ভারত ছাড় আন্দোলন

১৯৪২ সালের ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হওয়ার পর সমগ্র ভারত বেশি তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয় । ভারতীয় রাজনীতিতে নেমে আসে চরম হতাশার ছায়া । যুদ্ধকালীন জাতীয় সরকার গঠনের দাবি সরাসরি ক্রিপস প্রত্যাখ্যান করলে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে ভারতীয় কংগ্রেসের আলোচনা ব্যর্থতার পর্যবসিত হয় । এ সময় গান্ধীজী আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরা জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন । শুরু […]

১৯৪২ সালের ক্রিপস মিশন

মুসলিম লীগ যখন ভারতে মুসলমানদের জন্য পার্থক্য এক  আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার দৃঢ়-সংকল্প এবং কংগ্রেস ভারতকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রত তখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের গতিধারা এক নাটকীয় রূপ পরিগ্রহ হয় । ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর যুদ্ধে জাপানের নাটকীয় প্রবেশ এবং এশিয়াতে একের পর এক দেশ দখল ব্রিটিশ সরকারকে ভীষণভাবে […]

ভারতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব

ইংরেজরা প্রধানত : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভারতে পদার্পণ করেছিল । ধীরে ধীরে ভারতে বণিকদের মানদণ্ড রাজদণ্ড পরিণত হয় । ইংরেজরা প্রায় ২০০ বছর ( ১৭৬৫-১৯৪৭ ) ভারত শাসন করে । এই দুশো বছরের ইংরেজ শাসনের ফলে ভারতের প্রশাসনিক, সামাজিক , অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় । এই পরিবর্তনের ধারা সম্যক উপলব্ধি করতে হলে প্রয়োজন […]

১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন

পটভূমি :  ১৯০৯ সালের মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন প্রণীত হওয়ার এক দশক পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসন সংস্কারের জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা হল ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন । এই আইন রসনার পেছনে ভারতের-সচিব এডউইন মন্টেও এবং বড়লাট চেমসফোর্ডের বড় ভূমিকা ছিল । এজন্য তাদের নাম অনুসারে আইনকে মন্টেগু-চেমসফোর্ড বা ‘মন্ট-ফোর্ড’ আইনও বলা […]

আগস্ট প্রস্তাব

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড লিগালিথগো ভারতীয় নেতাদের সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই ভারত বৃটেনের পক্ষে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে ঘোষণা করেন । লিনলিথগোর এই স্বৈরাচারী আচরণের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হন । গভর্নর জেনারেলের নীতির প্রতিবাদে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির নির্দেশে প্রদেশ থেকে কংগ্রেস মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে । […]

লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০

লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি :  ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে শুধুমাত্র প্রাদেশিক শাসন সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি কার্যকর হয় । এ আইনের ভিত্তিতে ১৯৩৭ সালে প্রদেশের আইনসভা গুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । নির্বাচনে ভারতের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল “ কংগ্রেস” ও “ মুসলিম লীগ “ অংশগ্রহণ করে।  মুসলিম লীগ মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে । কিন্তু […]

কৃষক-প্রজা পার্টি ১৯৩৭ সালের নির্বাচন ও হক মন্ত্রিসভা

শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হকের কর্মজীবন :  বাংলার অন্যতম কৃতিসন্তান শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার সাতুরিয়া গ্রামে তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতা কাজী মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ছিলেন একজন আইনজীবী । বরিশালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন । সেখান থেকে তিনি অতি কৃতিত্বের […]

গোল টেবিল বৈঠক

পটভূমি :  ১৯২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মহাত্মা গান্ধীর সভাপতিত্বে কলকাতা যে অধিবেশন শুরু হয় সে অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ঘোষণা করে যে, ১১৯২৯ সালের ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে হয় সরকার নেহেরু রিপোর্ট পরিপূর্ণ রূপে গ্রহণ করবেন অথবা কংগ্রেস ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করবে।  অন্যদিকে , নেহেরু রিপোর্টের প্রতিবাদস্বরূপ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তার বিখ্যাত “ […]

আইন অমান্য আন্দোলন ( ১৯৩০-১৯৩২ )

আইন অমান্য আন্দোলনের প্রথম পর্ব  ( ১৯৩০-৩২ )  ১৯২২ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের অবসান ঘটে । ১৯২৪ সালে তুর্কি নেতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক খেলাফত ভেঙ্গে দিয়ে তুরস্ককে আধুনিক প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ঘোষণা করেন । এর ফলে ভারতে খেলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে যায় । ভারতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যখন মৃতপ্রায় তখন ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধানের […]

জিন্নার ১৪ দফা

১৯২৮ সালের ১০ আগস্ট নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় । এ রিপোর্ট বিচার-বিবেচনা করার জন্য ১৯২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় এক সর্বদলীয় অধিবেশন আহ্বান করা হয় । এই অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের পক্ষে নেহেরু রিপোর্টের মৌলিক সংশোধনী হিসাবে কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করেন । সংশোধনীগুলো হল : –  ১) কেন্দ্রীয় আইনসভায় ১/৩ আসন […]