সৌরজগৎ ও ভূমন্ডল

পৃথিবীর চারদিকে অসীম মহাকাশ বিস্তৃত । মহাকাশে রয়েছে নক্ষত্র,  ছায়াপথ,  নীহারিকা,  ধুমকেতু, গ্রহ, উপগ্রহ,  উল্কা  ও  অন্যান্য জ্যোতিষ্ক ।  মহাকাশের এই অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব জগত ।সূর্য বিশ্বজগতের একটি নক্ষত্র । সূর্য এবং এর গ্রহ , উপগ্রহ,  গ্রহাণুপুঞ্জ , অসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে সৌরজগত বা সৌরভ পরিবার গঠিত । সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক হল সূর্য  । গ্রহ ও উপগ্রহসমূহ সূর্য ও নিজেদের পারস্পরিক মহাকর্ষ শক্তির দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথে নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে । বিশ্ব জগতের বিশালতার মধ্যে সৌরজগৎ নিতান্তই ছোট , পৃথিবী আরো ছোট । আয়তনে সৌরজগৎ পৃথিবীর চেয়ে কোটি কোটি গুণ বড় । 

সৌরজগৎ : 

সূর্য এবং এর গ্রহ , উপগ্রহ , গ্রহাণুপুঞ্জ , ধুমকেতু , উল্কা প্রভৃতি নিয়ে যে পরিবার তাকে বলা হয় সৌরজগৎ । সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র হলো সূর্য । সৌরজগতের আটটি গ্রহ , শতাধিক উপগ্রহ , হাজার হাজার গ্রহাণুপুঞ্জ ও লক্ষ লক্ষ ধুমকেতু রয়েছে । 

সূর্য : 

সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক হল সূর্য ।  একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র । পৃথিবীর সঙ্গে সূর্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ । সূর্য পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুন বড় । পৃথিবী থেকে এটি প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার । সূর্যের উপরিভাগের উষ্ণতা ৫৭,০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস । বিরাট দূরত্বের জন্য সূর্যের অতি সামান্য তাপ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় । এ সামান্য তাপ ও আলো দাঁড়াই পৃথিবীর জীব জগতের সকল প্রয়োজন মিটে । অন্যান্য গ্রহ , উপগ্রহগুলোর তাপ ও আলোর উৎস সূর্য । সূর্যের কোন কঠিন বা তরল পদার্থ নেই । শতকরা ৫৫ ভাগ হাইড্রোজেন , ৪৪ ভাগ হিলিয়াম এবং  ১ ভাগ অন্যান্য দেশে সূর্য গঠিত । সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক ( Sun Spot )  বলে । সূর্যের অন্যান্য অংশের চেয়ে সেীরকলংকের উত্তাপ কিছুটা কম থাকে । আণবিক শক্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় সূর্য অনবরত হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম এবং হিলিয়াম থেকে শক্তি তৈরি হচ্ছে । সূর্য প্রায় ২৫ দিনে নিজ অক্ষের( Axis ) উপর একবার আবর্তন করে । সূর্যের আলো ও তাপ সারা পৃথিবীতে উদ্ভিদ , প্রাণী কিছুই জন্মাতো না এবং প্রাণের স্পন্দন সম্ভব হতো না।  

গ্রহ : 

মহাকর্ষ বলের প্রভাবে কতগুলো জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করছে ; এদের গ্রহ বলা হয় । গ্রহের নিজস্ব আলো ও তাপ নেই । সৌরজগতের গ্রহের সংখ্যা ৮ টি । সূর্য থেকে গ্রহগুলোর দূরত্ব অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে অবস্থান করছে- বুধ ( Mercury ) ,শুক্র ( Venus ) , পৃথিবী( Earth ), মঙ্গল (Mars ), বৃহস্পতি ( jupiter ), শনি ( Saturn ), ইউরেনাস (Uranus ) ও নেপচুন ( Neptune) ।  গ্রহ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং সবচেয়ে ছোট বুধ । 

