বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ । সমগ্র বাংলাদেশ সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল , সীমিত উঁচু ভূমি এবং নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি নিয়ে গঠিত । এদেশের ভূপ্রকৃতি নিচু ও সমতল । বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন । জলবায়ুর উপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব খুব বেশি । তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর আগমন ঘটে । বিভিন্ন ঋতুতে এদেশের জলবায়ুর তারতম্যের কারণে আমরা কখনো কখনো গরম আবার কখনো শীত অনুভব করি । জলবায়ুর কারণে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় । ফলে অতিবৃষ্টি , অকাল বন্যা , জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে । 

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি : 

বাংলাদেশ পলল গঠিত একটি আদ্র অঞ্চল । উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাংশের সীমিত উঁচুভূমি ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি । দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি বড় নদী-গঙ্গা , ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার অববাহিকায় বাংলাদেশে অবস্থিত । এ দেশের ভূপ্রকৃতি নিচু ও সমতল । 

ভৌগলিক অবস্থান ও সীমানা : 

 এশিয়া মহাদেশের দক্ষিনে বাংলাদেশ অবস্থান । বাংলাদেশ ২০.৩৪ উত্তর অক্ষরেখার থেকে ২৬.৩৮ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮.০১ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২.৪১ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত । বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা ( ২৩.৫ ) অতিক্রম করেছে ।পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি এবং উত্তর-উত্তর থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি । বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ , মেঘালয় ও আসাম ; পূর্বে আসাম , ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মায়ানমার ; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত । বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল । 

ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলের শ্রেণীবিভাগ ও গঠন : 

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ । বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য নদ-নদী । এগুলোর মধ্যে পদ্মা , যমুনা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ,শীতলক্ষ্যা, কর্ণফুলী ইত্যাদি প্রধান । বাংলাদেশের ভূখণ্ড উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে অবস্থিত । ফলে এসব নদ-নদী , উপনদী ও শাখানদী গুলো উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রভাবিত হয়েছে । বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাহাড়িয়া অংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশটিতেই এসব নদ-নদীর পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি । বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি । 

বাংলাদেশের সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে । ভূ প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ কে প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় – 

১) টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ , 

২)প্লাইস্টোসিন কালের  সোপানসমূহ ও 

৩) সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি । 

১) টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ: 

বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারী যুগের পাহাড় সমূহ গঠিত । আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরের আগে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উদিত হওয়ার সময় এসকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে । এ অঞ্চলের পাহাড় গুলো কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে , যথা : – দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহ এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহ । 

ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহ : 

রাঙ্গামাটি ,বান্দরবান ,খাগড়াছড়ি ,কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত । এ অঞ্চলের পাহাড় গুলির গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার । বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিংডং ( বিজয় ) , যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার । এটি বান্দরবান জেলা অবস্থিত । বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হচ্ছে  কিওক্রাডং , যার উচ্চতা ১,২৩০ মিটার । এছাড়া এ অঞ্চলের আরো দুইটি উচ্চতর পাহাড়চূড়া হচ্ছে – মোদকমুয়াল ( ১,০০০ মিটার ) ও পিরামিড ( ৯১৫ মিটার ) । এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর , কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত । 

খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহ : 

ময়মনসিং ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ , সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশে এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড় গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত । এ পাহাড় গুলোর উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয় । উত্তরের পাহাড় গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।  এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার । এ অঞ্চলের পাহাড় গুলোর মধ্যে চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান । 

প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি: 

বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত । আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয় । এই সময়ের আন্ত:বরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয় এসব চত্বর ভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয় । প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় যথা : – বরেন্দ্রভূমি , মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড় । নওগাঁ , রাজশাহী , বগুড়া , জয়পুরহাট , রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত । এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গ কিলোমিটার । প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার । এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের । ময়মনসিং,  টাঙ্গাইল , গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপান ভূমি গঠিত । এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ কিলোমিটার । সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ৩০ মিটার । মাটির রং লালচে ও ধূসর । কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টি বিস্তৃত । এর আয়তন ৩৪ বর্গ কিলোমিটার । এই পাহাড়ের গড় উচ্চতা ২১ মিটার । এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে এবং মাটি নুড়ি , বালি ও কংকর মিশ্রিত । 

