলেন । ইউরোপীয়রা কলম্বাসের আবিষ্কৃত দেশটিকে ‘ নতুন পৃথিবী ‘ নামে অভিহিত করেছিল । মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কলম্বাস জানতে পারেননি যে তিনি নতুন একটি মহাদেশ আবিষ্কার করেছেন । এরপর ১৪৯৯ সালে আমেরিগো ভেসপুচি ( Amerigo Vespucci ) নামে আরেক ইতালিও নাবিক আমেরিকায় পৌঁছান । মনে করা হয় আমেরিগো ভেসপুচি নামের ল্যাটিন রূপ থেকেই আমেরিকা নামের উৎপত্তি । 

রাজধানী  : 

ওয়াশিংটন ডিসি 

আয়তন   : 

মোট আয়তন – ৯৬,৩১,৪২০ বর্গ কি.মি. 

ভূমি – ৯১,৬১,৯২৩ বগৃ কি.মি এবং 

জলাশয় – ৪,৬৯,৪৯৭ বর্গ কি.মি. 

উল্লেখ্য , আয়তনের দিক থেকে আমেরিকা রাশিয়ার প্রায় অর্ধেক , আফ্রিকার তিন-দশমাংশ , দক্ষিণ আমেরিকার অর্ধেক এবং চীনের চেয়ে সামান্য বড় । 

স্বাধীনতা লাভ    :

 স্বাধীনতা ঘোষণা – ৪ জুলাই ১৭৭৬ 

স্বাধীনতা লাভ – ৩ সেপ্টেম্বর ১৭৮৩ 

ভৌগলিক অবস্থান : 

 আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত । যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর , পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর , উত্তরে কানাডা এবং দক্ষিনে মেক্সিকো অবস্থিত । 

জনসংখ্যা   : ২৯,৮৪,৪৪,২১৫ ( CIA world Fact Book , জুলাই ২০০৬ ) 

জাতীয় প্রতীক : 

স্বর্ণদন্ড 

জাতীয় পতাকা : 

পতাকার এক অংশে হালকা নীল রঙের উপর ৫০ টি তারকা চিহ্ন এবং অবশিষ্ট অংশের লাল সাদা ডোরাকাটা দাগ । 

শিক্ষার হার : 

৯৯% 

ভাষা :

 ইংরেজী ৮২.১%, স্পেনিশ ১০.৭% , অন্যান্য ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা ৩.৮% , এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের ভাষা ২.৭% , ( CIA World Book-2000 ) । 

মুদ্রা : 

 ইউনাইটেড স্টেটস ডলার ( US Dollar $ ) 

মাথাপিছু আয়: 

২৯,৫০০ ডলার (প্রায় ) । 

প্রথম সংবাদপত্র : 

বোস্টন জার্নাল , প্রকাশকাল ১৭০৪ । 

প্রশাসনিক বিভাগ: ৫০ টি অঙ্গরাজ্য এবং ১টি স্বতন্ত্র জেলা ( কলম্বিয়া ) নিয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র গঠিত। 

সরকার ব্যবস্থা: 

আমেরিকার রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বিদ্যমান  । অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। তবে একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকেন । প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট উভয়েই ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন । তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আমেরিকার অঞ্চলভিত্তিক ইলেক্টোরাল কলেজ সমূহের ভোটে । মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সিনেট সদস্যদের সুপারিশ ক্রমে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিয়োগকৃত । সরকার ব্যবস্থার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে নির্বাহী বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ । 

আইনসভা : 

আমেরিকার আইন সভার নাম কংগ্রেস । আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট । এর উচ্চকক্ষের নাম সিনেট এবং নিম্নকক্ষের নাম প্রতিনিধি পরিষদ । উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা ১০০ জন । প্রতিটি রাজ্য থেকে ২ জন করে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয় । তারা ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হন । প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ সিনেট সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৪৩৫ জন । রাজ্য সমূহের জনসংখ্যার উপর প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ভর করে । তারা দু বছরের জন্য নির্বাচিত হন । 

ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য : 

আমেরিকা প্রধানত ৫ টি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিভক্ত । এগুলো হচ্ছে : 

ক) আটলান্টিক উপকূল অঞ্চল : 

এ অঞ্চলটি অবস্থিত আমেরিকার পূর্বঞ্চল অর্থাৎ এ্যাপোলেচিয়ান পর্বতমালা এবং আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যবর্তী স্থানে । নিউইয়র্কের উত্তর দিক হতে শুরু করে মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত । এই অঞ্চলের ভূমি খুবই  উর্বর । 

খ) এ্যাপোলেচিয়ান পর্বত অঞ্চল : 

এ অঞ্চলটি আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত । সুউচ্চ পাহাড় , মালভূমি এবং উপত্যকার সহযোগে এটি গঠিত । সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে কমপক্ষে তিন হাজার ফুট হতে ছয় হাজার ফুট উচ্চতায় এ অঞ্চলটি অবস্থিত । এসব কারণে এ এলাকার অধিকাংশ জমি চাষ ও আবাদের উপযোগী নয় । 

গ) মিসিসিপি উপত্যকার সমভূমি অঞ্চল : 

আমেরিকার পশ্চিমাংশে অবস্থিত হচ্ছে মিসিসিপি উপত্যকার বিশাল সমভূমি অঞ্চল । এ্যাপোলেচিয়ান পর্বতমালা ও রকি পর্বত মালার মধ্যবর্তী এই বিস্তৃত সমভূমির উত্তর দিকে রয়েছে কানাডা এবং দক্ষিনে মেক্সিকো উপসাগর । এ এলাকার অধিকাংশ ভুমি খুবই উর্বর এবং কৃষি কাজের উপযোগী । পাশাপাশি বেশ কিছু এলাকা জঙ্গলাকীর্ণ ও তৃণভূমি দ্বারা গঠিত । 

ঘ) কর্ডিলেরা উচ্চভূমি অঞ্চল : 

মিসিসিপি উপত্যকার বিশাল সমভূমি অঞ্চলের পশ্চিম দিকে অবস্থিত উচ্চভূমি অঞ্চলটি কর্ডিলেরা অঞ্চল নামে পরিচিত । এ অঞ্চলের পূর্বদিকে অবস্থিত রকি পর্বতমালা । কার্ডিলেরা অঞ্চল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ । 

ঙ) প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঢাল : 

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঢাল আমেরিকার অন্যতম একটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল । এটি প্রশান্ত মহাসাগর সংলগ্ন একটি এলাকা । এ এলাকা ভূমি খুবই উর্বর । 

আবহাওয়া : 

আমেরিকার জলবায়ু বৈচিত্র্যপূর্ণ । উত্তর আমেরিকার উত্তরের জলবায়ু মেরু দেশীয় । অন্যদিকে দক্ষিণ মেক্সিকো , মধ্য আমেরিকা ও পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ ক্রান্তীয় জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত ।এই দুই জলবায়ুর প্রভাবে এবং ভূমি গঠনে ভিন্নতার দরুন আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে জলবায়ু তারতম্য ঘটে । যেমন : প্রেইরির উত্তরাংশে , অন্টাবিয়ার কিছু অংশে এবং কুইবেক অঞ্চলে শীতকালে যখন তুষারপাত হয় তখন প্রেইরি অঞ্চলের দক্ষিনে এবং গ্রেট গ্লেনজ অঞ্চলে খরা দেখা যায় । মধ্যভাগের বির্স্তীন অংশে শীত এবং গ্রীস্মের তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি । আমেরিকার দক্ষিণ পূর্ব উপকূলে গীষ্মকালে উষ্ণতা কম থাকে এবং প্রচুর বৃষ্টি হয় । আবার পূর্ব ও পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে শীতের প্রকোপ ও তুষারপাতের পরিমাণ দুইএ বেশি । অপরদিকে গীষ্মকালে  ক্যারিবিয়ান সাগর , মেক্সিকো উপসাগর ও দক্ষিণ পূর্ব আটলান্টিক উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবল বেগে হারিকেন জড়  প্রবাহিত হয় । 