বুধ( Mercury ) : 

বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার এবং ওজন পৃথিবীর ৫০  ভাগের ৩ ভাগের সমান । সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করতে এর ৮৮ দিন সময় লাগে  । সূর্য থেকে বুধের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার । বুধের কোন উপগ্রহ নেই । সূর্যের নিকটতম গ্রহ বলে এর তাপমাত্রা অত্যাধিক । বুধের ভূতত্ত্বকে সমতলভূমি সহ অসংখ্য গর্ত ও পাহাড় লক্ষ করা গেছে । বুধের আয়তন ৭৪,৮০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার । 

শুক্র ( Venus) : 

সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে শুক্রের অবস্থান দ্বিতীয় । এটি পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ । সূর্য থেকে শুক্রের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪.৩ কোটি কিলোমিটার । একে সন্ধায় পশ্চিম আকাশে আমরা সন্ধ্যা তারা রূপে এবং ভরে পূর্ব আকাশে শুকতারা রূপে দেখতে পাই । সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করতে এর সময় লাগে ২৫৫ দিন । শুক্রের কোন উপগ্রহ নেই । পৃথিবীর মতো শুক্রের একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে কিন্তু এতে অক্সিজেন নেই । কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ প্রায় শতকরা ৯৬ ভাগ । শুক্র নিজ অক্ষে খুবই ধীর গতিতে আবর্তন করে । ফলে শুক্রের আকাশে বছরে দুইবার সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত যায় । গ্রহটিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘন মেঘের কারণে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে । শুক্রের পৃষ্ঠে পৃথিবীর তুলনায় ৯০ গুন বেশি বাতাসের চাপ রয়েছে । এর আয়তন ৪৬০,২৩০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এবং ব্যাস ১২১০৪ কিলোমিটার । 

পৃথিবী ( Earth ) : 

পৃথিবী সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম গ্রহ । এর আয়তন ৫১০,১০০,৪২২ বর্গ কিলোমিটার । পূর্ব পশ্চিমের এর ব্যাস ১২,৭৫২ কিলোমিটার এবং উত্তর দক্ষিণ ১২,৭০৯ কিলোমিটার । সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার । পৃথিবী ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে । এই গ্রহে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে । পৃথিবী পৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস । ভূত্বকে প্রয়োজনীয় পানি রয়েছে। গ্রহ গুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবী জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য আদর্শ গ্রহ । চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ । পৃথিবী থেকে চন্দ্রের দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার । এটি ২৯ দিন ১২ ঘন্টায় পৃথিবী কে একবার পরিক্রমণ করে । চাঁদের পৃষ্ঠদেশে গর্ত,পাহাড় ও পর্বত লক্ষ করা গেছে । 

মঙ্গল ( Mars ) : 

সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবীর পরেই মঙ্গলের স্থান । সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার এবং পৃথিবী থেকে ৭.৮ কোটি কিলোমিটার । মঙ্গল গ্রহের ব্যাস ৬,৭৭৯ কিলোমিটার এবং ওজন পৃথিবীর প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ । এর আয়তন ১৪৪,৭৯৮,৫০০ বর্গ কিলোমিটার । সূর্যকে পরিক্রমণ করতে মঙ্গল গ্রহের লাগে ৬৮৭ দিন এবং নিজ অক্ষে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে ২৪ ঘন্টা ৩৭ মিনিট । মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ আছে – ডিমোস ও ফেবোস । এখানে জীবন ধারণ অসম্ভব । বায়ুমন্ডলে শতকরা ৩ ভাগ নাইট্রোজেন ও ২ ভাগ আরগন গ্যাস আছে । পানির পরিমাণ খুবই কম । পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গল অনেক ঠান্ডা , গড় উতাপে হিমাঙ্কের অনেক নিচে । মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি রয়েছে । এক গ্রহের পাথর গুলোতে মরিচা পড়েছে । ফলে গ্রহটি লালচে বর্ণ ধারণ করেছে । 