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি : 

বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি । সমতল ভূমির উপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে এখানে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয় । বছরের-পর-বছর এভাবে বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে । এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গ কিলোমিটার । সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর । সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় , যেমন – দেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থান , ঢাকা ,টাঙ্গাইল ,ময়মনসিংহ, জামালপুর ,পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশবিশেষ কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট ,সুনামগঞ্জ ,মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ এলাকা এবং কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার পূর্ব দিকের সামান্য অংশ নিয়ে সমভূমি গঠিত । এছাড়াও চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধিকাংশ এবং লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার কিছু অংশ জুড়ে এ সমভূমির গঠিত  । হিমালয় পর্বত থেকে আনীত  পলল দ্বারা এই অঞ্চল গঠিত । ফরিদপুর ,কুষ্টিয়া, যশোর ,খুলনা ,বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি গঠিত । নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল হল উপকূলীয় সমভূমি । খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি গঠিত । বাংলাদেশের এ অঞ্চল গুলোর মাটি উর্বর বলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে । 

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির গঠন, জনসংখ্যা ও জনবসতি :

জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান নবম । ভূখণ্ডের তুলনায় এ দেশের জনসংখ্যার ঘনত্বও খুব বেশি । তাছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও বেশি । ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২.৯৩ কোটি , জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৪৮% এবং প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৮৭৬ জন । আদমশুমারি – ২০১১ অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৪.৯৭ কোটি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭% এবং প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১০১৫ জন । ভূ প্রকৃতির গঠনের ভিন্নতার কারণে এদেশে অঞ্চলভেদে জনসংখ্যার ঘনত্বের পার্থক্য দেখা যায় । 

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি তে তেমন কোনো পার্থক্য না থাকলেও মোটামুটি সব জায়গায় জনবসতি রয়েছে । তবে পার্বত্য এলাকায় এবং সুন্দরবন অঞ্চলে জীবিকা সংস্থান কষ্টসাধ্য হওয়ার এদুটি অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব খুবই কম । এসব অঞ্চলে ভালো রাস্তাঘাট আবার রেলসংযোগ উপযুক্ত পরিমাণে না থাকায় জীবিকার সংস্থান ও কষ্টসাধ্য । অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা বনভূমি ও ভূ-প্রকৃতিগত কারনে এ সকল স্থান জনবিরল । 

সমতল নদী অববাহিকা অঞ্চলে উর্বর পলিমাটি দ্বারা সৃষ্টি । এ অঞ্চলের কৃষি আবাদ অনেকটা সহজসাধ্য । ফলে এসব অঞ্চলে ঘনবসতি গড়ে উঠতে দেখা যায় । এসব অঞ্চলের নদীগুলো নাব্য , সড়কপথ ও রেলপথে যোগাযোগের সুযোগ সুবিধা জনজীবনকে আকৃষ্ট করে। তাছাড়া জলবায়ুর প্রভাব এর কারণে ও জনবসতির বন্টন নিয়ন্ত্রিত হয়। চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর চেয়ে সমভাবাপন্ন  জলবায়ুতে মানুষ বসবাস করতে বেশি পছন্দ করে । বাংলাদেশের সব জায়গায় আবহাওয়া প্রায় একই রকম । তবে এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়ার শীত-গ্রীস্ম এর তারতম্য কিছু বেশি উপলব্ধি হয় । কৃষির অনুকূল জলাবায়ু চাষাবাদ এবং শস্য উৎপাদনের সহায়ক বলে সমভূমি মানুষের বসবাসকে আকৃষ্ট করে । বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে খনিজ সম্পদ পাওয়া গেছে সেসব অঞ্চলের জীবিকার সন্ধানে বহু শ্রমিক ও কর্মচারীদের এলাকাটিকে ঘনবসতিপূর্ণ করে তুলেছে । খনিজ সম্পদ, কৃষি সম্পদ ও বনজ সম্পদ এবং বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে জনবসতি গড়ে উঠেছে । এসব স্থানে প্রধান শিল্পের সঙ্গে ক্রমেই বহুপ্রকার আনুষঙ্গিক শিল্প স্থাপিত হয়েছে । তেজগাঁও ,টঙ্গী ,নরসিংদী, খুলনা ও চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে শিল্প শহর গড়ে ওঠায় স্থানগুলোতে জনবসতি ঘন । সড়ক-রেলপথ অথবা নদীপথে উন্নত চলাচলের সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা সহজ হয় । ফলের স্থানটি জনবহুল অঞ্চলে পরিণত হয় । 