প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল : 

ডেমোক্রেটিক পার্টি , রিপাবলিকান পার্টি , গ্রীন পার্টি এবং লিকার্টেরিয়ান  পার্টি । 

ধর্ম :

 প্রোটেস্ট্যান্ট ৫২%, রোমান ক্যাথলিক ২৪% , মোর্মন ২%, ইহুদি ১%, মুসলিম ১%, অন্যান্য ১০% এবং ধর্ম বিশ্বাসী নয় ১০% ( 2002, CIA World Fact Book ) । 

নৃ – তাত্ত্বিক গোষ্ঠী : 

সাদা ৮১.৭%, কালো ১২.৯%, এশিয়ান ৪.২%, রেড ইন্ডিয়ান এবং নেটিভ আলাস্কা ১% ( ২০০৩ , CIA World Fact Book ) 

প্রতিষ্ঠাকালীন :- 

১৩ টি উপনিবেশ : 

ডেলওয়ার, পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি , জর্জিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, ম্যারিল্যান্ড, দক্ষিন ক্যারোলাইনা , নিউ হ্যাম্পশায়ার, ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, উত্তর ক্যারোলাইনা, রোডস আইল্যান্ড । 

১৩ টি উপনিবেশের মোট আয়তন ছিল ৮৮৮.৬৮৫ বর্গ মাইল । 

ল্যাতিন আমেরিকার পরিচয় : 

লাতিন আমেরিকা বলতে মূলত দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে বুঝায় । দক্ষিণ আমেরিকার মোট ১৮ টি দেশ ছিল স্পেনের উপনিবেশ।  এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মেক্সিকো, পেরু ,প্যারাগুয়ে ,উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা , ওয়েস্ট-ইন্ডিজ , ডোমিকান রিপাবলিক , কলম্বিয়া ,ভেনিজুয়েলা , ইকুয়েডর ও বলিভিয়া ইত্যাদি । তাছাড়া ব্রাজিলে পুর্তগিজ উপনিবেশ এবং হাইতিতে ফরাসি উপনিবেশ স্থাপন হয়েছিল । ল্যাটিন ইউরোপের সঙ্গে এসব দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ দেশগুলো এখনো ল্যাটিন আমেরিকা নামে পরিচিত । এসব দেশের মোট আয়তন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মিলিত আয়তন অপেক্ষা বেশি । ল্যাটিন আমেরিকার বেশিরভাগ লেনদেন হয় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে । যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে আছে । মূলত ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয়ের মধ্যে অবস্থিত । তাই যুক্তরাষ্ট্র কখনো সামরিক ও কখনো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ল্যাটিন আমেরিকায় তার প্রভাব অক্ষুন্ন রাখতে সচেষ্ট হয়েছে। 

ক্রিস্টোফার কলম্বাস ও আমেরিকা আবিষ্কার : 