বৃহস্পতি ( Jupiter ): 

সৌরজগতের সর্ববৃহৎ বৃহস্পতি ।  সূর্য থেকে দূরত্বের ভিত্তিতে বৃহস্পতি গ্রহের অবস্থান পঞ্চম । এর আয়তন পৃথিবীর প্রায় ১,৩০০ গুন তথা ৬১,৪১৯,০০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার । এর ব্যাস ১,৩৯,৮২২ কিলোমিটার । এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরে । বৃহস্পতি ১২ বছরে একবার সূর্যকে এবং ৯ ঘন্টা ৫৩ মিনিটে নিজ অক্ষে আবর্তন করে । গ্রহটিতে পৃথিবীর এক দিনে দুইবার সূর্য উঠে এবং দুইবার অস্ত যায় । এই গ্রহে গভীর বায়ুমণ্ডল আছে । গ্রহটির বায়ুমন্ডলের উপরিভাগের তাপমাত্রা খুবই কম তবে অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অধিক । এর ৬৭ টি উপগ্রহ রয়েছে । এগুলোর মধ্যে লো, ইউরোপা , গ্যানিমেড ও ক্যাপলিস্টো প্রধান । 

গ্রহাণুপুঞ্জ ( Asteroids ): 

মঙ্গল ও বৃহস্পতি মাঝের পরিসরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহাণু একত্রে পুঞ্জীভূত হয়ে পরিক্রমন করছে । এই পরিসরের মধ্যে আর কোন গ্রহ নেই । ১.৬ কিলোমিটার থেকে ৮০৫ কিলোমিটার ব্যাস সম্পূর্ণ গ্রহাণুগুলোকে একত্রিত ভাবে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে । 

শনি ( Saturn ): 

শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ । এর আয়তন ৪২,৭০০,০০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এবং ব্যাস ১১৬,৪৬৪ কিলোমিটার । সূর্য থেকে শনির দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার । শনি ২৯ বছর ৫ মাসে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে এবং ১০ ঘন্টা ৪০ মিনিটে নিজ অক্ষে একবার আবর্তন করে । পৃথিবীর চেয়ে শনির ব্যাস প্রায় ৯ গুন বড় । খালি চোখে এটি দেখা যায়। শনির বায়ুমন্ডলে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম এর মিশ্রণ, মিথেন ও অ্যামোনিয়া গ্যাস রয়েছে। তিনটি উজ্জ্বল বলয় শনিকে বেষ্টন করে আছে। শনির ৬২ টি উপগ্রহের মধ্যে ক্যাপিটাস, টেথিস, হুয়া, টাইটান প্রধান । 

ইউরেনাস (Uranus ) : 

 ইউরেনাস সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ । সূর্য থেকে এর দূরত্ব ২৮৭ কোটি কিলোমিটার । ৮৪ বছরে এটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে । এর গড় ব্যাস প্রায় ৪৯,০০০ কিলোমিটার  । এর আয়তন পৃথিবীর পায় ৬৪ গুন তবে ওজন পৃথিবীর মাত্র ১৫ গুন । গৃহটির আবহমন্ডলের মিথেন গ্যাসের পরিমাণ অধিক । এর ৫টি উপগ্রহ রয়েছে । ইউরেনাসেরও শনির মতো আবিষ্কৃত হয়েছে । মিরিন্ডা , এরিয়েল, ওবেরন, আম্ব্রিয়েল , টাইটানিয়া প্রভৃতি ইউরেনাসের উপগ্রহ । 

নেপচুন ( Neptune ) : 

নেপচুনের গড় ব্যাস ৪৮,৪০০ কিলোমিটার এবং সূর্য থেকে দূরত্ব ৪৫০ কোটি কিলোমিটার । সূর্য হতে অধিক দূরত্বের কারণে গৃহটি শীতল। গৃহটি অনেকটা নীলাভ বর্ণের । নেপচুন ১৬৫ বছরে সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করে । এর উপগ্রহ ২টি-ট্রাইটন ও নেরাইড । 