শিল্প ও সংস্কৃতি আজকের যুগের মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে । সেসব অঞ্চলে শিক্ষা-দিক্ষা , কৃষ্টি , সংস্কৃতি প্রভৃতির অনুশীলন ও চর্চার সুযোগ বেশি  , সেসব স্থানে জনবসতি স্বাভাবিক কারণেই বেশি হয় । 

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারে জনবসতি বিস্তারের প্রভাব : 

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ । এদেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি । জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জনবসতি ও বৃদ্ধি পাচ্ছে । এদেশে প্রয়োজনের তুলনায় চাষ যোগ্য জমির পরিমাণ অনেক কম । অধিক বসতি বিস্তারের ফলে চাষ যোগ্য জমির পরিমাণ আরও কমে গিয়ে ভূমির উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে । আমাদের দেশে জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি জমির উপর অব্যাহত চাপ পড়ছে । চাপ পড়েছে বাড়ি ঘর নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমির উপর । বস্তুত বাংলাদেশের ইতিমধ্যে গ্রাম এবং শহরের বাসস্থান সমস্যা দেখা দিয়েছে । পক্ষান্তরে কৃষি জমি গুলো উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টিত হতে হতে খন্ড বিখন্ড হয়ে যাচ্ছে । আর এ খন্ডিত জমিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয় না । জনবসতি বৃদ্ধির জন্য বহু আবাদি জমিতে ঘর বাড়ি বানানো হচ্ছে । ৩০ বছর আগে যে পরিবারের জমির পরিমাণ ছিল ১০০ বিঘা তার পরিমাণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১০ বিঘা বা তার চেয়েও কম । ১৯৭৪ সালে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ০.২৮ একর  এবং বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ০.২৫ একর । ভবিষ্যতে এর পরিমাণ আরো হ্রাস পাবে । জনসংখ্যার আধিক্য এবং জনবসতি বিস্তারের প্রয়োজনীতা মানুষ এখন ভূমির স্বাভাবিক প্রকৃতি ও ব্যবহারকে বদলে দিয়েছে । খাল-বিল ভরাট করে , বনজঙ্গল কেটে মানুষ এখন বসতি গড়েছে । এভাবে চলতে থাকলে একসময় প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে । 

বাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ : – 

জলবায়ু বলতে একটি বৃহৎ অঞ্চলব্যাপী আবহাওয়ার উপাদানগুলোর অবস্থান দীর্ঘদিনের গড় অবস্থাকে বুঝায় । মানুষের জীবনে জলবায়ুর প্রভাব বহুমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ । মৌসুমি জলবায়ুর কারণে এ দেশে বছরের বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য ঘটে । বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় , প্লাবিত হয় বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা । এতে অতিবৃষ্টি,  অকাল বন্যা প্রভৃতি দেখা দেয় । জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে দেখা দেয় নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ । 

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের জলবায়ু : 

বাংলাদেশের জলবায়ু : 

 বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ , আদ্র ও সমভাবাপন্ন ।  মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব এখানে এত অধিক যে , সামগ্রিকভাবে এ জলবায়ু “ ক্রান্তীয় মেীসুমি জলবায়ু “ নামে পরিচিত । 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

71 ÷ 71 =