ইউরোপীয়দের মধ্যে পুর্তগিজরা সর্বপ্রথম আটলান্টিক মহাসাগরের সন্ধানী তৎপরতা শুরু করে । এদের নেতৃত্ব দান করেন জাহাজ চালানোর ওস্তাদ নামে পরিচিত প্রিন্স হেনরি ( ১৩৯৪-১৪৬০) । ১৪৮৮ সাল নাগাদ পর্তুগিজরা উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করতে সক্ষম হন এবং ১৪৯৮ সালে ভাস্ক দা-গামার নেতৃত্বে তাাঁরা ভারতবর্ষে পৌঁছায় । কিন্তু পর্তুগিজদের কেউ-ই আমেরিকা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি । বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি আমেরিকা আবিষ্কারক হিসাবে ক্রিস্টোফার কলম্বাস ইতিহাসে সমাধিত পরিচিত । তিনি ছিলেন ইতালির একজন নাবিক । জন্ম ১৪৫১ সালে ইতালির জেনোয়াতে । তাঁর পিতা ছিলেন একজন পোশাক বয়ন শিল্প । কিন্তু কলম্বাস চাকরি করতেন স্পেন সরকারের অধীনে । সমুদ্র অভিযানের প্রতি তাঁর ছিল অদম্য আগ্রহ । তাই মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি সমুদ্র অভিযানে বের হন।  ভূ-মধ্যসাগরে অভিযান চালানোর পর পুর্তগালে এক হাজার ডুবি করলে ১৪৭৭ সাল নাগাদ তিনি লিসবনে বসবাস শুরু করেন । কিন্তু সমুদ্র অভিযানের যেয়ে নতুন স্থান আবিষ্কারের প্রতি তার ছিল ব্যাপক আগ্রহ । এক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিল প্রচুর অর্থ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম । অনেক চেষ্টার পর অবশেষে তিনি স্পেনের রাজদম্পতি রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলার আনুকূল্যে পর্যাপ্ত অর্থ ও সাজ-সরঞ্জাম জোগাড় করতে সক্ষম হন । স্পেনের অধিপতিদ্বয় এ ঘোষণাও দেন যে , সমুদ্র অভিযানে কোন দেশ আবিষ্কার করতে পারলে তারা কলম্বাসকে গভর্নর প্রতিনিধি করবেন এবং ” মহাসমুদ্রের এ্যাডমিরাল “ উপাধিতে ভূষিত করবেন । কলম্বাসের আশা ছিল , এশিয়ার পৌঁছানোর নতুন একটি সমুদ্র পথ আবিষ্কার করে , ধর্ম প্রচারকদের তিনি সেখানে নিয়ে যাবেন এবং “ মহাসমুদ্রের এ্যাডমিরাল “ উপাধিতে ভূষিত হয় নিজের ও পরিবারবর্গের জন্য বিপুল সম্পদ ও সম্মান অর্জন করতে পারবেন । ফার্ডিন্যান্ড ও ইসাবেলা দম্পতি , কলম্বাস কে ল্যাটিন ভাষায় একটি পরিচয় পত্র এবং একটি পাসপোর্ট প্রদান করেন যাতে লেখা ছিল যে , ভারতীয় অঞ্চলে যাত্রা করার জন্য তাকে আইনানুগ ছাড়পত্র দেওয়া হল । 

১৪৯২ সালের ৩ আগস্ট কলম্বাস পালোস বন্দর হতে যাত্রা শুরু করেন । তার অভিযানের শরিক হয়  ৯০ জন বাছাই করা স্পেনীয় দাঁড়ি মাঝি সমৃদ্ধ ৭০-৮০ ফুট লম্বা তিনটি জাহাজ – যার নাম ছিল নিনা, পিন্টা ও সান্টামারিয়া । দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত বাতাসের ধাক্কায় জাহাজগুলো এগিয়ে চলে পশ্চিম দিকে । অবশেষে ১৪৯২ সালের ১১ অক্টোবর গভীর রাতে তারা দূরে হালকা আলো দেখতে পান । সম্ভবত দ্বীপের অধিবাসীরা সেখানে আগুন জ্বালিয়ে ছিল । ১২ অক্টোবর তারিখে অভিযাত্রীরা তীরে পেীঁছেন । নতুন এ আবিষ্কারের ফলে স্পেনে ফিরে এসে কলম্বাস ও তার সঙ্গীরা বিপুল অভ্যর্থনা পান । তাদের ধারণা ছিল তারা এশিয়া মহাদেশ না হলেও ভারতীয় কয়েকটি দ্বীপ আবিষ্কার করেছেন । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল আজকের আমেরিকা -যা  শনাক্ত করেন আর এক ইতালিয়ান নাবিক আমেরিগো ভেসপুচি । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

80 + = 85