পৃথিবী গ্রহে জীব বসবাসের কারণ : 

পৃথিবীর চারদিকে নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা বেষ্টিত । অদৃশ্য এই গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবী কে বেষ্টন করে আছে । একে বায়ুমণ্ডল বলে । পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষনে বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ সঙ্গে লেপ্টে আছে । আর পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে । বায়ুর চাপের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠে এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং উপরের দিকে ঘনত্ব খুবই কম । বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের প্রাধান্য রয়েছে । সকল প্রাণীর জন্য অক্সিজেন অত্যাবশ্যকীয় । কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়া অন্যান্য উপাদান বায়ুতে মোটামুটি অপরিবর্তনীয় পরিমাণে থাকে । তবে ধূলা, ধোঁয়া ,জলীয় বাষ্প ইত্যাদি উপাদান বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পরিমাণে থাকে । পৃথিবীর সমস্ত জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমন্ডলের গুরুত্ব অপরিসীম । বায়ুমণ্ডল সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে প্রাণীকূলকে রক্ষা করে এবং এর গ্যাসীয় উপাদান যেমন , কার্বন ডাই অক্সাইড ( CO2 )। এর গভীরতা প্রায় ১৩ কিলোমিটার । এটি মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় স্তর । কেননা , আদ্রতা কুয়াশা , মেঘ, বৃষ্টি ,বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি এই স্থরে লক্ষ করা যায় । উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এ স্তরে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় , বায়ু উপরে নিচে ওঠানামা করে । আবহাওয়া ও জলবায়ু জনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ায় বেশিরভাগ বায়ুমণ্ডলের এ স্তরে ঘটে থাকে । ট্রপোমন্ডলের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপস বলে । ট্রপোপাসের গভীরতা সরু , এখানে বায়ু স্থির এবং ঝড় বৃষ্টির প্রভাব না থাকায় biman’s এ স্তর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করে । বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের একটি স্তর আছে , যা ওজোনস্তর নামে পরিচিতি । এর গভীরতা প্রায় ১২-১৬ কিলোমিটার । সূর্যরাশির অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে এর তাপমাত্রা প্রায় ৭৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস । এ স্তরটি পৃথিবীকে প্রাণী জগতের বাস উপযোগী করেছে । 

পৃথিবী সূর্য থেকে আলো ও তাপ পায় । সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবী অন্ধকার থাকতো । পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দন থাকত না এবং জীবজগৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী কিছুই বাঁচত না । পৃথিবীতে মানুষের কর্মকান্ড বায়ুমণ্ডলের গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।  যেমন. ব্যাপকভাবে গাছপালা কেটে ফেলা , কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং জ্বালানি তেল , কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস বায়ুমন্ডলে দূষিত করে । প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই বায়ুমন্ডলকে বিশুদ্ধ রাখা দরকার । 

জীবজন্তুর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন প্রচুর আলো ,বাতাস ও পানি । পৃথিবী পৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০ ডিগ্রী সেলসিয়াস । ভূতত্ত্বকে রয়েছে প্রয়োজনীয় পানি । সূর্য থেকে যে তাপ ও আলো পৃথিবীতে পৌঁছা ও জীবজন্তুর জন্য সহনীয় । জীব জন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য এগুলো প্রয়োজনীয় ও উপযোগী । এজন্য পৃথিবীতে জীবজন্তু বসবাস করে । 

ভূ-অভ্যন্তরের গঠন : 

পৃথিবী প্রায় একটি গোলকের ন্যায় । এর ব্যাসার্ধ আনুমানিক ৬,৪০০ কিলোমিটার ।ভূপৃষ্ঠের কঠিন বহিরাবরন ভেদ করে ভূ-অভ্যন্তরের এত গভীরে সরাসরি পর্যবেক্ষণের কোনো সুযোগ নেই । ভূ-বিজ্ঞানীরা 

Post Author: showrob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

98 − = 96